Published : 10 Dec 2025, 07:13 PM
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ হলে তা বৈশ্বিকভাবে প্রভাব রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প এবং অন্যান্য খাতের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, “বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ কীভাবে অবদান রাখছে, গবেষণা করলে তার আরও উদাহরণ বেরিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।
“সে কারণে এটা বলা যৌক্তিক যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগের রয়েছে বৈশ্বিক প্রভাব। সেটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, ওষুধশিল্প, গবেষণা ও উন্নয়ন কিংবা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হোক, আমাদের প্রচেষ্টার আন্তঃরাষ্ট্রীয় তাৎপর্য রয়েছে।”
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ন্যাভিগেটিং দ্য নিউ ল্যান্ডস্কেপ অব গ্লোবাল হেল্থ: স্ট্র্যাটেজিস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দেশীয় চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিশ্বব্যাপী অবদান রাখার ক্ষেত্রে সক্ষমতার প্রকাশ বাংলাদেশ ঘটিয়েছে। সে কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় আবশ্যকীয় অংশ হওয়ার যোগ্য এবং সেটার স্বীকৃতি অবশ্যই দেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের আন্তঃরাষ্ট্রীয় অবদানের কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের ওষুধশিল্প বর্তমানে স্থানীয় চাহিদার ৯৯ শতাংশই পূরণ করছে। পাশাপাশি ১৫০টি দেশে সুলভমূল্যে ওষুধ সরবরাহ করছে, যা ভূমিকা রাখছে ওই দেশগুলোর স্বাস্থ্য খাতকে কম খরুচে করার ক্ষেত্রে।
“আমরা যদি টিকা তৈরি, থেরাপিউটিকস এবং ডায়াগনস্টিকসের ক্ষেত্রে কৌশলগত অংশীদারত্বকে লালন করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে।”
ঢাকার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষণার পাশাপাশি পুরো উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বাস্থ্য খাতে ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তৌহিদ হোসেন বলেন, দেশে উদ্ভাবিত খাবার স্যালাইনের মতো বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের কলেরার মুখে খাওয়ার টিকাও বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বক্তব্য দেন।