জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আলাদা তহবিল চান তথ্যমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশসহ অনেক দেশের জনজীবনে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক, বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Nov 2022, 05:44 PM
Updated : 12 Nov 2022, 05:44 PM

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেখা দেওয়া দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে বিশ্ব জলবায়ু তহবিল থেকে আলাদাভাবে অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

মিশরের শার্ম আল শেখ শহরে চলমান ২৭তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে মূল সম্মেলনের সমান্তরালে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে এক অধিবেশনে তিনি এ দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটার এইড 'বাংলাদেশের পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন অবকাঠামোর দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতির ওপর আলোকপাত' শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে।

এতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রথমে অনেকে স্বীকারই করতে চায়নি। অথচ বাংলাদেশসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অনেক দেশের জনজীবনে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো বা অভিযোজনের জন্য বরাদ্দ করা তহবির থেকে নয়, এজন্য আলাদা খাত তৈরি করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

কপ২৭ এ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, “আমরা সবাই এখানে ভালো ভালো কথা বলছি, কিন্তু যুদ্ধ যদি বন্ধ না হয় তাহলে জলবায়ু অর্থায়নের কী হবে? অর্থাৎ আমরা যদি সত্যিই পৃথিবীকে রক্ষা করতে চাই, তবে অবিলম্বে ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।”

বাংলাদেশের পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের উপর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাবের মধ্যে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ও পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অসময়ী বৃষ্টিপাত, খরা ও উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত জলের হানা বেড়ে যাওয়া, নদীতীর ক্ষয়, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ, শহরাঞ্চল ও জলাধার সন্নিকট এলাকায় হঠাৎ বন্যায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেন তিনি।

ওয়াটার এইডের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহানের সঞ্চালনায় পরিবেশবিদ সেলিম উল হক, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ কলিন ম্যাককুইস্টান, পরিবেশ গবেষক মো. শামস-উদ-দোহা, বাংলাদেশ ওয়াটার এইডের পরিচালক পার্থ হাফেজ শাইখ ও সিনিয়র এডভোকেসি অফিসার আদনান কাদের উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক