Published : 17 May 2026, 01:42 PM
যে মেয়েকে সুস্থ করে তুলবেন বলে কদিন আগে এক বুক আশা নিয়ে চেন্নাই গিয়েছিলেন লোপা কায়সার, এখন তাকে বইতে হচ্ছে সন্তান হারানোর ভার।
অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ নিয়ে রোববার বিকালে ঢাকায় ফিরছেন লোপা।
মেয়ের মৃত্যুতে শোকাহত লোপা ফেইসবুক পোস্টে কিছু কথা লিখেছেন।
তিনি লিখেছেন, “জীবনের অনেক বড় বড় পরীক্ষা হাসিমুখে পার করেছি। কখনো কারও কাছে কিছু চাইনি, কারও অপকার করিনি। সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের উপকার করতে। আজ আমার মেয়েকে ছাড়া জীবনের ভার আমি কীভাবে বয়ে বেড়াব, জানি না।”
কারিনার বাবা কায়সাদ হামিদ জানিয়েছেন, তার মেয়ের মরদেহ বহনকারী বিমান দেশে ফিরবে বিকেল ৫টায়। এরপর বাদ মাগরিব সন্ধ্যা ৭টায় বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে কারিনার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর রাত ৮টায় বনানী দরবার শরিফ মসজিদে এবং রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জানাজা হবে।
এরপর সোমবার সকাল ৭টায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার আব্দুল্লাপুরে জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
লিভার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
কায়সার হামিদ গ্লিটজকে বলেন, “রাত ১ টার দিকে চেন্নাইয়ে মারা যায়। হঠাৎ করেই ওর ব্লাড প্রেশার কমে গিয়েছিল। পরে তা আর নিয়ন্ত্রণে আসেনি।”

লিভারের জটিলতা নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কারিনা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় চেন্নাইয়ের ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে।
চেন্নাই থেকে বুধবার লোপা কায়সার বলেছিলেন, লিভার প্রতিস্থাপন বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল নেওয়ার মত শারীরিক অবস্থায় কারিনা নেই।
সেখানকার চিকিৎসকদের বরাতে লোপা জানিয়েছিলেন, কারিনার ফুসফুসে অনেকটা তরল ও কফ জমে গিয়েছিল। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে স্থিতিশীল করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। তবে অস্ত্রোপচরের পর্যায়ে আর যেতে পারেননি তারা।
‘এ’ লেভেল শেষ করে পড়ালেখার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে একজন শিক্ষানবিশ হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইংরেজি ডেস্কে কিছুদিন কাজ করেছেন কারিনা কায়সার।
দেশে ফিরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও গত কিছুদিন ধরে কারিনা অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি তৈরি হচ্ছিল।
তার কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।