Published : 23 Oct 2022, 11:39 PM
দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ায় শয্যা সংকট নিয়ে শঙ্কার মধ্যে মশাবাহিত এ রোগের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছে ঢাকার মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল।
রোববার দুপুরে ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষ ওয়ার্ডে ছয় জন এবং নারী ওয়ার্ডে একজন রোগী ভর্তি আছেন।
বাড্ডা থেকে মামুন নামে এক রোগী এসে ভর্তি হন এদিন সকালে। গত বৃহস্পতিবার থেকে জ্বরে ভুগছেন জানিয়ে তিনি বললেন, চিকিৎসকের পরামর্শে এ হাসপাতালে এসেছেন।
“পরীক্ষার পরে দেখি প্লাটিলেট কমে গেছে। চিকিৎসক জানালেন, এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। তখন চলে এসেছি।”
রাজধানীর মহাখালীর বাসিন্দা শামসুল হক তার ছেলে হাসানুল হককে ভর্তি করিয়েছেন ডিএনসিসি হাসপাতাল।
শামসুল হক বলেন, “ডেঙ্গু ধরা পড়ার পর ছেলেকে নিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে সিট খালি না থাকায় ডাক্তার এখানে পাঠিয়েছেন।”
পরিচিত একজনের কাছে এ হাসপাতালের কথা শুনে অসুস্থ স্ত্রীকে ভর্তি করিয়েছেন মহাখালীর সুজন খান।
তিনি বলেন, “আমার স্ত্রীর ডেঙ্গু হওয়ার পর দুই দিন বাসায় রেখেই চিকিৎকসা করাচ্ছিলাম। অবস্থা একটু খারাপ হওয়ায় ডাক্তার বললেন এখানে ভর্তি করাতে।”
রোববার দুপুরে ডিএনসিসি হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যদি বেড়ে যায়, তার প্রস্তুতি হিসেবে এ হাসপাতালে একটা ইউনিট খোলা হয়েছে। রোগী বাড়লে চিকিৎসক-নার্সও বাড়ানো হবে।
“আপাতত অন্যান্য জায়গা থেকে ম্যানপাওয়ার নিয়ে এসে ইউজলেস করে লাভ নাই। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী এখানে লোকবল দেব, যাতে চিকিৎসা প্রপারলি চলে।”
ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, “রোগী আরও বেড়ে গেলে তা স্বাস্থ্য বিভাগকে চাপে ফেলবে। সেজন্য ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।
“আমরা নিরন্তর চেষ্টা করছি জনগণকে সেবা দেওয়ার। কিন্তু ডেঙ্গু রোগী যেন আর বৃদ্ধি না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।”
সেজন্য উৎসস্থলে মশা ধ্বংস করার ওপর জোর দিয়ে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, “আগামী সাত দিন যদি বাড়ির যে কোনো জায়গায়, যে কোনো কিছুতে জমানো পানি ফেলে দিই, তাহলে আমরা এত বড় একটা ঝুঁকিতে পড়ব না।”
পুরানো খবর:
ডেঙ্গু এবার আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে: আতিকুলপুরানো খবর:
ডেঙ্গুতে বছরের প্রথম মৃত্যু, একদিনেই ভর্তি ২৭ জনপুরানো খবর:
হাসপাতালে বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগীপুরানো খবর:
ডেঙ্গু বাড়ায় শয্যা সংকটের শঙ্কা স্বাস্থ্য সচিবেরস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ বছর রোববার পর্যন্ত ৩১ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১৩ জনের।
বর্তমানে ঢাকার সবগুলো সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সবগুলো হাসপাতালেই নির্ধারিত শয্যার বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার গত ১৭ অক্টোবর হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
পরে গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় মহাখালীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হাসপাতাল, বিএসএমএমইউর নতুন হাসপাতাল ইউনিট এবং মিরপুরের লালকুঠি হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে।
এসব হাসপাতালে শুরুতে ১০০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোগী বাড়লে প্রয়োজনে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা যাবে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সব সুবিধা থাকছে এই হাসপাতালে।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ২০২০ সালে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে চালু করা হয় এক হাজার শয্যার আইসোলেশন সেন্টার।
মহাখালীতে সাত দশমিক ১৭ একর জমিতে তৈরি ডিএনসিসির একটি বিপণীবিতানকে এক লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ বর্গফুট আয়তনের হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়।
করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় তখন এটি ছিল দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল কার্যযক্রম। পরে ২০২১ সালের এপ্রিলে এই হাসপাতালকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলে ডিএনসিসি।