Published : 04 Aug 2026, 07:29 PM
টালিগঞ্জের কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’ সিনেমায় গায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
সেই অভিনয়ে ‘ধন্য ধন্য’ রব উঠেছিল। কিশোর চরিত্রে রূপদানকারী সেই অভিনেতা কিশোরের জন্মদিনে তাকে স্মরণ করে পোস্ট দিয়েছেন সোশাল মিডিয়ায়।
সংবাদমাধ্রম ‘দ্য ওয়াল’ জানিয়েছে, প্রসেনজিতের ভাষ্য, তার বেড়ে ওঠার সঙ্গী কিশোর কুমার।
তিনি লিখেছেন, "আমার অভিনয় জীবনের অসংখ্য মুহূর্তে যে কণ্ঠ আমাকে সঙ্গ দিয়েছে, যে গান আমার বেড়ে ওঠার সঙ্গী হয়ে থেকেছে, তিনি কিশোর কুমার।"
এই কয়েকটি বাক্যেই ফুটে উঠেছে নায়ক প্রসেনজিতের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কিশোর কুমারের গানের গভীর প্রভাব।
এরপর অভিনেতা আরও লিখেছেন, "তার গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একই সুতোয় বেঁধে রেখেছে। আজ তাঁর জন্মদিনে জানাই অশেষ শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। আপনি সুরের মধ্যেই চিরকাল অমর।"
এই বার্তার মাধ্যমে তিনি শুধু একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন সঙ্গীতপ্রেমী হিসেবেও নিজের অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
বাংলা ও হিন্দি— দুই ভাষাতেই কিশোর কুমারের অগণিত কালজয়ী গান একবনো জনপ্রিয়। সময় বদলেছে, বদলেছে শ্রোতার প্রজন্ম, কিন্তু তার কণ্ঠের আবেদন এতটুকুও ম্লান হয়নি বলে মনে করেন বহু শ্রোতারা
গায়ক এবং অভিনেতা ছাড়াও চিত্র্যনাটকার, পরিচালক, প্রয়োজক একং সুরকার হিসেবেও কিশোর কুমারকে দেখেছে ভারতের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। তবে সিনেমায় তার অভিনীত বেশিরভাগ চরিত্রই ছিল কমেডি ধাঁচের।
মঙ্গলবার তার সাতানব্বইতম জন্মবার্ষিকী।
১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট কিশোর কুমার জন্ম নেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ার এক মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে। বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলি আইনজীবী, মা গৌরী দেবী গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে কিশোর ছিলেন সবার ছোট।
কিশোরের জীবন শুরু হয়েছিল কাভার সিঙ্গার হিসেবে, ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’ সিনেমার মতো।
যে কারও গান শুনে সেটা গলায় তুলে নেওয়া তার জন খুব সহজ একটা বিষয় ছিল।
বড় ভাই অশোক কুমার ছিলেন হিন্দি সিনেমার এক খ্যাতিমান পুরুষ। অশোক কুমারের অনুপ্রেরণাতেই কিশোর এগিয়ে গেছেন তার জীবনে।
কিশোর কুমারের প্রথম প্লেব্যাক বোম্বে টকিজের ‘জিদ্দি’ সিনেমায়। ‘জিদ্দি’ সিনেমায় কিশোর কুমার কণ্ঠ দেন যে গানে, তাতে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন দেবানন্দ।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ‘অন্যতম সফল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক গায়ক’ হিসেবে পরিচিতি পান কিশোর।
তিনি গেয়েছেন বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, অসমীয়া, গুজরাটি, কন্নড়, ভোজপুরি, মালায়ালম, ওড়িয়া এবং উর্দু ভাষায়। বাংলা বহু গান গেয়েছেন তিনি।
সেগুলোর মধ্যে ‘আমার মনের এই ময়ূর মহলে’, ‘আমার পূজার ফুল’, ‘এক পলকের একটু দেখা’, ‘এ আমার গুরুদক্ষিণা’, ‘একদিন পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে’, ‘এই যে নদী এই তো জীবন হিংসা’, ‘বিবাদ’, ‘লোভ হোক বিদ্বেষ’, ‘হাওয়া মেঘ সরায়ে’, ‘কি আশায় বাঁধি খেলাঘর’, ‘কি উপহার সাজিয়ে দেব’, ‘তোমায় পড়েছে মনে’, ‘নীল নীল আকাশে’, ‘প্রেমের খেলা কে বুঝিতে পারে’, ‘শুনো শুনো গো সবে’ উল্লেখযোগ্য। বিখ্যাত ‘নয়ন সরসী কেন, ভরেছে জলে’ গানটি সুর করেছিলেন তিনি নিজেই।
সংসার জীবনেও বারবার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এই শিল্পীকে। জীবনের চলার পথে চার অভিনেত্রীকে তিনি বেছে নিয়েছেন সঙ্গী হিসেবে।
কিশোর কুমারের প্রথম স্ত্রীর নাম রুমা গুহঠাকুরতা, দ্বিতীয় স্ত্রী মধুবালা, তৃতীয় জন যোগিতা বালি এবং চতুর্থ স্ত্রী লীনা চন্দ্র ভরকার।
রুমা ছিলেন গায়িকা আর পরের স্ত্রীরা সবাই ছিলেন নায়িকা। কিশোর ও রুমার সন্তান অমিত কুমারও একজন গায়ক।
১৯৮৭ সালে জীবনের ইতি টানেন কিশোর কুমার।