Published : 24 Oct 2025, 09:43 PM
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কেন পড়েন? এই প্রশ্ন ছিল ইন্টারনেট সংবাদপত্রটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে শামিল হওয়া অভিনেতা, সংগীত শিল্পী, চলচ্চিত্র শিল্পীসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের কাছে।
তাদের ভাষ্য, পাঠকের কাছে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার ‘জায়গা করে নিয়েছে’ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। তাই সঠিক খবর জানতে ও যাচাইয়ে বহু সাংবাদমাধ্যমের ভিড়ে এই ইন্টারনেট সংবাদপত্রটি বেছে নিয়েছেন তারা।
রাজধানীর র্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের বলরুমে বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর উদযাপন করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সেখানে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিয়ে শিল্পীরা তাদের ভাবনা জানিয়েছেন।
সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠান চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।
সন্ধ্যা মিলতেই আসেন অভিনেত্রী ডলি জহুর। তারপর মেয়েকে নিয়ে আসেন বর্ষীয়ান শিল্পী খুরশীদ আলম। সময় গড়াতে একে একে আসেন অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক ও অভিনয়শিল্পী দম্পতি রহমত আলী ও ওয়াহিদা মল্লিক জলি, তারিক আনাম খান ও নিমা রহমান, অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া, জিতু আহসান, শরিফুল রাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, সাবরিনা জামান রিবা ও নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্তসহ আরো অনেকে।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, “নিরপেক্ষ এবং সঠিক সংবাদ জানার জন্য বিডিনিউজ একটি আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যা অনেক সময় অন্য নিউজে থাকে না, তাই আমরা নিয়মিত পাঠক।”

সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলম বলেন, “আমি সংগীত এবং খেলাধুলা এই দুইটা জিনিস অনেক পছন্দ করি। আমি হয়ত প্রযুক্তির দিক থেকে একটু পিছিয়ে। যেটা মানুষ এই সময়ে এসে ভাবছে সেটা বিডিনিউজ ১৯ বছর আগে করে দেখিয়েছে। বিডিনিউজ এখন যেভাবে চলছে সেইভাবেই চলুক এই শুভকামনা জানাই।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংগীতশিল্পী নাসিম আলী খান বলেন, “বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বিডিনিউজ অনন্য। আমাদের আস্থা ধরে রাখার জন্য ধন্যবাদ এই সংবাদমাধ্যমকে।”
সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরার কথায়, “সাংবাদিকতার মহলে এই অনলাইন সংবাদমাধ্যম আমাদের সবার কাছে স্বনামধন্য। আমাদের সকলের মুখে-মুখে এটি জ্ঞাত এবং খুব কাছের মনে হয়। যারা এখানে কাজ করছেন, তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। যে কোনো খবরে বিস্তারিত জানতে আমরা এই অনলাইনে চোখ রাখি আর পাঠকদের সেই প্রত্যাশা খুব সার্থকভাবে বিডিনিউজ পূরণ করে যাচ্ছে।”

নতুন আরেকটি বছরের শুভকামনা জানিয়েছেন সিনেমার অভিনেতা শরিফুল রাজ।
তিনি বলেন, “বিডিনিউজের আরেকটা নতুন বছর শুরু হয়েছে। আমার প্রত্যাশা সিনেমা এবং বিনোদনের আরও অনেক জায়গা নিয়ে সংবাদ করে বিডিনিউজ এগিয়ে যাক।”
নিজেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকের দীর্ঘদিনের পাঠক হিসেবে তুলে ধরা ‘উৎসব’ সিনেমার পরিচালক তানিম নূর বলেন, “বিডিনিউজ পড়া শুরু করেছি প্রায় ১৫ বছর আগে। অনেক বছর ধরে এখানে ভালো সাংবাদিকতা পেয়েছি, বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পেয়েছি। তাই বিডিনিউজ পড়ি।”
নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত বলেন, “অনলাইনে যখন নিউজ পড়া শুরু করি, তখন থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠেছে বিডিনিউজ। আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি, কোনো কিছু ঘটলে আগে চোখ রাখি বিডিনিউজ কী লিখেছে।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ‘সাহসী ও সচেতন’ মন্তব্য করে জুয়েল আইচ বলেছেন, পক্ষপাতহীন নিউজ পাওয়ার জন্য তিনি বিডিনিউজ পড়ি।
“এই সংবাদমাধ্যম সাহসী এবং সচেতন। আমি অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে যাই, এইখানেও এসেছি। কেন জানি মনে হয়েছে সেই সংবাদমাধ্যমগুলো নিজেদের স্বত্তা হারিয়ে ফেলেছে। সেই জায়গা থেকে বিডিনিউজ অন্যরকম। এটার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা করা যায় না।”

অনুষ্ঠান যখন প্রায় শেষের দিকে, স্ত্রী অভিনেতা নিমা রহমানকে উপস্থিত হন অভিনেতা তারিক আনাম খান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কেন পড়েন প্রশ্নে এই অভিনেতা বলেন, “বিডিনিউজ আমাদের নিজেদের নিউজ পোর্টাল। প্রথম থেকেই এটি বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক সংবাদ কাভার করেছে।”
পাঠক হিসেবে একটা সংবাদ মাধ্যমের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী প্রশ্নে তারিক আনাম খান বলেন, "সংবাদমাধ্যম যদি স্বাধীন না হয়, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ না থাকে। আমি খুব ছোটবেলা থেকেই সংবাদ মাধ্যম পড়ি। আজাদ পত্রিকা পড়েছি, সংবাদ, দৈনিক বাংলা, ইত্তেফাক পড়েছি। সেই কিশোর সময় থেকেই সংবাদপত্র ছাড়া একদিন ভাবতে পারতাম না।
"তখন সংবাদপত্রে অনেক বিশ্বাস ছিল, ভরসা ছিল। এখন যেন সংবাদপত্রে কেমন একটা খামতি রয়ে গেছে। নিউজটা কী ঠিক, এটার কী পাল্টা কিছু পাব নাকি। বিশ্বাসটা কেমন যেন ভেঙে গেছে। খুব বিভাজনের একটা জায়গা তৈরি হয়েছে। যেটা শিল্পের মানুষ হিসেবে প্রত্যাশা করি না।"

সংগীতজগতের শিল্পীদের মধ্যে আরও এসেছিলেন ফাতেমা তুজ জোহরা, অদিতি মহসিন, নকীব খান, পথিক নবী, দিলশাদ নাহার কণা, ফিডব্যাক ব্যান্ডের ফোয়াদ নাসের বাবু ও লাবু রহমান, শিরোনামহীনের জিয়াউর রহমান জিয়া, এ কে রাহুল ও তার দল।
এসেছিলেন অভিনেতা ও নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু, মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম ও অপরাজিতা সংগীতা।