১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকার সরকারি হাসপাতালের ৬৮% টয়লেট ব্যবহারযোগ্য, আইসিডিডিআর,বির গবেষণা

সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতি একটি টয়লেটের বিপরীতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২১৪ জন এবং বেসরকারিতে ৯৪ জন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 12:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:45 AM

ঢাকার সরকারি হাসপাতালের টয়লেটগুলোর মধ্যে ৬৮ শতাংশ ব্যবহার উপযোগী, আবার এসব টয়লেটের মাত্র ৩৩ শতাংশ পরিচ্ছন্ন। 

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালের ৯২ শতাংশ টয়লেট ব্যবহার করা গেলেও পরিচ্ছন্ন টয়লেট এর ৫৬ শতাংশ।

ঢাকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় স্বাস্থ্যসম্মত ও ব্যবহার উপযোগী টয়লেট নিয়ে এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। 

সম্প্রতি ঢাকার ১২টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের টয়লেট পরিস্থিতি নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই গবেষণা পরিচালনা করে আইসিডিডিআর,বি। 

গবেষণাটি সম্প্রতি প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, গবেষণায় ২ হাজার ৪৫৯টি টয়লেট পর্যবেক্ষণ করে ঢাকার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে টয়লেট ব্যবহারের সুবিধা, ব্যবহার উপযোগিতা এবং পরিচ্ছন্নতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে টয়লেটের অনুপাতে ব্যবহারকারী বেশি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতি একটি টয়লেটের বিপরীতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২১৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে টয়লেট প্রতি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯৪ জন।

এই অনুপাত ওয়াটার এইড প্রস্তাবিত আদর্শমানের তুলনায় কম। হাসপাতালের বহির্বিভাগে টয়লেট নির্মাণের ক্ষেত্রে ওয়াটার এইডের দেওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি ২০-২৫ জন রোগী বা পরিচর্যাকারীর জন্য প্রথম ১০০ জনের ক্ষেত্রে একটি করে টয়লেট এবং অতিরিক্ত প্রতি ৫০ জন রোগী বা পরিচর্যাকারীর জন্য একটি অতিরিক্ত টয়লেট থাকতে হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে প্রতিটি টয়লেটের বিপরীতে ব্যবহারকারী ১৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে এই সংখ্যা ১৯ জন। 

আইসিডিডিআর,বির সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. মো. নুহু আমিন বলেন, গবেষণায় ঢাকার হাসপাতালগুলোর টয়লেটের পরিস্থিতি তারা দেখেছেন, প্রকৃত অবস্থা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি খারাপ হতে পারে। 

“কারণ, আমরা গবেষণাটি করেছিলাম কোভিড-১৯ মহামারির ঠিক পরে। তখন অনেক হাসপাতাল কোভিড রোগীদের চিকিৎসা থেকে সাধারণ চিকিৎসা সেবার দিকে মনোনিবেশ করেছে। এর ফলে তখন রোগীর প্রবাহ এবং টয়লেট ব্যবহার কমে যেতে পারে।”

ডা. নুহু আমিন বলেন, “হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন ও কার্যক্ষম টয়লেট বজায় রাখার জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে, লিঙ্গভিত্তিক প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।”