'কেল্লার ভেতরে ঢুকতেই মনে হল যেন ইতিহাসের এক অন্যরকম জগতে পা রাখলাম।'
Published : 03 Apr 2025, 05:19 PM
ঈদের আনন্দের সঙ্গে ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়েছিল।
আমি তখন অনেক ছোট। ঈদের দিন পরিবারের সবাই মিলে ঐতিহাসিক কোনো স্থান ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আমরা অনেকদিন ধরেই একটি আনন্দঘন ও শিক্ষামূলক দিন কাটানোর পরিকল্পনা করছিলাম। শেষমেশ ঠিক হল, আমরা যাব একটি পুরোনো দুর্গ দেখতে, যা ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী।
ঈদের সকালে নামাজ পড়ে সকালের খাবার শেষ করেই আমরা রওনা দিলাম। গন্তব্য ছিল ঢাকার লালবাগ কেল্লা। ঈদের দিন হওয়ায় সেখানে অনেক ভিড় ছিল, কিন্তু উৎসাহও ছিল ততটাই বেশি।
কেল্লার ভেতরে ঢুকতেই মনে হল যেন ইতিহাসের এক অন্যরকম জগতে পা রাখলাম। চারপাশে লাল ইটের পুরোনো দেয়াল, উঁচু মিনার আর দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আর প্রতিটি কোণেই লুকিয়ে ছিল ইতিহাসের ছোঁয়া।
একজন গাইড আমাদের সঙ্গে ছিলেন, যিনি কেল্লার নানা অংশের ইতিহাস ব্যাখ্যা করছিলেন। আমরা জানতে পারি, এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৬৭৮ সালে। এটি নির্মাণ করেন, সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছেলে মুঘল সুবেদার মুহাম্মদ আজম শাহ। পরবর্তীতে তিনি নিজেও সম্রাট পদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
দুর্গটি ঘুরে দেখার সময় আমরা অনেক ছবি তুললাম। ইতিহাস নিয়ে আমাদের কৌতূহল বেড়ে গেল অনেক। আমি অনুভব করলাম, ইতিহাস শুধু বইয়ে লেখা কিছু নয়। ইতিহাস চোখে দেখার এবং অনুভব করার মত কিছু।
দেখা শেষে আমরা কেল্লার পাশের একটি রেস্তরাঁয় বসে খাওয়া-দাওয়া করলাম। খেতে খেতেই সবাই বলছিল, এই ঈদ যেন একটু ভিন্ন রকমের হল।
সেই দিনটি আমার ছোটবেলার অন্যতম প্রিয় স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। ঐতিহাসিক স্থানে বেড়াতে গিয়ে আমরা শুধু আনন্দ পাইনি, বরং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও সচেতন হয়েছি। ঈদের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল এক গভীর শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা, যা মনে থাকবে অনেক দিন।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৪। জেলা: ঢাকা।