‘বেলআউট’ চাওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: কায়কাউস

তবে ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ও বাজেট সহায়তা হিসেবে’ আইএমএফের কাছে সহজ শর্তের ঋণ চাওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 06:44 PM
Updated : 27 July 2022, 06:44 PM

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ‘বেলআউট’ চেয়ে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। তবে ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ও বাজেট সহায়তা হিসেবে’ সংস্থাটির কাছে সহজ শর্তের ঋণ চাওয়া হয়েছে।

‘বেলআউট’ সহায়তা চাওয়ার মত পরিস্থিতি বাংলাদেশে তৈরি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের পাঁচ মাসেরও অধিক সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানোর মত পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ আছে।“

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিজ অফিসকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কায়কাউস বলেন, “বেলআউট, এই শব্দ নিয়ে আমার চরম আপত্তি। বেলআউট চাওয়া হয়েছে এমন খবর কোনো কোনো গণমাধ্যম পরিবেশন করছে। বিষয়টা অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং আত্মসম্মানে লেগেছে।“

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে যদি ব্যালেন্স অব পেমেন্টের ঘাটতি বাড়ে, সেজন্য মূলত অর্থ মন্ত্রণালয় আলোচনা সাপেক্ষে সহায়তা চেয়েছে। এটি সহজ শর্তের ঋণ। বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার এ ধরনের ঋণ সহায়তা আইএমএফের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, কোভিডকালীন বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাইকা ও আইএমএফ সবার কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তখন কেউ সমালোচনা করেনি।

তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসের সময় আইএমএফের কাছ থেকে ৭৩২ মিলিয়ন ডলারের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট সহায়তা নেওয়া হয়েছে-সেটার পরিশোধও শুরু হয়েছে। তাহলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমরা এ ধরনের ঋণ সহায়তা নিলে সেটি তো খারাপ কিছু নয়। অপরাধও নয়। আমরা মাথা উচুঁ করে এই ঋণ চাইতে পারি।

আহমদ কায়কাউস বলেন, আইএমএফের কাছ থেকে নিয়মিত চার ধরনের তহবিল সহায়তা পাওয়া যায়। প্রতিবছর সেটি নিয়ে আলোচনা হয়। এবারও ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ও বাজেট সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় সেটি ব্যয় করা হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ায় এখন প্রকল্পনির্ভর ঋণের পরিবর্তে বাজেট সহায়তা ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। এর মানে হচ্ছে পছন্দ মোতাবেক এই টাকা ব্যয় করা যাবে, যা দেশের জন্য ভালো।

‘ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাওয়ার আগেই ভাড়া দিতে হবে’ বলে কেউ কেউ খবর প্রকাশ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সঠিক নয় । উৎপাদনে যাওয়ার আগে কোনো ভাড়া দেওয়া লাগবে না। প্রত্যেকটা বিদ্যুৎকেন্দ্র যতক্ষণ পর্যন্ত উৎপাদনে আসবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোনো ভাড়া দেব না।

বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী এই ব্যবস্থা আছে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানি এবং ৩৫ শতাংশ ব্যয় হয় বিনিয়োগজনিত। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ রাখা দরকার।

তিনি জানান, জ্বালানি তেলনির্ভর অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয় না।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কোনো দেশের কাছ থেকে কম দামে জ্বালানি তেল কেনার সুযোগ থাকলে বাংলাদেশ সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক