Published : 01 Apr 2026, 10:28 AM
অনলাইনে নির্ধারিত অর্থ দিয়েও টিকেট না পাওয়া, হলে এসে ফেরত যাওয়া, টিকেটের টাকা পেতে বিলম্ব এবং নতুন করে টিকেট কাটতে বাধ্য হওয়া- কী হয়নি এবার স্টার সিনেপ্লেক্সে।
ঈদের সিনেমাগুলো দেখতে দেশের বৃহত্তম মাল্টিপ্লেক্স ‘স্টার সিনেপ্লেক্সে’ এমন সব বিড়ম্বনায় পড়ার অভিযোগ করেছেন বহু দর্শক।
গেল কদিন ধরে স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, এসকেএস টাওয়ার ও মিরপুর সনি স্কয়ার শাখা ঘুরে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তর অভিযোগ মেলে।

দর্শকদের অভিযোগের বিষয়ে সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঈদ ঘিরে সার্ভারের ধারণক্ষমতার ‘অতিরিক্ত ভিজিটর একসঙ্গে প্রবেশ করায়’ অনলাইনে টিকেট বুকিং ও নিশ্চিতকরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি সাময়িক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেছে স্টার সিনেপ্লেক্স।
চলতি সপ্তাহের রোববার স্টার সিনেপ্লেক্সের এস কে টাওয়ার শাখায় টাকা কেটে রাখলেও টিকেট না পাওয়ার কথা বলেছেন নাজমুস সালেহীন নামের এক দর্শক। 'রাক্ষস' সিনেমা দেখার জন্য অনলাইনে সোমবারের ছয়টি টিকেট কেটেছিলেন তিনি। টাকা কেটে রাখলেও টিকেট নিশ্চিতকরণের কোনো বার্তা তার মোবাইলে আসেনি।
সিনেপ্লেক্সের নম্বরে কয়েকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সরাসরি প্রেক্ষাগৃহে এসে খোঁজ নিতে হয়েছে তাকে।
সালেহীন গ্লিটজকে বলেন, "টিকেট কনফার্ম হয়নি, কিন্তু টাকা কেটে নিয়েছে। এখানে আসার পর এক কর্মকর্তা আমাকে বললেন, আমরা যে শো দেখতে চেয়েছিলাম সেটার সিট খালি আছে, তবে নতুন করে টাকা দিয়ে টিকেট কাটতে হবে। আমার আগের কাটা টিকেটের তিন হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে ফেরত পাব।
“তবে আমি এতে আপত্তি জানিয়ে বলি, হয় সঙ্গে সঙ্গে রিফান্ড দিতে হবে। না হয় যে সিটগুলো ফাঁকা আছে সেটার টিকেট আমাকে পারচেজ করে দিতে হবে। তখন সেখানকার একজন ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে আমি টিকেট পাই।”
ক্ষুব্ধ এই দর্শক বলেন, "এটা তো আমাদের জন্য ভোগান্তি, এতগুলো টাকার টিকেট কাটলাম। সেটা পারচেজ হচ্ছে না, কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তেল সংকটের মধ্যে বাইকের তেল খরচ করে সরাসরি সিনেপ্লেক্সে এসে বার্গেইন করে টিকেট নিয়ে যাওয়া, এগুলোর সমাধান হওয়া উচিত।"
গত ২৪ মার্চ বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্স 'দম' সিনেমা দেখার জন্য অনলাইনে ১৭০০ টাকা দিয়ে ভিআইপি সিটের দুটি টিকেট কেটেছিলেন মুশফিকুর রহমান। কিন্তু তিনিও টিকেট নিশ্চিতকরণের কোনো বার্তা পাননি।
২৯ মার্চ পর্যন্ত টিকেটের টাকা ফেরত না পেয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সে যান তিনি।
হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "উনাদের (স্টার সিনেপ্লেক্স) কাস্টমার কেয়ার নম্বরে কল করেছি অনেকবার, কেউ ধরে না। ই-মেইল করেছি, কোনো উত্তর পাইনি। এটা কেমন সার্ভিস! কাউন্টারে এসে কথা বলার পর তারা বলছে সাত দিনের মধ্যে পাব। এটা কোন ধরনের স্ক্যাম, আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।"
২৭ মার্চ বসুন্ধরা শাখায় ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমা দেখতে যান তাবাসসুম মুন। তিনি সিনেমাটি দেখতে এর আগে ২৫ মার্চেরও টিকেট কেটেছিলেন। কিন্তু একই ধরনের ঘটনা ঘটে তার সঙ্গেও।
টিকেটের টাকা ফেরত পাননি মুন। তবে নতুন করে টিকেট কেটে সিনেমা তিনি দেখছেন।
মুন বলেন, "অনলাইনে টিকেট কেটে পাইনি, পরে সরাসরি এসে টিকেট কাটলাম। বলা হচ্ছে এক সপ্তাহের মধ্যে রিফান্ড দিবে। ঈদের সময় যদি ঈদের সিনেমা দেখতে না পারি পরে রিফান্ড দিয়ে কী করব। আমাদের রিফান্ডের বদলে টিকেট দেওয়া হোক। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। আমাদের নতুন করে টিকেট কাটতে হচ্ছে।"
তবে কেবল টিকেট না পাওয়ার অভিযোগ নয়, জায়গা ভেদে টিকেটের দামে হেরফের নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন এক দর্শক।

আব্দুল্লাহপুর থেকে বসুন্ধরা শাখায় সিনেমা দেখতে যান মাহবুব মোর্শেদ।
তিনি বলেন, "উত্তরা সেন্টার পয়েন্ট শাখায় 'দম' সিনেমার টিকেট খুঁজেছিলাম, সেখানে টিকেটের দাম ১৮০০ টাকা। এত টাকা দিয়ে তো সিনেমা দেখা সম্ভব না। আর এই শাখায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তাই আসা যাওয়ার কষ্ট হলেও এই জায়গায় এসে সিনেমা দেখা। টিকেটের এই মূল্যের তারতম্যটা ঠিক না। একটা সিনেমা দেখতে যদি পাঁচ হাজার টাকা খরচ করতে হয় তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ সিনেমা দেখব কীভাবে।”
গত ২৩ মার্চ অনলাইনে টিকেট কেটে স্টার সিনেপ্লেক্সের মিরপুর সনি স্কয়ার শাখায় সিনেমা দেখতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন আরেক দর্শক তানিয়া হোসেন।
তিনি 'বনলতা এক্সপ্রেস' দেখার জন্য বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের শোয়ের চারটি টিকেট কেটেছিলেন। সময়মত প্রেক্ষাগৃহে গেলেও তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বলা হয় তাদের টিকেট কাটা হয়নি। সব প্রমাণ দেখানোর পর রাত ৮টা ৪০ এর বিশেষ শোয়ে সিনেমা দেখেন।
দর্শকের এই ভোগান্তির অভিযোগ নিয়ে কথা হয় স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, "ঈদের এই বিশেষ সময়ে আমাদের সার্ভারের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিজিটর বা হিট আসার কারণে টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যার ফলে টিকেট বুকিংয়ে জটিলতা বা কনফার্মেশন মেসেজ পেতে দেরি হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্ট কেটে নিলেও টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না।
“বিষয়টি সাময়িক এবং সার্ভার উন্নয়নের কাজ চলছে। পরবর্তীতে আর সমস্যা হবে না বলে আমরা আশা করছি।"
টিকেটের টাকা ফেরত দিতে দেরি হাওয়ার অভিযোগের বিষয় মেসবাহ বলেন, "অনলাইন কাটা টিকেটের টাকা কিন্তু সরাসরি সিনেপ্লেক্সে যায় না, এটার পেমেন্ট হয় তৃতীয় পক্ষের পেমেন্ট গেইটওয়ের মাধ্যমে। টাকা সিনেপ্লেক্সে পৌঁছাতে সময় লাগে। এছাড়াও রিফান্ড প্রক্রিয়াতে বেশকিছু বিষয় যাচাই করতে হয়। এই কারণে টাকা ফেরত পেতে ৩-৪ কার্যদিবসের বেশি সময় লাগছে। তবে সবাই রিফান্ড পেয়ে যাবে। আমরা টাকা দিচ্ছি না, এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যাবে না।"
টিকেটের দামের তারতম্য নিয়ে এই কর্মকর্তার ভাষ্য, তাদের বিভিন্ন শাখা বুঝে কাজটি করা হয়।
“সেসব হলের সিটের ধরন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্ক্রিন, সাউন্ড সিস্টেম উন্নত, তাই সেই জায়গার টিকেটের দাম বেশি রাখা হয়।"
দর্শকের ভোগান্তি নিয়ে মেসবাহ বলেন, “আমাদের দিক থেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করছি, এই সাময়িক অসুবিধা দর্শকরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দর্শকের ভালোবাসা নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই। সার্ভার সমস্যা অনেকটা কেটে গেছে, আশা করছি আরও সমাধান হয়ে যাবে।
ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে এবার মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি সিনেমা। সিনেমাগুলো হলো রেদওয়ান রনির ‘দম’, তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স’, মেহেদী হাসানের ‘রাক্ষস’ ও রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’।