২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকায় গানের সঙ্গে সুমনের কথামালা

তিন দিন গান গেয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মোহাবিষ্ট করে গেলেন কবীর সুমন।

ঢাকায় গানের সঙ্গে সুমনের কথামালা

ঢাকার রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘সুমনের গান’ অনুষ্ঠানে কবীর সুমন গানের মাঝে মাঝে গল্পে, হাসিতে মাতিয়ে রাখেন শ্রোতা দর্শকদের।

পাভেল রহমান পাভেল রহমান

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Oct 2022, 12:25 PM

Updated : 22 Oct 2022, 12:25 PM

১৩ বছর পর ঢাকার মঞ্চে গাইলেন কবীর সুমন। এক সপ্তাহের সফরে তিন দিন (১৫, ১৮ ও ২১ অক্টোবর) আধুনিক বাংলা গান এবং বাংলা খেয়াল শুনিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। 

অসুস্থতার জন্য গিটার বাজাতে পারেন না আগের মতো, তবে কি বোর্ড বাজিয়েই গান শুনিয়ে গেছেন তিনি। স্বভাবসুলভভাবেই গানের ফাঁকে নানা কথায় ভক্তদের মাতিয়ে গেছেন; অনুষ্ঠানে যেমন বলেছেন, তার বাইরে ভিডিও বার্তায়ও।

ঢাকার শ্রোতাদের যে আলাদা চোখে দেখেন, সেটাও বলে গেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় এই শিল্পী। বলে গেছেন, গান শোনাতে আবারও আসতে চান বাংলাদেশে।

ঢাকার আসার আগেই এক ভিডিও বার্তায় সুমন বলেন, “এক আশ্চর্য বিষয় গুরুদেবের কৃপা- এখনও আমার গান লোকে শুনতে চায়। এখনও গলাটা ভালো আছে। কতদিন গাইতে পারব, তো জানি না। আমার ৭৩ বছর চলছে। আর বেশি দিন তো নেই। আরও অনেক বছরও যদি বাঁচি, এই গলাটা তো আর থাকবে না। সুর তো থাকবে না। তাই যতদিন আছি, সকলে যদি শোনেন আমার খুব ভালো লাগবে।”

নিজের গানকে প্রকাশের জন্য ‘জীবনমুখী গান’ তকমা নেননি কবীর সুমন। বলেছেন, “আমি কখনোই জীবনমুখী বা মরণমুখী গান করিনি। নব্বইয়ের দশকে যখন আমারও অ্যালবাম বের হয়, তখন আরেকজন বিশিষ্ট শিল্পীর অ্যালবাম বেরিয়েছিল। তার সেই অ্যালবামে লেখা ছিল ‘জীবনমুখী বাংলা গান’। এরপর এই জীবনমুখী বিষয়টি সামনে আসে। দিব্যি করে বলছি, আমি কখনো জীবনমুখী, চন্দ্রমুখী, মরণমুখী গান করিনি। এর মধ্যে আমি নেই। আধুনিক বাংলা গান, এটাই যথেষ্ট।”

নবীনদের উদ্দেশে সুমন বলেন, “আমি ১৮ বছর বয়সে ১৯৬৭ সালে আকাশবাণী কলকাতায় আধুনিক রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতি গাইতে শুরু করি। সেখানে অডিশনে আমি রবীন্দ্রসংগীতে ‌‌‘বি হাই’ গ্রেড পেয়েছিলাম। নজরুলে আমি মোটেও ভালো গাইনি। তাই ‘বি’ গ্রেড পেয়েছিলাম। এখানে গ্রেডগুলো হলো ‘এ, বি-হাই, ও বি’। ‘সি’ গ্রেড বলাটা খারাপ দেখায়, তাই বলা হয় ‘বি’। আমি ফেল্টুস, তবুও লোকে আমার গান শুনছে।

“নবীনদের বলবো, তারা যেন তাদের জীবনে একটা স্থির লক্ষ্যের দিকে এগোয়। যে কোনো বিষয়ে এমন অবস্থান তৈরি করবে, যেন তোমাকে ফেলে দিতে না পারে। আমি লেখাপড়ায় খুব খারাপ ছিলাম। আমি এমন ফেল করতাম যে ফেল করার ইতিহাসে আমি সবার উপরে। মা-বাবা এ-স্কুল, ও-স্কুল করতেন। এককালের ফেল্টুসের গানও লোকে শুনছে। তোমরাও ভালো করবে।”

Image

ঢাকায় ‘সুমনের গান’ আয়োজনের প্রথম দিন রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গাইছেন ভারতের বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী কবীর সুমন।

নবীনদের আগ্রহ দেখে ভালো লাগার কথা জানিয়ে সুমন বলেন, “নবীনদের আগ্রহ দেখে ভীষণ মুগ্ধ হয়েছি। এখানে আসার আগে অনুষ্ঠানটি নিয়ে আয়োজক আরিফকে বলছিলাম, টিকিটপত্রের কী খবর? লোকে টিকিট কিনছে তো? আরিফ বললো, ‘আপনি বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না। নবীনদের মধ্যে খুবই উৎসাহ।’ শুনে আমি অবাক হই। জীবন তো থেমে থাকেনি। আমি অনেক গান তৈরি করে যাচ্ছি। এই যে নবীনরা ৭৩-এর বুড়োর গান শুনছে। এটা ভীষণ ভালো লাগে।

“এখন গিটার বাজিয়ে গাইতে পারি না। আগে গিটার বাজাতাম, এখন পারি না অসুস্থতার কারণে। তবে কি-বোর্ডে এখনো আঙুল চালাতে পারি। তাই কি-বোর্ড বাজিয়েই গান শুনিয়ে যাব। যতদিন বাঁচি গান শুনিয়ে যাব।”

১৫ ও ১৮ অক্টোবর আধুনিক বাংলা গানের দুই দিনের পরিবেশনায় সুমন বাংলাদেশের কবি শহীদ কাদরী নিয়ে বলেন, “শহীদ কাদরী আমার বন্ধু, ছিলেন বলছি না। কারণ এখনো বন্ধু। শহীদ কাদরীর 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কবিতা থেকে আমি গান করেছি। সেই গানটি করতে গিয়ে তার অনুমতি নিয়েই কবিতার শব্দ কিছু সংযোজন-বিয়োজন করেছি। ও লিখেছিল মার্চপাস্ট, আমি গানে ব্যবহার করেছি কুচকাওয়াজ। একবার গানটা শহীদ কাদরীকে শোনাতে পেরেছিলাম। আমার বিশ্বাস এখনো সে আমার গান শুনে। আপনারা কবিতা পড়বেন। কবিতা পড়লে, তখন কবিতা পড়ার একটা বদ-অভ্যাস হয়ে যায়।”

নিজের শারীরিক অক্ষমতার কথা জানিয়ে সুমন বলেন, “আগে গিটার বাজিয়ে গান করতাম। একটা রোগের আক্রমণে হাতের আঙুলে সমস্যা দেখা দিল। গিটার বাজিয়ে গান করতে পারি না। তবে আপনাদের ভয় নেই। কি বোর্ড বাজিয়ে গাইতে পারব।”

কবীর সুমন মানেই গানের সাথে যেন কথার মায়াজাল। একের পর এক গান আর কথামালায় ঢাকার বুকে ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে গেলেন তিনি। বললেন, “আমি আরেকবার বাংলাদেশে আসতে চাই। সেই অনুষ্ঠানে বলতে চাই, কোন গানগুলো কোন সুরগুলো আমার পুষ্ট করলো। সেই স্মৃতির কথা বলবো। আমি আরেকবার বাংলাদেশে আসবো। তবে সেবার কোনো টাকা নেব না। দায় থেকে গাইব। গান শোনানোর দায়।"

এবার ঢাকায় আসার আগেই আয়োজকদের শর্ত দিয়েছিলেন অনুষ্ঠানে খেয়ালের বিশেষ পর্ব রাখতে হবে। আর খেয়াল শোনাতে এসে দর্শকদের আগ্রহ দেখে উচ্ছ্বসিত সুমন বলেন, “বিশ্বাস করুন এই জন্যই বেঁচে ছিলাম আমি।

“আমি বুড়ো হয়েছি; কিন্তু বড় হইনি। বড় হলে কেউ পাঁচবার বিয়ে করে? মানুষ একবার দুইবার করে। তাই বলে পাঁচবার? কতটা আহম্মক আমি, প্রেমে পড়ছি তো পড়ছিই। প্রেমে পড়ছি ঠিক আছে, তাই বলে বিয়ে করতে হবে? করছি তো করছি। প্রতিনিয়ত প্রেমে পড়ছি। আরও পড়বো। সুন্দরী মেয়েদের খুব ভাল লাগে। ভাগ‍্যিস পরমেশ্বর সুন্দরী মেয়েদের সৃষ্টি করেছিলেন। তাই আমার বাঁচার ইচ্ছাটা এখনও মরে যায়নি। তা ছাড়া বাইরের দিকে তাকালে এখনও দেখি পায়রা উড়ছে, কাক ডাকছে, চড়ুই লাফালাফি করছে। এ জন‍্যই বেঁচে আছি। আর বেঁচে আছি বাংলা খেয়ালের জন্য।”

Image

ঢাকার রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে খেয়াল শোনানোর পাশাপাশি গল্পে, হাসিতে মাতিয়ে রাখেন শ্রোতা-দর্শকদের।

১৮ অক্টোবর ঢাকার মঞ্চে প্রথমবার বাংলা খেয়াল শোনানোর ফাঁকে কথায়-আলাপে স্মরণ করেন সত্যকিঙ্কর বন্দোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের প্রয়াত সঙ্গীতগুরু আজাদ রহমানকে। সুমন বলেন, “সত্যকিঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের পর আজাদ রহমান একের পর এক বাংলা খেয়ালের বন্দিশ রচনা করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমানের সাথে আমার আলাপ হলো না। তার মৃত্যুর পর আজাদ রহমানকে নিয়ে রাগ তৈরি করেছি।”

পরে গেয়ে শোনান রাগ ‘আজাদ’, যার কথা ‘অস্তাচলে শেষটাই/ যার শুরু পূর্ব রাগে/ সাগর পেরিয়ে তার পাওয়া/ সারা সাত জাগে’। সুমন যখন মঞ্চে খেয়াল পরিবেশন করছিলেন, তখন তার পাশেই দুটি ব্যানার দেখা যায়। যার একটি ছিল সত্যকিঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের এবং অন্যটি আজাদ রহমানের।

ধ্রুপদী সঙ্গীত মানুষের কাছে যায়নি মন্তব্য করে সুমন বলেন, “এখানে যারা আছেন, তারা কতজন মঞ্চ বসে খেয়াল শুনেছেন? একটু হাত তুলুন।”

কিছু সংখ্যক দর্শক হাত তোলার পর সুমন বললেন, “আমি নিজেও অনেক দিন খেয়াল শুনতে যাইনি। কারণ খেয়াল সম্পর্কে একটা ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আনন্দ নিয়ে গাইতে হবে। শুনতে হবে।”

বাংলা খেয়াল শোনার জন্য বাঙালি হওয়ার প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে সুমন বলেন, “বাংলা ভাষা যারা বোঝেন তাদেরই জন্য বাংলা খেয়াল। খেয়াল সম্পর্কে একটা ভয় কাজ করে লোকের মধ্যে। বিশেষ করে যারা ক্লাসিক্যাল মিউজিকের লোক, তারা কথায় কথায় বলে কী বোঝ? শুনবে যে, কী জান? কী বোঝ? এই বলে তারা মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়। যারা বাংলায় এসব বলেন তাদের যদি উল্টো করে বলা হয়, আপনি বাংলায় কথা বলছেন বোঝাতে পারবেন, এগুলো কী? বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে? বোঝাতে পারবেন? কাজেই বোঝাবুঝির কী আছে? শুনতে যদি ভালো লাগে, তাতেই ভালো।”

নিজের খেয়াল চর্চার বিষয়ে বলেন, “আমার মনে হয়েছে, মাতৃভাষায় খেয়াল আমাকে গাইতেই হবে। কিছুটা করতে পারছি। আমার বন্ধু আছেন আকাশবাণী কলকাতার ডিরেক্টর। তিনি আমার খেয়াল স্বরলিপি করে রাখছেন। দুটি বই আমার বের হয়েছে। বাংলা খেয়ালের (বন্দিশ) সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। আমার জীবনের সেরা কাজ হলো বাংলা খেয়াল।”

নিজের খেয়াল চর্চার ইতিবৃত্ত তুলে ধরে সুমন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি খেয়াল শিখেছিলাম নানান হিন্দুস্তানি ভাষায়। পাঞ্জাবের দুটি ভাষা, পাঞ্জাবি ও মুলতানি এতেও খেয়াল রচিত হয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমি চেষ্টা করে চলেছি আমার মাতৃভাষায় খেয়ালের বন্দিশ বা খেয়াল রচনা করতে এবং পূর্ণাঙ্গ খেয়াল গাইতে।”

বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করে সুমন বলেন, “বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। তাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ 'বাংলা খেয়াল' এর পাশে থাকবেন। আমাকে যদি প্রয়োজন হয়, ডাকলেই আমি সবসময় থাকব। আমার খুব আশা, বাংলাদেশ সরকার বাংলা খেয়াল নিয়ে কিছু করবে। যদি বাংলাদেশ সরকার কিছু করে, তবে আমার খুব আনন্দ হবে। এই আনন্দ নিয়ে মরতে দিন বুড়োটাকে।”

Image

ঢাকায় ‘সুমনের গান’ আয়োজনের প্রথম দিন রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গাইছেন ভারতের বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী কবীর সুমন।

পশ্চিমবঙ্গে বাংলা খেয়াল’র দীর্ঘমেয়াদী পাঠক্রম চালু হয়েছে জানিয়ে সুমন বলেন, “আমার খুব আনন্দ হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বাংলা খেয়াল পাঠক্রম চলছে। সরকারিভাবে বাংলা খেয়ালকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।”

পশ্চিমবঙ্গের চেয়েও বাংলাদেশের মানুষ তার গান বেশি শুনেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তার কারণটা আমি জানি না।”

খেয়াল শুনতে কিংবা গাইতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে কবীর সুমন বলেন, “ড্রাম বাজান, ঢোল বাজান। দেখুন, শুধু সঙ্গীতটা যেন থাকে।”

নবীন শিল্পীদের উদ্দেশে সুমন বলেন, “গান নিয়ে 'এক্সপেরিমেন্ট' করুন। এক্সপেরিমেন্ট করতে ভয় পাবেন না। গান নিয়ে ভয় পাবেন না। মনের আনন্দে গান করুন। মনের আনন্দে ভুল করুন। ভুল করে থেমে যাবেন না। আবার ভুল করুন।”

সুমন বললেন, “আমি অপার আনন্দ পাচ্ছি; আপনারা কি পাচ্ছেন, জানি না।” তারপর প্রাণ খুলে গেয়ে ওঠেন ‘হারে রে রে রে রে, আমায় ছেড়ে দে রে’। ‘তোমাকে চাই’ গানটি গেয়েই তিন দিনের শেষ পরিবেশনাটিতে দর্শকদের বেঁধে নিয়েছেন ভালোবাসায়। মিলনায়তনপূর্ণ দর্শক গেয়েছেন সুমনের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে। যেন সুমন আর দর্শক মিলে-মিলে একাকার।

সমাপনী দিনের পরিবেশনায় মঞ্চে সুমন গাইছিলেন ‘খোদার কসম জান’ গানটি। হঠাৎ গান থামিয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমার গাইতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। এরকম দর্শক দেখে আমি অভ্যস্ত নয়। এত শান্ত হয়ে বসে বাংলা গান শুনছেন। বিশ্বাস করুন, কলকাতায় এখন এমন দর্শক পাই না। আপনারা এত সুন্দর করে আমার সাথে গাইছেন, অবাক লাগছে। পরিচিত গানগুলো সবাই গায়। কিন্তু যখন ‘কণ্ঠে নিলেম গান, আমার শেষ পারানির কড়ি’র মত এত অপরিচিত গান যখন কলকাতায়ও গাই, সবাই চুপ করে থাকে। আপনারা গাইলেন। আপনারা গান খান, গান যাপন করেন।”

Image

ঢাকায় তিন দিনের গানের আয়োজনের শেষ দিন শুক্রবার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গাইলেন কবীর সুমন। ভারতের বাংলা গানের জনপ্রিয় এ শিল্পীর গান শুনতে এদিনও বিপুল সংখ্যক শ্রোতা ছিলেন হাজির।

ঢাকায় আসার আগে অনেক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারের জন্য যোগাযোগ করলেও তাতে সাড়া না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সুমন বলেন, “বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা আমাকে ইন্টারভিউ করার জন্য যোগাযোগ করেছিল। আমি তাদের ইন্টারভিউ দিতে পারিনি। বিশ্বাস করুন আমি নিজেও সাংবাদিকতা অঙ্গনেরই মানুষ। প্রথমে ভয়েস অব জার্মানি, তারপর ভয়েস অব আমেরিকা। পরে আবারও ফিরে এসেছি ভয়েস অব জার্মানিতে।

“সে সময় আমি বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে কাজ করেছি। ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। শিখেছি। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন আবদুল্লাহ আল ফারুক, শাহজাহান ফারুক, আবদুস সাত্তার, ইকবাল বাহার চৌধুরী, ইশতিয়াক আহমেদ, জিয়াউর রহমান, নাসের আল খাতুন, রোকেয়া হায়দার, দিলারা খাতুন। আরও কত কত নাম। তাদের সাথে কাজ করে শিখেছি, সমৃদ্ধ হয়েছি। বয়স হয়েছে। একজনকে ইন্টারভিউ দিতে গেলে, আরো অনেকেই আসবেন। বয়স হয়েছে। তাই কারও সাথেই কথা বলিনি।”