চলে গেলেন ‘ভুবন সোম’ খ্যাত অভিনেতা-নির্মাতা সাধু মেহের

১৯৬৯ সালে মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ এর হাত ধরে হিন্দি ছবির জগতে পথচলা শুরু তার। যদিও দর্শক তাকে সবচেয়ে বেশি চিনেছে ‘অঙ্কুর’ ছবির সুবাদে।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Feb 2024, 09:47 AM
Updated : 3 Feb 2024, 09:47 AM

খারাপ খবর যেন পিছু ছাড়ছে না ভারতীয় বিনোদন জগতের। অসুস্থ, মৃত্যুর গুজব- কিছু বাদ যাচ্ছে না। এমন সময়েই চলে গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা-পরিচালক সাধু মেহের।

হিন্দি ও ওড়িয়া চলচ্চিত্রের এই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব শুক্রবার মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

মৃণাল সেন, তপন সিনহা, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, সন্দীপ রায়ের মতো বাঙালি পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন সাধু মেহের। তাই বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতেও তার উপস্থিতি ছিল উজ্জ্বল।

১৯৬৯ সালে মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ এর হাত ধরে হিন্দি ছবির জগতে পথচলা শুরু তার। যদিও দর্শক তাকে সবচেয়ে বেশি চিনেছে ‘অঙ্কুর’ ছবির সুবাদে। শ্যাম বেনেগালের এই ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন সাধু মেহের। ছবিতে সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন শাবানা আজমিকে।

ওড়িশার প্রথম শিল্পী হিসেবে জাতীয় সম্মানও পেয়েছিলেন তিনি। তার কেরিয়ারের অন্যতম মালইস্টোন ‘মৃগয়া’। এছাড়াও ‘২৭ ডাউন’, ‘মন্থন’, ‘ইনকার’ এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে অন্যধারার ছবির পরিচিত মুখ ছিলেন সাধু মেহের। পরবর্তীতে ওড়িয়া ছবিতে জোর দেন। ১৯৮৯ সালে সম্বলপুরি ভাষায় তৈরি সব্যসাচী মহাপাত্রর ছবি ‘ভুখা’র জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন সাধু মেহের।

দূরদর্শনের জনপ্রিয় টেলি-সিরিজ ‘ব্যোমকেশ বক্সী’র একাধিক এপর্বে দেখা মিলেছিল সাধুর, এছাড়াও পরবর্তী সময়ে অনিল কাপুর-ঐশ্বর্য রাই অভিনীত ‘হাম আপকে দিল মেয় রহতে হ্যায়’ ছবিতে দেখা মিলেছিল সাধু মেহেরের।

তার হাত ধরেই ওড়িয়া ভাষার প্রথম সাই-ফাই ছবি তৈরি হয়, বাবুলা (১৯৮৫)।

পরিচালক সাধু মেহের তৈরি করেছেন অভিমান, অপরিচত, অভিলাষা এর মতো অজস্র জনপ্রিয় ওড়িয়া ছবি। ২০১১ সালে ওড়িশা সরকার তাকে জয়দেব সম্মান ভূষিত করে, পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ভারত সরকারের তরফে দেশের চতুর্থ সর্ব্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মশ্রী তুলে দেওয়া হয় সাধুর হাতে।