কলকাতায় ফিরে ঢাকা নিয়ে কবীর সুমনের যে উপলব্ধি
“জীবনে প্রথম মনে হলো, এঁদের শোনানোর জন্যই আমায় এখনও আরও রেয়াজ করতে হবে, শিখতে হবে, সৃষ্টি করতে হবে .. “
নিজের আবাস কলকাতায় ফিরে ঢাকার দর্শক-শ্রোতাদের নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন কবীর সুমন।
বাংলাদেশিদের প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি বলেছেন, তাদের জন্যই তিনি গান গাওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন অনুভব করছেন।
ভারতের বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী কবীর সুমন এই অক্টোবরে তিন দিন ঢাকায় গানের অনুষ্ঠানে গেয়ে কলকাতায় ফিরেছেন।
মঙ্গলবার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশ ছেড়ে এসে আমার হৃদয় আমায় বলে দিচ্ছে আমার গান, আমার গানের সুর তাল ছন্দ লয় লিরিক গায়কি, আমার কীবোর্ডস বাজানোর দেশ আসলে বাংলাদেশ। সেখানেই আমি এই চলতি তিয়াত্তরে আমার শ্রোতাদের খুঁজে পেয়েছি।
“তাঁরা আমার ধর্ম, আমার ধর্মান্তরিত ধর্ম, আমার রাজনৈতিক মতবাদের রঙ, আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহী নন। তাঁরা আমার গানবাজনা শুনতে আগ্রহী। জীবনে প্রথম দেখলাম নানান বয়সের মানুষ দুলে দুলে আমার গান শুনছেন - একটি কথা নেই, কোথাও কোনও ফোন বেজে উঠছে না।”
৭৩ বছর বয়সী সুমন এবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে খেয়াল পরিবেশন করেন, বাকি দুদিন গেয়ে শোনান আধুনিক গান। অসুস্থতার কারণে তিনি এবার গিটার বাজাতে পারেননি।
সুমন লিখেছেন, “জীবনে প্রথম মনে হলো, এঁদের শোনানোর জন্যই আমায় এখনও আরও রেয়াজ করতে হবে, শিখতে হবে, সৃষ্টি করতে হবে, শরীর ও কণ্ঠ ঠিক রাখতে হবে, কীবোর্ডসে দখল আরও বাড়াতে হবে, গান গাওয়ার ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।”
আবার বাংলাদেশে গিয়েও কলকাতার টান অনুভব করার কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “কলকাতায় যে অল্প কজন আমায় বাঁচিয়ে রাখেন, তাঁদের অভাব অনুভব করেছি ১৩ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর।”
ঢাকায় এবা্র তিন দিনের পরিবেশনা শেষ করে বাংলাদেশের শিল্পী আসিফ আকবরের সঙ্গে ডুয়েট গানও রেকর্ড করেন সুমন।
এই গানের রেকর্ডিংয়ের একটি ভিডিও মঙ্গলবার ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন মনীষা দাসগুপ্ত। সেই লিংকটি নিজের ফেইসবুক ওয়ালে শেয়ার করে কবীর সুমন লিখেছেন, “আসিফ চলছে একান্নোয় কবীর চলছে তিয়াত্তোর’- এই গানটি আমি বেঁধেছিলাম ঢাকা যাত্রার তিন দিন আগে। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম আসিফ আকবরকে। গানের সঙ্গীতায়োজন কেমন হবে তাও বলে দিয়েছিলাম। ঢাকার সঙ্গীতশিল্পী উজ্জ্বল সিনহাকে আসিফ সঙ্গীতায়োজনের দায়িত্ব দেন। ২৩ অক্টোবর আসিফ আর আমি ঢাকার একটি স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড করি। মণীষা সঙ্গে ছিলেন। তিনি ভিডিওটি করেন।”
