Published : 28 Mar 2026, 10:34 PM
গান, আবৃত্তি ও আলোচনায় উদযাপন করা হল সাহিত্যিক ও সাংবাদিক সত্যেন সেনের জন্মবার্ষিকী।
শনিবার ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে এ আয়োজনে সত্যেন সেন সম্মাননা দেওয়া হয় সংগীতশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহীন সামাদকে।
বিকাল সাড়ে ৫টায় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে সূচনা হয় সত্যেন সেনের ১১৯তম জন্মবার্ষিকীর এ আয়োজন।
একই সঙ্গে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের এ অনুষ্ঠানে মেহনতি মানুষের জন্য লেখা ‘হাতুড়িতে পেটাও লোহা’ গানটি পরিবেশন করেন শিল্পীরা। একে একে গান, আবৃত্তিতে মুখরিত হয় পুরো আয়োজন।
এবারের সত্যেন সেন সম্মাননা পাওয়া অনুভূতি তুলে ধরে শাহীন সামাদ বলেন, “আমাকে অনেকে নজরুল সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু আমি মনেপ্রাণে গণসংগীতশিল্পীও। যখন থেকে গান শিখি, তখন থেকেই সত্যেন দার গানগুলো বোঝার চেষ্টা করেছি। ছায়ানটে যখন গণসংগীত শিখেছি, মনপ্রাণ দিয়েই শিখেছি। আজকে যারা আমাকে এই সম্মান জানালেন, তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, “আজকে যাকে সম্মাননা দেওয়া হল, শাহীন সামাদের সঙ্গে আমার পরিচয় সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়। তাকে সম্মাননা দেওয়াটা যথার্থ হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সত্যেন সেনের প্রভাব শুধুমাত্র এই বাংলায় নয়, সারা বিশ্বের যেখানেই বাঙালি আছেন, সেখানেই তার প্রভাব আছে। সত্যেন সেনকে চেনেন না, এমন সচেতন বাঙালির সংখ্যা কমই আছে। বাংলাদেশের সাম্যবাদী রাজনীতিতে তার অবদান অপরিসীম। মানুষের মুক্তির জন্য যে আদর্শ, তা বহন করেছেন সত্যেন সেন।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান।
সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক নিগার চৌধুরী।
দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, শিশু সংগঠন গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা।

একক সংগীত পরিবেশন করেন এস এম মেজবাহ, রত্না সরকার, শ্রাবণী গুহ রায়, নবনীতা জাইদ চৌধুরী ও সুরাইয়া পারভীন।
একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন রফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ ফয়সাল আহমদ। দলীয় নৃত্য পরিবেশ করেছে স্পন্দন, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন অনিক বসু।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী নায়লা তারাননুম চৌধুরী কাকলি।
সত্যেন সেন স্মরণে উদীচীর ২ আয়োজন
সত্যেন সেনের জন্মবার্ষিকী ঘিরে দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভক্ত উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠান করে মাহমুদ সেলিম ও অমিত রঞ্জনের নেতৃত্বাধীন অংশ।
'মুক্তির সেনানীরা ছুটে আয়, মৃত্যু ও জীবনের মোহনায়' স্লোগানে অনুষ্ঠানের শুরুতে সত্যেন সেন রচিত ‘মানুষেরে ভালোবাসি এই মোর অপরাধ' গানটি সমবেত কণ্ঠে গেয়ে শোনান শিল্পীরা।
পরে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের (একাংশ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্ব হয়। সেখানে বক্তব্য দেন প্রবীর সরদার, অমিত রঞ্জন দে, প্রদীপ ঘোষ, মুরশিকুল ইসলাম শিমুল, অর্ণব সরকার, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্যামল বিশ্বাস, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন-এর সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভুঁইয়া এবং বাংলাদেশ কৃষক সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য মানবেন্দ্র দেব।
অন্যদিকে তোপখানা রোডে উদীচী কার্যালয়ের সামনের সত্যেন সেন চত্বরে আলোচনা, গান, কবিতা, স্মৃতি তর্পণের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করে হাবিবুল আলম ও জামসেদ আনোয়ার তপনের নেতৃত্বাধীন অংশ।
এদিন উদ্বোধন করা হয় আড্ডা ও গল্পের ধারাবাহিক আয়োজন 'উদীচীর উঠান'। উদ্বোধনী দিনে গান পরিবেশন করেন শিল্পী সায়ান।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের (একাংশ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন জামসেদ আনোয়ার তপন, কামাল হোসেন বাদল, একরাম হোসেন।