Published : 14 Jun 2026, 06:43 PM
জুলাই আন্দোলনের সময়কার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় কারামুক্তি আটকে গেল অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের।
পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।
গত ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৭ জুন দুদকের এ মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ।
জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক। ওইদিন জুলাই আন্দোলনের সময়কার আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন রোববার।
এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আবুল বারকাতের পক্ষে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
আবুল বারকাতের আরেক আইনজীবী বাবুল মিয়া বলেন,"কারামুক্ত হতে আবুল বারকাতকে এ মামলায় জামিন পেতে হবে। আমরা তার জামিন আবেদন করেছি। আগামীকাল সোমবার জামিন শুনানি হবে।"
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আব্দুর রউফ ও আবুল বারকাতসহ অন্যান্য আসামি উসকানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, আসামিরা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে ঢাকার নীলক্ষেত মোড়ের পশ্চিম পাশে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গুলি বর্ষণ করে ত্রাস সৃষ্টি করে। এর ফলে অনেক ছাত্র-জনতা নিহত হয়।
“আব্দুর রউফ ও আবুল বারকাতের সহায়তা ও নির্দেশনায় অন্যান্যরা আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রমের ফলে কয়েকজন আহত ও চিরতরে পঙ্গু হন। আব্দুল ওয়াদুদ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।”
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ড. আবুল বারকাত ঘটনার দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে নীলক্ষেত এলাকায় গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন।
এ মামলায় বাদী হয়েছেন তার শ্যালক আব্দুর রব। মামলা হয় নিউ মার্কেট থানায়। এতে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ আসামি করা হয় ১৩০ জনকে।