Published : 13 Jun 2026, 08:49 PM
ঢাকায় হাসপাতালের বারান্দা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামীকে এক দিনের রিমান্ডের নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
আত্মহত্যায় প্ররোচনায় করা মামলায় শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন।
শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ঝিলিকের। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক শনিবার ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় অভিনেত্রীর স্বামী সাফি উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শনিবার সাফিকে আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই কাজী আব্দুল মান্নান। বিবাদীর জামিন চান তার আইনজীবীরা। পরে আদালত সাফিকে এক দিনের রিমান্ডে দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পেটের ব্যথা নিয়ে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন সাফি। সুস্থ হওয়ায় শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া। এরপর ঝিলিক তার স্বজনদের হাসপাতালে বিলের জন্য ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঝিলিকের সঙ্গে ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভিডিও কলে কথা হয়। সাফি এর ঘণ্টা খানেক পর ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর দেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।
ঝিলিকের ভাই মোজাম্মের হক বলেন, “এটা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হয় কীভাবে। এটা তো হওয়ার কথা হত্যা মামলা। কিন্তু পুলিশ হত্যা মামলা নিল না। পুলিশ তাড়াহুড়া করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নিল।”
ছোট ও বড় পর্দা মিলিয়ে আসমা আক্তার ঝিলিক বেশকিছু কাজ করেছেন। চিত্রনায়ক শাকিব খান অভিনীত ‘রংবাজ’ সিনেমার একটি চরিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।
মোজাম্মেল হক বলেন, ঝিলিক অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি স্বামী-সন্তান নিয়েই থাকতেন।
এর আগে ঝিলিকের মৃত্যুর বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সাফি ওই হাসপাতালের অষ্টম তলার কেবিনে ভর্তি ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রী ও ২ বছর বয়সী শিশুকণ্যাও ছিল। কেবিনের দরজা খুলে বারান্দায় যাওয়া যায়।
“কেবিনেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে একপর্যায়ে তার স্ত্রী বারান্দা থেকে নিচে পড়ে মারা গেছেন।”