Published : 20 Sep 2026, 07:44 PM
দেশে বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ‘প্রায় সবাই টিকাবিহীন’ বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বাদ পড়া এই শিশুদের টিকার আওতায় আনতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী নতুন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে।
‘ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এ কর্মসূচি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশেষ এ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রায় ৪৩ লাখ ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেশে এসেছে। বর্তমানে দেশে মোট ৫৮ লাখ ডোজ টিকার মজুদ রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে টিকা পায়নি বা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এ সময়ে ৬ মাস বয়সে পৌঁছানো এবং টিকা গ্রহণের উপযুক্ত নতুন শিশুদেরও কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।”
হামের ঝুঁকি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অপুষ্টি ও অন্যান্য কারণে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়াসহ গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তবে টিকা নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।
এর আগে এপ্রিলে সারা দেশে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, তখন টিকা কাভারেজ ছিল ১০৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে সে সময় টিকার আওতায় আনা হয়েছিল। কিন্তু হামের প্রকোপ কমেনি। মন্ত্রী এখন বলছেন, এখন যে শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন।
সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় সরকারের ‘সব ধরনের প্রস্তুতি’ রয়েছে এবং হাসপাতালে স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই।
জরুরি পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে মোবাইল হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীও প্রস্তুত রাখার কথা বলেন তিনি।
রোগীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গুর অধিকাংশ চিকিৎসাই উপজেলা পর্যায়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু অনেক রোগী সরাসরি টারশিয়ারি পর্যায়ের (বিশেষায়িত) হাসপাতালে চলে আসায় এসব হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।”
অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আ ন ম বজলুর রশীদ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।