মুম্বাইয়ের জুহুর পবনহংস শ্মশানে মনোজের দাহকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
Published : 05 Apr 2025, 06:43 PM
ভারতের জাতীয় পতাকায় মোড়ান শবদেহ, শববাহী গাড়ি সাজানো হয় তিন রঙা ফুলে।
শনিবার সকালে এ ভাবেই বিদায় নিলেন বলিউডের ‘ভারত কুমার’। দীর্ঘ রোগভোগের পর শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৩টার দিকে কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে মনোজ মারা যান।
শনিবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বেলা ১২টার দিকে মুম্বাইয়ের জুহুরজুহুর পবনহংস শ্মশানে তার দাহকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে লিখেছে এনডিটিভি।
শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার আগেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হন মনোজের সহশিল্পী ও ঘনিষ্ঠজনরা। এসেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ও তার ছেলে অভিষেক বচ্চন। ছেলে আরবাজ় খানকে নিয়ে উপস্থিত হন চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক পরিচালক সেলিম খানও, যিনি নিজেও বার্ধক্যের ভারে জর্জরিত।
সেখানের পরস্পরকে আলিঙ্গন করে অমিতাভ ও সেলিম। সেলিমকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায় অমিতাভকে। ১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রোটি কাপড়া আউর মকান’ সিনেমায় মনোজ ও আমিতাভ একসঙ্গে অভিনয় করেন।
শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন মনোজের দীর্ঘ দিনের বন্ধু প্রেম চোপড়া, আরও ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র, নির্মাতা ফারহা খান, সজিদ খান, আনু মালিকসহ আরও অনেকেই।
মনোজের বন্ধু প্রেম চোপড়া কলেন, “প্রথম থেকেই আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। এক দারুণ সফর। তার সঙ্গে কাজ করেছে এমন প্রত্যেকেরই কোনো না কোনও লাভ হয়েছে। আমারও হয়েছে। আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিলেন তিনি।”
অভিনেতার ছেলে কুণাল গোস্বামী তার বাবাকে একজন ‘পরিবারমুখী মানুষ’ বর্ণনা করে সাংবাদিকদের বলেন. “আগামী মাসেই তার ৮৮ হওয়ার কথা ছিল। তিনি তার নাতি-নাতনি, ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন। তবে ইদানিং শারীরিক সমস্যা তাকে ভুগিয়েছে।”
মনোজের বয়স হয়েছিল ৮৭। গত ২১শে ফেব্রুয়ারি মনোজকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন, এছাড়া লিভার সিরোসিসও ছিল মনোজের।
এই দুই কারণেই কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে শুক্রবার গভীর রাতে অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের দেওয়া অভিনেতার মৃত্যুসনদে বলা হয়েছে।
মনোজ কুমারের প্রয়াণে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোক প্রকাশ করেছেন হিন্দি সিনেমার তারকাভিনেতা আমির খান, অজয় দেবগণ, ফারহান আখতার থেকে শুরু করে অনেকে। মনোজ কুমারের সঙ্গে আইনি জটিলতায় জড়ানো শাহরুখ খানও অতীত তিক্ততা ভুলে এই অভিনেতার উদ্দেশে শোকবার্তা দিয়েছেন সোশাল মিডিয়ায়।
শোক জানিয়েছেন নির্মাতা অশোক পণ্ডিত থেকে শুরু করে অনেকে।
দেশাত্মবোধক সিনেমায় মনোজের অভিনয় সব সময় আলোচনায় ছিল। মনোজ সম্পর্কে বলা হয় ‘দেশ আর দেশপ্রেমই’ ছিল তার অভিনয়ের বড় পরিচয়।
‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘রোটি কাপড়া আউর মকান’, ‘ক্রান্তি’র মত সিনেমাগুলোয় মনোজের নামের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিল দেশের পরিচয়। তাই তিনি ‘ভারত কুমার’ উপাধিতে সম্মানিত হয়েছিলেন।
১৯৯২ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করা হয় মনোজ কুমরাকে। ২০১৬ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ১৯৩৭ সালে জন্ম হয়েছিল মনোজের। তার আসল নাম ছিল হরিকৃষ্ণন গোস্বামী। দেশভাগের সময় ১৯৪৭ সালে পরিবারের সঙ্গে নিজেদের ভিটামাটি ছেড়ে ভারতে চলে আসতে হয়েছিল প্রয়াত অভিনেতাকে। বেশ কিছু দিন কাটাতে হয়েছিল শরণার্থীদের শিবিরে। জীবনের ওই অভিজ্ঞতার ছাপ তিনি রেখেছিলেন তার সিনেমায়।
১৯৫৭ সালে মনোজ ‘ফ্যাশন’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে পা রাখেন, বয়স তখন তার মাত্র ২০।
মনোজের জনপ্রিয়তা আসে ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘কাচ কি গুড়িয়া’ দিয়ে। এই সিনেমাটি বলিউডে তার পায়ের নিচে মাটি শক্ত করে দেয়।
মনোজ অভিনীত ‘গুমনাম’ ছিল ১৯৬৫ সালের রেকর্ড আয় করা সিনেমা। মনোজ কুমারকে শেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ১৯৯৫ সালে ‘ময়দান-ই-জংগ’ সিনেমায়। শারীরিক জটিলতা ধীরে ধীরে মনোজকে সিনেমার কাজ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়।
আরও পড়ুন-
'আপনি চিরকাল আমার কাছে ভারত কুমার', মামলার তিক্ত স্মৃতি সরিয়ে শাহরুখ