কে-পপ’র উন্মাদনায় আলোচিত যারা

চলছে এখন ‘কে-পপ’ এর উন্মাদনা; কোরিয়ার পপ ঘরানার অনুরাগী গড়ে উঠেছে দুনিয়াজুড়ে।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Jan 2022, 05:48 AM
Updated : 12 Jan 2022, 05:48 AM

কে-পপ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠার মধ্যে এর তারকারা রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন, ভাঙছেন।

পপ থেকে র‍্যাপ, আরএন্ডবি, ইডিএম, রকসহ আরও অনেক ঘরানা এই কে-পপ এর অন্তর্ভুক্ত। কোরিয়ান পপ মিউজিক বা কে-পপ বলতে দক্ষিণ কোরিয়ার পপ সঙ্গীত কে বোঝায়, যদিও এটি কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত যে কোনো কিছুর জন্যই ব্য্বহৃত একটি শব্দ।

ফলে কে-পপ শুধু সঙ্গীতের বিষয় নয়, সেই কারণেই এটি এত আকর্ষণীয়: টো-ট্যাপিং টেকনো বিট, ট্রেন্ড-ডিফাইনিং ফ্যাশন এবং নিখুঁতভাবে কোরিওগ্রাফ করা ভিডিওগুলোর জন্য ‘কোরিয়ান ওয়েভ’ বা ‘হ্যালিউ’ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

কে-পপের এই জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বেশ কয়েকটি দল, মূলত তারাই জনপ্রিয় করে তুলেছেন এই ঘরানাকে।

বিটিএস

বিটিএস একটি কে-পপভিত্তিক দল, যার সকল সদস্যই ছেলে। ব্যান্ডটির নাম কোরিয়ান বাক্য ‘ব্যাংতান সোনিওদান' এর সংক্ষিপ্ত রূপ যার বাংলা অর্থ ‘বুলেটপ্রুফ বয় স্কাউটস’। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ভক্তদের কাছে তারা বিটিএস হিসেবে পরিচিত, যার অর্থ ‘বিয়ন্ড দ্য সিন’।

তিনজন র‌্যাপার (আরএম, সুগা, জে-হোপ) এবং চারজন কণ্ঠশিল্পী (জিন, জিমিন, ভি, ও জাংকুক) নিয়ে গঠিত এই দলটি হিপ-হপ, পপ, কিছু ইডিএম এবং র‌্যাপ ঘরানার গান করে, পাশাপাশি তাদের গানের মাধ্যমে প্রেম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলোকেও তুলে ধরে।

এই ‘ব্যাংতান বয়েজ’ দের ভক্তের সংখ্যা বিশাল, যারা ‘আর্মি’ নামে পরিচিত। এ দলটি ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি ভোট নিয়ে বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে টানা ২ বছরের জন্য শীর্ষ সামাজিক শিল্পীর খেতাব ছিনিয়ে এনেছে।

সাত সদস্যের এ দলটি ২০১৩ সালে আত্মপ্রকাশ করে বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে, তাদের হিট একক অ্যালবাম ‘2 Cool 4 Skoo’ দিয়ে। তারাই প্রথম কে-পপ দল যারা বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড জিতেছে এবং প্রথম কে-পপ দল যারা গ্র্যামিতে মনোনয়ন পেয়েছে। বিটিএসকে ২০২০ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তারা একটি বক্তৃতা দিয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী সম্প্রচারিত হয়।

ব্ল্যাকপিংক

কে-পপ ইন্ডাস্ট্রিতে ছেলে দলগুলোর জয়জয়কার থাকলেও মেয়ে দলগুলোও পিছিয়ে নেই। এরই উদাহরণ ব্ল্যাকপিংক। মেয়েদের গ্রুপটি ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে রয়েছে। সদস্য জিসু, জেনি, রোজ ও লিসা। তাদের একজন সদস্য থাইল্যান্ড থেকে এসেছেন। তারা গান এবং কোরিওগ্রাফি দিয়ে বছরের পর বছর ধরে মিউজিক চার্টে ইতিহাস তৈরি করে চলছে।

৪ সদস্যের মেয়েদের গ্রুপটি ২০১৬ সালের ৮ অগাস্ট একক অ্যালবাম ‘স্কয়ার ওয়ান’ দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। এতে ‘বুম্বায়াহ’ এবং ‘হুইসেল’র মতো ট্র্যাক অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৯ সালে তারা ইউটিউবে ‘বিলিয়ন ভিউ ক্লাবে’ যোগদানকারী প্রথম কে-পপ দল হয়ে ওঠে। ব্ল্যাকপিংক হল মেয়েদের প্রথম কে-পপ দল, যারা বিলবোর্ড এমার্জিং আর্টিস্টস চার্টে নম্বর ওয়ান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং কোশেলাতে পারফর্ম করে।

মিউজিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয় হওয়ার দুই বছরের মধ্যে তারা বিলবোর্ড হট ১০০ এর চার্টে তে সর্বোচ্চ স্থানে উঠে আসে। এছাড়াও তারাই প্রথম কে-পপ মেয়েদের গ্রুপ যাদের বিলবোর্ডের ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল গানের বিক্রিতে একক গান রয়েছে।

ব্ল্যাকপিংক সম্প্রতি তাদের ‘ইন ইয়োর এরিয়া’ ট্যুর শেষ করেছে। গুঞ্জন রয়েছে যে গ্রুপটি লেডি গাগার সঙ্গে তার নতুন অ্যালবামে সহযোগিতা করবে, তবে এখনও কিছুই নিশ্চিত করা হয়নি।

টোয়াইস

টোয়াইস হল কে-পপ মেয়ে দলটি জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে ‘সিক্সটিন’ নামক একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ২০১৫ সালে আত্মপ্রকাশ করে। এই দলে জাপান এবং তাইওয়ানের মতো জায়গা থেকে আসা বিভিন্ন জাতীয়তার নয়জন সদস্য রয়েছে। সদস্যরা হলেন- নাইওন, জিওংইয়ন, মোমো, সানা, জিহিও, মিনা, ডাহইউন, চেইয়ং ও জুয়ু।

তারা তাদের গান ‘চিয়ার আপ’ এর মাধ্যমে প্রথম জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এ গানটি তাদের বছরের সেরা গান এবং সেরা পারফর্মিং একক এর পুরস্কার এনে দেয়। তারপর থেকে গ্রুপটি একক গান এবং অ্যালবাম প্রকাশ করছে, যা আকর্ষণীয় সুরের জন্য তাদের সর্বদা সঙ্গীত চার্ট এবং বিক্রয়ের শীর্ষে রাখে।

‘টোয়াইস্টাগ্রাম’ তাদের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম এবং ২০১৭ সালে এই অ্যালবামের প্রধান গান ‘লাইকি’ বিলবোর্ডের ওয়ার্ল্ড অ্যালবাম এবং ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল গানের চার্টে একই সাথে শীর্ষে থাকা প্রথম নারী কোরিয়ানদের গান।

এক্সো

এক্সো হল সিউলে অবস্থিত একটি কোরিয়ান-চাইনিজ দল, যা নয়জন ছেলে সদস্য নিয়ে গঠিত। সদস্যরা হলেন- সুহো, বেখুন, চ্যানইওল, ডিও, কাই, সেহুন, জিয়ামিন, লে ও চেন।

ব্যান্ডটি দুটি উপ-দলে বিভক্ত: এক্সো-কে ও এক্সো-এম। ব্যান্ডটি ২০১১ সালে এসএম এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে গঠিত হয় এবং ২০১২ সালে আত্মপ্রকাশ করে। তারা প্রাথমিকভাবে পপ, হিপ-হপ ও আরএন্ডবি ঘরানার গান করে, যা কোরিয়ান, মা্ন্দারিন ও জাপানিজ ভাষায় প্রকাশিত ও পরিবেশিত হয়।

গ্রুপটি ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিকে পিয়োংচ্যাং-এ পারফর্ম করেছিল।

এনসিটি

এনসিটি (নিও কালচার টেকনোলজির সংক্ষিপ্ত রূপ) হল একটি দক্ষিণ কোরিয়ান দল, যা এসএম এন্টারটেইনমেন্ট দ্বারা গঠিত এবং জানুয়ারি ২০১৬ তে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এটি বিশ্বের বৃহত্তম কে-পপ দলগুলোর একটি। ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই গ্রুপে ২৩ জন ছেলে সদস্য যুক্ত হন।

গ্রুপটি চারটি উপদল যথা এনসিটি ১২৭,এনসিটি ইউ, এনসিটি ড্রিম এবং ওয়েভি-এ বিভক্ত। তারা বেশ কয়েকটি ঘরানার গান করে: কে-পপ, ম্যান্ডপপ, জে পপ, হিপ হপ, আরএন্ডবি এবং ইডিএম। দলটি তাদের প্রথম উপ দল, এনসিটি ইউএর মাধ্যমে ৯ এপ্রিল, ২০১৬-এ দ্বৈত ডিজিটাল একক ‘দ্য সেভেন্থ সেন্স’ এবং ‘উইদাউট ইউ’ দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে।

তারা ১২.৫ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারী নিয়ে বর্তমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় কে-পপ গ্রুপগুলোর একটি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক