২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

গানের দুনিয়ায় ‘কিং অব পপ’

তার চলে যাওয়ায় খবর মানতে নারাজ ছিলেন বিশ্বের বহু মানুষ। ভক্ত-অনুরাগীদের বিস্ময়মাখা প্রশ্ন ছিল, সত্যি কি মাইকেল জ্যাকসনকে মৃত্যু ছুঁতে পারে? জ্যাকসন যুগের অবসান কি আদৌ সম্ভব? মৃত্যুর ১৪ বছর পরেও জ্যাকসনের মাথার হ্যাট উঠছে নিলামে। তার মৃত্যু দিবসে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য ছবি আর সংবাদমাধ্যমের নানা খবর জানান দেয় ‘কিং অব পপ’ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন ঠিকই, কিন্তু প্রস্থান হয়নি তার। মৃত্যুবার্ষিকীতে ছবিতে ছবিতে সংগীতের এই মহাতারকাকে নিয়ে এই আয়োজন।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jun 2023, 01:20 AM

Updated : 25 Jun 2023, 09:21 AM

Image

জ্যাকসনের গানের শুরু ৫ বছর বয়সে। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জ্যাকসনের নাম ওঠে ৩৯ বার, তিনি ১৩ বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেন। এছাড়া ২৬টি আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড তার ঝুলিতে জমা হয়। দুনিয়াজুড়ে দেদারসে বিক্রি হয়ে তার গানের লাখ লাখ ক্যাসেট, সিডি। জ্যাকসন কেবল গানের তারকা ছিলেন না। গীতিকার, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেতা হিসেবেও প্রতিভাধর ছিলেন তিনি। সব ছাপিয়ে বলা যায়, জ্যাকসন বদলে দিয়েছিলেন গানের দুনিয়া।

Image

১৯৫৮ সালের ২৯ অগাস্ট আফ্রিকান-আমেরিকান একটি পরিবারে জন্ম জ্যাকসনের। জ্যাকসনের ডাকনাম ছিল ওয়াকো জ্যাকো। কিন্তু নামটি খুবই অপছন্দ করতেন তিনি। ১০ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম জ্যাকসনকে তার বাবা জোর করে পিয়ানো বাজাতে বসাতেন, করাতেন গানের চর্চা। আর জ্যাকসনের ভালো লাগত বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতে, ভাইবোনদের সঙ্গে দুরন্তপনা করতে। ছেলেবেলায় জ্যাকসনের প্রিয় ছিল দুটি বই। ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ এবং ‘রিপ ভ্যান উইঙ্কেল’। ‘বইপোকা’ জ্যাকসনের একবার মনে ধরে যায় লাস ভেগাসের একটি বইয়ের দোকান, তাই সেটি কিনেও নিয়েছিলেন এই শিল্পী।

Image

জ্যাকসন ১৯৬৩ সাল থেকে পেশাদার শিল্পী হিসেবে ‘জ্যাকসন ফাইভ’ নামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে গান গাইতে শুরু করেন। আর একক শিল্পী হিসেবে ১৯৭১ সালে। আশির দশকে তার জনপ্রিয়তা পৌঁছায় তুঙ্গে। তাকে বলা হত সর্বপ্রথম কৃষ্ণাঙ্গ তারকা, যিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন। জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও জ্যাকসনের গানের অ্যালবাম বিক্রির জোয়ার ছিল। বিশেষ করে তার একক ষষ্ঠ অ্যালবাম ‘থ্রিলার’ বিশ্বজুড়ে ১০০ মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়ে গড়ে তোলে ইতিহাস। আর তখন থেকেই তাকে ডাকা হয় ‘কিং অব পপ’ নামে।  এছাড়া জ্যাকসনের মৃত্যুর বছরে ২০০৯ সালে তার অ্যালবাম যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি হয়। এমনকি পরের বছরও তার অ্যালবাম দুনিয়াজুড়ে বিক্রি হয়ে আয় করে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

Image

চল্লিশ বছর আগে ‘বিলি জিন’ কনসার্ট করে তুমুল খ্যাতি কুড়ান জ্যাকসন। সেই খ্যাতি কেবল গানের জন্য নয়, ‘মুনওয়াক ডান্স’ করে দর্শক মাতিয়ে তোলেন তিনি। পরে জ্যাকসনের ‘আইকনিক ডান্সে’ পরিণত হয় ‘মুনওয়াক’। এই নাচের বৈশিষ্ট্য হল, নাচে সামনে হাঁটার ভঙ্গি করলেও শিল্পী চলে যান পেছনের দিকে। এই নাচের জন্য বিশেষ জুতা ব্যবহার করতেন জ্যাকসন। যে জুতার নকশাও তিনি নিজে করেছিলেন।

Image

কেবল অ্যালবাম বা কনসার্ট নয়,  ১৪ মিনিটের মিউজিক ভিডিও ‘থ্রিলার’ বানিয়ে জ্যাকসন তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আশির দশকে বানানো  ওই ভিডিও তৈরি করতে খরচ হয়েছিল তখনকার সময়ের পাঁচ কোটি ডলার। নাচে খ্যাতি কুড়ানো জ্যাকসন তার বিশেষ কায়দার নানা ধরনের নাচ শিখতে যেয়ে একবার নাক ভেঙেছিলেন। অস্ত্রোপচার করে নাক ঠিক করতে হয়েছিল এই গায়ককে। এছাড়া কারাতেতেও দারুণ পারদর্শী জ্যাকসন ১৯৯০ সালে জাপান থেকে পেয়েছিলেন ‘ব্ল্যাকবেল্ট’।

Image

১৯৯২ সালে জ্যাকসনের ‘দ্য ডেনজারাস ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ চলেছিল পাঁচ মাস ধরে। ওই মাসগুলোয় জ্যাকসন ৬০টি কনসার্ট করেন।মৃত্যুর আগেও তার পরিকল্পনা ছিল গান নিয়ে বিশ্বসফরে বের হবেন। সেইমত পরিকল্পনাও সেরেছিলেন তিনি।

Image

জ্যাকসনের জীবদ্দশায় কোভিডের আগ্রাসন না থাকলেও মুখে মাস্ক পরতেন তিনি। প্রায়ই সাদা আর রুপালি রঙের সার্টিন কাপড়ের মাস্ক পরা অবস্থায়ও দেখা গেছে জ্যাকসনকে। আর তা নিয়ে লোকের টিপ্পনী আর হাসাহাসিও কম শুনতে হয়নি। স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকেই নাকি মাস্ক পরতেন ‘কিং অব পপ’।

Image

মাইকেল জ্যাকসন ছেলেবেলায় মনে মনে ভাবতেন বড় হয়ে ‘স্পাইডারম্যান’ হবেন। সেই কল্পনা সত্যি করতে নব্বইয়ের দশকে তিনি মার্ভেল কমিকসের স্বত্ব কিনতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই ইচ্ছের বাস্তবায়ন হয়নি।

Image

দুবার বিয়ে করেন জ্যাকসন। তার প্রথম স্ত্রী লিসা মেরি প্রিসলি, যিনি রক কিংবদন্তি এলভিস প্রিসলির মেয়ে। মেরি প্রিসলির সঙ্গে ১৯৯৪ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত সংসার করেন তিনি। দ্বিতীয় স্ত্রী ডিবি রোর সঙ্গে জ্যাকসন সংসার করেন ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। এই তারকার তিন সন্তান। তাদের জ্যাকসন  সাংকেতিক নামে ডাকতেন। এমনকি একসঙ্গে বাইরে বের হলে ছেলেমেয়েদের মুখোশ পরিয়ে রাখতেন। এছাড়া একাকী থাকতে পছন্দ করা জ্যাকসন বাড়িতে বা বাইরে সহজে কারোর সঙ্গে দেখা করতেন না।

Image

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জ্যাকসন গান ছাড়াও সামাজিক কাজে অর্থব্যয়ে ছিলেন উদারহস্ত। নিজের অর্থায়নে লিউকেমিয়া ও ক্যানসার ইনস্টিটিউট স্থাপন করেন। শিশু ও দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্যয়ে কোটি কোটি ডলার দান করে গেছেন। এ জন্য ১৯৯৮ ও ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন জ্যাকসন।

Image

বেঁচে থাকতে তো বটেই মৃত্যুর পরও গুঞ্জন পিছু ছাড়েনি পপ তারকার।  শুরুতে জানানো হয়েছিল জ্যাকসনের মৃত্যু ঘটেছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। এরপর খবর আসে 'ডেমারোল' নামের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন নেওয়ার কারণেই জ্যাকসনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তখন প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি মাইকেল আত্মহত্যা করেছেন?