অস্কারে মনোনীত ‘দ্য কাশ্মির ফাইলস’ নিয়ে যা বললেন মিঠুন

আলোচিত-সমালোচিত এই সিনেমায় মিঠুন চক্রবর্তীও অভিনয় করেছেন।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Jan 2023, 06:56 PM
Updated : 11 Jan 2023, 06:56 PM

বিবেক অগ্নিহোত্রী নির্মিত ‘দ্য কাশ্মির ফাইলস’ বিতর্কে এবার যোগ দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তার ভাষ্যে, অস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়ে সিনেমাটি সমালোচকদের ‘যথার্থ জবাব’ দিয়েছে।

অস্কার মনোনয়নে ৩০১টি যোগ্য সিনেমার তালিকায় স্থান করে নেওয়ার পরে ‘দ্য কাশ্মির ফাইলস’ নিয়ে কথা বলেন বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই বাঙালি অভিনেতা।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে মিঠুন বলেন, “যে পরিচালকেরা সিনেমাটিকে প্রচারমূলক, অশ্লীল বলে দাবি করেছিলেন, তারাও জবাব পেলেন। মূল কথা হচ্ছে দর্শকরা সিনেমাটিকে পছন্দ করেছে।

“আমি বিতর্কিত কিছু বলতে চাই না। ভারতের অনেক সিনেমা হলে মুক্তি আটকে থাকার পরেও অ্যাকাডেমি পুরস্কারে মনোনীত হল সিনেমাটি। ভারতীয় সিনেমা অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং অন্যান্য মনোনয়ন পাওয়া সিনেমাগুলোকে অভিনন্দন জানাতে চাই আমি।”

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের কাশ্মিরে হিন্দু হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী, অনুপম খের, পল্লবী জোশী, দর্শন কুমার।

অস্কার মনোনয়নে উচ্ছ্বসিত হয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এএনআইকে অনুপম খের বলেন, “দ্য কাশ্মির ফাইলস অস্কারের মনোনীত হয়ে নিজেকেই নিজে প্রতিষ্ঠা করেছে। শিগগিরই এই অর্জন উদযাপন করা হবে। ৩২ বছর কাশ্মিরের এই কালো অধ্যায়টিকে গোপন রাখা হয়। সিনেমার মধ্যদিয়েই সত্যটি প্রকাশ্য হলে বিশ্ব সেটিকে স্বাগত জানিয়েছে।

“আনন্দের বিষয় হচ্ছে, কেবল সিনেমাটিই নয়, সেরা অভিনেতাদের তালিকায় আমিও মনোনীত হয়েছি। এ এক আশ্চর্য অনুভূতি। ভারত থেকে আরও চারটি সিনেমা মনোনয়ন পেয়েছে। তাদের সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”

হিন্দি ভাষায় নির্মিত ১৭০ মিনিটের চলচ্চিত্র ‘দ্য কাশ্মির ফাইলস’ এর সমর্থকরা বলছেন, চলচ্চিত্রটি কাশ্মিরের ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়ের উপর আলো ফেলেছে, যা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে।

Also Read: বিভেদের চিত্র প্রকাশ্যে আনছে ‘দ্য কাশ্মির ফাইলস’

Also Read: ‘দ্য কাশ্মির ফাইলস’ অশ্লীল সিনেমা: গোয়া উৎসবের জুরি প্রধান  

Also Read: মোদীর প্রশংসা পাওয়া ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিঙ্গাপুরে নিষিদ্ধ

অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালে নির্মিত এই সিনেমাটিকে প্রপাগান্ডার হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা। তারা বলছেন, এটা ভারতে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় মেরুকরণের প্রমাণ, যা ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মোদী লালন-পালন করে যাচ্ছেন।

গত নভেম্বর গোয়া ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অব ইনডিয়ার (আইএফএফআই) সমাপনী দিনে জুরি বোর্ড প্রধান নাদাভ লাপিদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে সিনেমাটির সমালোচনা করেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, “আমাদের মনে হয়েছে এটা একটা প্রপাগান্ডা, অশ্লীল সিনেমা। এরকম ঐতিহ্যবাহী একটি চলচ্চিত্র উৎসবের শৈল্পিক ও প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে আসার উপযুক্ত নয়।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক