বর্ষীয়ানদের বাংলা চলচ্চিত্রে ফিরে পাওয়ার বিষয়টি পরিচালক-প্রযোজকদের কাছে ধরা দিয়েছে বিশেষ ‘প্রাপ্তি’ হিসেবে।
Published : 03 Apr 2025, 10:45 AM
অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর, রাখী গুলজার, মৌসুমী চক্রবর্তী এবং অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী দশকের পর দশক ধরে ভারতে হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ঘাঁটি গেড়ে নিজেদের ক্যারিয়ার শক্তপোক্ত করলেও, লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের সঙ্গে তাদের প্রথম পরিচয় কলকাতার বাংলা সিনেমা দিয়ে।
কিংবদন্তী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, তরুণ মজুমদারদের মত খ্যাতিমান নির্মাতারা যখন এই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের খুঁজে এনেছিলেন তাদের সিনেমার জন্য, তখন এই অভিনয় শিল্পীদের কেউ কেউ বয়স ১৫ পার করেনি, কেউ বা সদ্য পা রেখেছেন তারুণ্যে।
সিনেমায় অভিনয়ে হাতিখড়ির নিয়ে বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে এসব অভিনয় শিল্পীরা বড় পরিসরে কাজ করার জন্য এক সময়ে পাড়ি জমান বলিউডে, থিতু হন সেখানেই। সেখানে তাদের একেকজনের ক্যারিয়ারের মেয়াদ পেরিয়েছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময়ে তারা মাঝেমধ্যে বাংলা সিনেমায় কাজ করলেও হালের দুনিয়ায় শর্মিলা, রাখী, মৌসুমী এবং মিঠুনকে প্রায় পরপর সময়ে পাওয়া যাচ্ছে বাংলা সিনেমায়।
বিশেষ করে বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে কলকাতার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি পেয়েছে আগের তুলনায় বেশি। শর্মিলা ঠাকুরও প্রায় ১৬ বছর পর কিছুদিন আগে একটি বাংলা সিনেমার কাজ শেষ করেছেন। চলতি বছরেই রাখী গুলজার ও মৌসুমী চক্রবর্তীর সিনেমা আসছে।
আনন্দবাজার লিখেছে, বর্ষীয়ানদের বাংলা চলচ্চিত্রে ফিরে পাওয়ার বিষয়টি পরিচালক-প্রযোজকদের কাছে ধরা দিয়েছে বিশেষ ‘প্রাপ্তি’ হিসেবে।
কলকাতার নির্মাতাদের কথায় মিঠুন, শর্মিলা, রাখী, ভিক্টর, মৌসুমী-তারা প্রত্যেকে ‘জাতীয় মুখ’। এই ধরনের শিল্পীকে মাথায় নিয়ে চিত্রনাট্য লেখা হলে, বক্স অফিস নিয়ে অনেকটাই ‘নির্ভার থাকা যায়’ বলে মনে করছেন তারা।
কেউ বলছেন বর্ষীয়ান অভিনেতাদের ফিরিয়ে আনার অর্থ বাংলা সিনেমা অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রির সমৃদ্ধি বাড়ানো।
‘নিজের ভাষায় অভিনয়ে যে আনন্দ আছে, সেটা কোথাও আর নেই’
শর্মিলা ঠাকুর প্রথম যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন, তখন কেবল কৈশোরের শুরু। পরিবার কখনও চায়নি বা শর্মিলা ঠাকুরও নিজেও কখনও সিনেমার নায়িকা হওয়ার কথা ভাবেননি।৮০ বছর বয়সে এসে দাঁড়িয়ে এই অভিনেত্রী পেছনের দিকে তাকিয়ে ভাবেন, কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে সে সময় যদি দেখা না হত, তার জীবন হয়ত এগিয়ে যেত অন্য কোনো পথ ধরে। শর্মিলার ভাষ্য, সত্যজিৎ তার জীবনের গতিপথ ‘বদলে দিয়েছিলেন’।
১৯৫৯ সালে মুক্তি পায় ‘অপুর সংসার’, শর্মিলা তখন ১৩। পরে বলিউডে ক্যারিয়ার গড়েন শর্মিলা। তার অভিনীত প্রথম হিন্দি সিনেমা ছিল শক্তি সামন্ত পরিচালিত ‘কাশ্মীর কি কালি’।
এরপর একে একে অভিনয় করেন ‘অনুপমা’, ‘অ্যান ইভিনিং ইন প্যারিস’, ‘আরাধনা’, ‘দাগ’, ‘চুপকে চুপকে’র মত সুপারহিট সিনেমায়। ২০০৯ সালে কলকাতার 'অন্তহীন' শর্মিলাকে পেয়েছিলেন বাংলা ভাষাভাষীর দর্শকরা। এরপর দীর্ঘ বিরতি। ১৬ বছর তিনি ফিরে তাকান বাংলা সিনেমার দিকে। সুমন ঘোষের পরিচালনায় 'পুরাতন’ সিনেমার মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় ফিরছেন শর্মিলা ঠাকুর।
‘পুরাতন’ সিনেমার অভিনেত্রী ও প্রযোজক ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেছেন, তার সিনেমায় শর্মিলার অভিনয় এক কথায় ‘বিশাল পাওয়া’। কেবল শর্মিলা নয়, অন্যান্য জ্যেষ্ঠ অভিনয় শিল্পীদের অংশগ্রহণও সিনেমার জন্য ‘ভালো’ বলে মনে করেন তিনি।
ঋতুপর্ণা বলেন, “বর্ষীয়ান অভিনেতারা তো আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে অনেক কিছু দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কাজ করা বা তাদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার সুযোগ পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।“
ঋতুপর্ণার কথায় পুরনো দিনের অভিনেতাদের বাংলা সিনেমার দর্শকরা ‘খুঁজছেন’।
“দর্শকরা সেই প্রিয় পুরনো অভিনেতাদের পর্দায় দেখতে পছন্দ করেন। শর্মিলাজির অল্প বয়সের ছবি দর্শকের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু আজ বয়সে এসে তিনি অভিনয় করলে তা দেখার আগ্রহ দর্শকদের মধ্যে অবশ্যই থাকবে। তার চেহারার পরিবর্তন, অভিনয়ের ধার, সবটাই উপভোগ করতে চান দর্শক।’’
এই সিনেমায় কাজ করে তৃপ্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন শর্মিলা ঠাকুর।
তিনি বলেন, “এই সিনেমাটা করে আমার এত ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিনয়। এখন জানি না দর্শকের কেমন লাগবে। আর একটা ব্যাপার হল, আমার স্ক্রিপ্টটা খুব ভালো লেগেছে। এই সিনেমায় যে ধরনের রোল করেছি, সেটা পড়ে আমার বেশ লেগেছে। আর কাজ করেও খুব আনন্দ পেয়েছি।
“কারণ নিজের ভাষায় অভিনয়ে যে আনন্দ আছে, সেটা হিন্দিতে বা ইংরেজিতে করে সেরকম নেই। সেই জন্য এই ছবিটা আমার খুবই স্পেশাল। আর দর্শকের যদি ভালো লাগে, আমি খুব খুশি হব।
তবে কেবল শর্মিলা নয়, ঋতুপর্ণা জানিয়েছে এর আগে তিনি ভিক্টর ব্যানার্জি, মিঠুন চক্রবর্তী এবং মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়েরও সঙ্গে অভিনয় করেছেন।
বর্ষীয়ান অভিনেতাদের নিয়ে কাজের এই উদ্যোগ ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন কোনও ‘ধারা’ শুরু করতে পারে কী না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন ঋতুপর্ণা।
ঋতুপর্ণার কথায়, “এই উদ্যোগ নেওয়ার পরে একে একে জ্যেষ্ঠদের নিয়ে আরও সিনেমার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শর্মিলাজির পর ভবিষ্যতে আরও বয়স্ক শিল্পীদের সঙ্গে কাজের ইচ্ছে রয়েছে আমার। যারা বর্ষীয়ান অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করছেন তাদের আমি সাধুবাদ জানাতে চাই।“
‘পুরনো অভিনেতাদের নিয়ে কাজের ট্রেন্ড তো আমিই শুরু করেছি’
যার নামের সঙ্গে জুড়ে আছে ডিস্কো ডান্সার, সেই মিঠুন চক্রবর্তী সিনেমায় আসেন ১৯৭৬ সালে; ২৬ বছর বয়সী সেই তরুণ সে সময় জড়িয়েছিলেন রাজনীতিতে।
প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ সিনেমার মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্র জগতে আত্নপ্রকাশ করেন এ অভিনেতা। প্রথম সিনেমাতেই অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান মিঠুন। বদলে যাওয়া জীবনে পুরোদস্তুর অভিনেতা হয়ে যান মিঠুন।
এরপরে বলিউডে নির্মাতারাও তাকে নিয়ে একের পর এক কাজ করেন। হিন্দি সিনেমায় যশ-খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে করেছেন বাংলা সিনেমাও।
তবে কয়েক বছর ধরে বাংলা সিনেমায় নিয়মিত হয়েছেন মিঠুন। আগামীতে মুক্তি পাবে মিঠুনের নতুন সিনেমা ‘শ্রীমান ভার্সেস শ্রীমতী’।
বাংলা সিনেমায় বর্ষীয়ানদের কাজের নতুন ধারা তৈরির রাস্তা ‘তিনিই দেখিয়েছেন’ বলে ভাষ্য মিঠুনের।
তার কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে পুরনো অভিনেতাদের নিয়ে কাজের ট্রেন্ড তো আমিই শুরু করেছি। সিনেমায় যখন বাকিরা আমাকে বয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করতে দেখলেন, তখন তারাও বললেন, ‘মিঠুনদা করছে মানে আমরাও করতে পারি।“
এখন কেন পুরনোদের ফিরিয়ে আনতে চাইছেন নির্মাতারা, তা নিয়েও মিঠুন তার নিজস্ব ভাবনা তুলে ধরেছেন আনন্দবাজারের কাছে।
তিনি বলেন, “যাদের বয়স এখন পঞ্চাশের কোঠায়, তারা বয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করতে নারাজ। তাই কলকাতার সিনেমা জগতে এখন পুরনো মুখেদের চাহিদা দেখা যাচ্ছে। এমন অনেক অভিনেতা রয়েছেন, যাদের রং করা কালো চুলের পিছনে ভর্তি সাদা চুল। অথচ তারা বয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করবেন না!’’
রাজ চক্রবর্তীর সিনেমা ‘সন্তান’ মুক্তি পায় গত বছরের শেষে, যে সিনেমার চিত্রনাট্য রাজ লিখেছিলেন মিঠুনকে ভেবে।
বর্ষীয়ান অভিনেতাদের নিয়ে কাজকে ইতিবাচক দিক থেকেই দেখতে চাইছেন রাজ।
রাজের কথায়, “এই বড় মাপের তারকাদের রাজি করানো আমাদের মত পরিচালকের কাছে স্বপ্নের মত। কারণ তারা তো সব চিত্রনাট্যে রাজি হবেন না। তাই পরিচালকদেরও সেই ভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। যে অভিনেতাদের প্রসঙ্গ উঠে আসছে, আমি তো সুযোগ পেলে তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কাজ করতে চাই।’’
রাখী ফিরছেন ‘আমার বস’ সিনেমায়
১৯৬৭ সালে ২০ বছর বয়সে অভিনয় শুরু করা রাখী গুলজার সিনেমার জগত থেকে অনেকটাই সরে যান আশির দশকের মাঝামাঝিতে। মাঝে ফিরেছিলেন প্রয়াত নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমা ‘শুভ মহরৎ’ এবং গৌতম হালদারের ‘নির্বাণ’ দিয়ে। মাঝে আবার প্রায় হারিয়েই গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। সিনেমা সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোয় তার দেখা পাওয়া যেত না। মুম্বাইয়ে নিজের গড়া ফার্ম হাউসে একাই থাকেন তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর কলকাতার পরিচালক জুটি নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখার্জির নতুন সিনেমার মাধ্যমে বাংলার পর্দায় ফিরছেন রাখী। মে মাসে মুক্তি পাবে রাখীর ‘আমার বস’ সিনেমা।
মৌসুমীর সিনেমা ‘আড়ি’
চলচ্চিত্রে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের অভিষেক তরুণ মজুমদারের পরিচালনায় ১৯৬৭ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ সিনেমা দিয়ে। তখন মৌসুমী স্কুলের গণ্ডি পার হননি, বয়স ১৫। এরপর আরো কয়েকটি বাংলা সিনেমা করে বাহাত্তরে হিন্দি সিনেমা ‘অনুরাগ’ দিয়ে বলিউডে পা রাখেন কিংবদন্তী গায়ক সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ মৌসুমী।
বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে বহু কাজ করলেও এই অভিনেত্রীর মূল ক্যারিয়ার দাঁড়িয়ে যায় বলিউডে। তিনি যেমন উত্তম কুমারের বিপরীতে বাংলা সিনেমায় যেমন কাজ করেছেন, তেমনি হিন্দিতে অমিতাভ বচ্চন এবং রাজেশ খান্নার মত নায়কদের নায়িকাও হয়েছেন তিনি।
গত দেড় দশকের মধ্যে মৌসুমী বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে যা যা করেছেন, সেগুলোর মধ্যে ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গয়নার বাক্স’ দারুণ সাড়া তোলে।
এবার নুসরাত জাহান এবং যশ দাশগুপ্ত প্রযোজিত ‘আড়ি’ সিনেমায় আগামীতে দেখা যাবে মৌসুমীকে।
‘জ্যেষ্ঠদের উপস্থিতি দর্শকের কাছেও বাড়তি প্রাপ্তি’
বর্ষীয়ান অভিনেতাদের উপস্থিতি নিয়ে খুশি অভিনেত্রী নুসরাত জাহান।
নুসরাত বলেছেন, বাঙালি অভিনেতা, যারা জাতীয় পর্যায়ে এক সময় বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন, বর্তমান সময়ে বাংলা সিনেমায় তারা কী চমক হাজির করবেন তা নিয়ে দর্শকের মধ্যে কৌতূহল থাকে।
তিনি বলেন, “আমাদের সিনেমায় মায়ের চরিত্রে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় ছিলেন আমাদের একমাত্র পছন্দ। চিত্রনাট্য শুনে তিনি যে আমাদের সিনেমায় অভিনয় করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’’
নুসরাত মনে করেন মৌসুমী এই সিনেমায় নিজেকে ‘উজাড় করে দিয়েছেন’।
“দীর্ঘ দিন পর দর্শকের কাছেও সেটা বাড়তি প্রাপ্তি হতে চলেছে।“
বর্ষীয়ান তারকারা কি পর্দায় নতুনদের কোণঠাসা করে দেন? রাজ সেটি মানতে নারাজ।
রাজ বলেন, “মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে শট দেবেন জানলে, একজন নবাগত অভিনেতাও বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে ফ্লোরে আসেন। মিঠুনদা তো ফ্লোরে বার বার ঋত্বিক, শুভশ্রী এবং অহনার প্রশংসা করতেন। সেটা অভিনেতা হিসেবেও প্রত্যেককে অনুপ্রাণিত করত এবং তার ফলে সামগ্রিক অভিনয়ের মানও উন্নত হত।’’
পরিচালক অভিজিৎ সেন ক্যারিয়রে শুরু থেকেই বর্ষীয়ান অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। তার ‘টনিক’ ও ‘প্রধান’ সিনেমায় দীপক অধিকারী দেবের সঙ্গেই পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কাজ করেছেন। এই পরিচালকের ‘প্রজাপতি’ সিনেমায় বাবার চরিত্রে ছিলেন মিঠুন। ‘প্রজাপতি’ সিনেমা করে মিঠুন সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন ফিল্মফেয়ার বাংলায়।
অভিজিতের কথায়, গল্পের প্রয়োজনেই চরিত্রাভিনেতা নির্বাচন করা হয়। পুরনো দিনের শিল্পীর সঙ্গে আজকের শিল্পীদের মিশ্রণ, এই ভাবে বিষয়টাকে দেখা উচিত নয়। গল্পই তো ঠিক করে দেয় সব কিছু।’’
অভিজিৎ বলেন, “টনিকের ক্ষেত্রে পরাণদার এবং দেবের জুটি তো সেই কারণেই দর্শকের মন ছুঁয়েছিল। শকুন্তলা বড়ুয়াও তো ছিলেন। তিনিও তো এক সময় বাংলার নামকরা অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন।’’
অভিজিতের মত একই কথা বরেছে ‘শ্রীমান ভার্সেস শ্রীমতী’ সিনেমার পরিচালক পথিকৃৎ বসু।
তিনি বলেন, “সিনেমার গল্প তার অভিনেতাদের খুঁজে নেয়।“
বর্ষীয়ান অভিনেতাদের নিয়ে সিনেমা করলে আলাদা একটা দর্শকবৃত্ত তৈরি হয়, সে কথাও সমর্থন করেছেন পথিকৃৎ।