ঐন্দ্রিলার আর জীবনে ফেরা হল না

কোমা থেকে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন পশ্চিমবঙ্গের ছোট পর্দার এই অভিনেত্রী।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Nov 2022, 12:02 PM
Updated : 20 Nov 2022, 12:02 PM

মস্তি্ষ্কে রক্তক্ষরণের পর ঐন্দ্রিলা শর্মা চলে গিয়েছিলেন কোমায়, তিন সপ্তাহ ধরে ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে তাকে জীবনে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভারতের এই বাঙালি অভিনেত্রী।

রোববার দুপুরে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঐন্দ্রিলার জীবনাবসান ঘটে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। এই অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর।

গত ১ নভেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর ঐন্দ্রিলাকে ভর্তি করা হয় এই হাসপাতালে। কোমায় চলে গেলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখতে বাধ্য হয়েছিল চিকিৎসকরা।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে কোমায় থাকা অবস্থায় মারা যান ঐন্দ্রিলা। শনিবার সকালে বেশ কয়েকবার তার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়েছিল। তাতে শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটে। রোববার সকালেও অনেকবার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হলে সেই ধাক্কা সামলাতে পারেননি তিনি।

ঐন্দ্রিলার অকাল মৃত্যুতে শোক জানিয়ে পশ্চিমবচঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “মারণরোগের বিরুদ্ধে অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি যেভাবে লড়াই করেছেন, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার ট্রাজিক প্রয়াণ অভিনয় জগতের এক বড় ক্ষতি।”

ঐন্দ্রিলা ২০১৫ সাল একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। ২০২১ সালে ফুসফুসে টিউমার হয়। দু’বার ক্যানসারজয়ী রোগকে উপেক্ষা করে উদ্যম নিয়ে চলছিলেন।

২০১৭ সালে ‘ঝুমুর’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় অভিষেক হয় ঐন্দ্রিলার। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি সিরিয়াল হল ‘ঝুমুর’, ‘মহাপীঠ’ ‘তারাপীঠ’, ‘জীবনজ্যোতি’, ‘জীবনকথা’, ‘জিয়নকাঠি’। টিভি তারকা হিসেবে এ বছর ‘অসাধারণ প্রত্যাবর্তন’ বিভাগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সম্মাননা পেয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা।

এই অভিনেত্রীর প্রতিটা লড়াইয়ে সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিলেন প্রেমিক অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী। ক্যানসার জয় করে ফিরে আসার পর অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, সব্যসাচীর মুখটা যেন তার ওই যন্ত্রণায় উপশমের মতো।

সোশাল মিডিয়ায় কয়েকদিন আগে অভিনেত্রীর শেষ পোস্টটাও ছিল সব্যসাচীকে নিয়েই। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে কিছুদিন কাটানোর পর প্রেমিকাকে নিয়ে সব্যসাচী লিখেছিলেন, “নিজের হাতে নিয়ে এসেছিলাম। নিজের হাতে করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাব। এর অন্যথা কিছু হবে না।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক