আমরা ব্রিকসের ‘বারান্দায়’ অপেক্ষমান: মান্নান
ব্রিকসে যুক্ত হওয়ার আশা ছাড়ছেন না পরিকল্পনামন্ত্রী।
বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশের নিয়ন্ত্রণকারী পাঁচ দেশের জোট ব্রিকসে এবার সদস্য হতে না পারলেও আশা ছাড়ছেন না পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
তার কথায়, “ঘরে ঢুকব, উঠানে নয়- গ্রামের উদাহরণ দিলাম; উঠান থেকে বারান্দা, বারান্দা থেকে রুম। আমরা ব্রিকসের বারান্দায় অপেক্ষমান রয়েছি। আমরা একা নই, আরও কেউ কেউ আছে।”
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন মান্নান।
দক্ষিণ আফ্রিকায় গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে নতুন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আলোচনা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সম্মেলনে যোগও দিয়েছিলেন।
তবে সম্মেলনে নতুন সদস্য হিসেবে যে ছয়টি দেশকে ব্রিকস মনোনীত করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ নেই।
তবে সামনের দিনে বাংলাদেশও ব্রিকস সদস্য হবে- এমন আশা প্রকাশ করে মান্নান বলেন, “ইজিপ্ট পেরেছে, ইথিওপিয়া পেরেছে-ঘরের কাছে আছে… উই শ্যাল অলসো বি দেয়ার, আমরা পূর্ণ আশাবাদী।
“আর আমরা যদি ডিলিটও হই, আমাদের প্রধান ক্ষুধা কিসের? পুঁজির, বিনিয়োগ পুঁজির; এইটা আমাদের ফার্স্ট রিকোয়ারেমেন্ট। আমরা নিউ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ঋণ চাইলে কালকেই পাব।”
ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিউ ডেভলপমেন্ট ব্যাংকে দুই বছর আগে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগদান করেছি, ব্রিকসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প- যেটা আমাদের সঙ্গে লিংকড, সংশ্লিষ্ট। এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এআইবি-এইরম একটা উন্নয়নশীল পুঁজির ব্যাংক; সেখানে আমরা যোগদান করেছি।
“এটার মাধ্যমে আমরা একধাপ এগিয়ে থাকলাম ব্রিকসে যোগদানে। ব্রিকসে আমরা পুরো সদস্য এবার হইনি, আরও কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে। সেগুলো নিয়ে যথারীতি আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।”
“যেহেতু আমরা নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ইতিমধ্যে পূর্ণ সদস্য বাই কন্ট্রিবিউটিং ওয়ান পার্সেন্ট শেয়ার- এটা বিরাট নিউজ। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিপিতে আমরা ওতো বড় শেয়ার নয়। ইভেন পয়েন্ট জিরো জিরো ওয়ান পার্সেন্ট শেয়ার আছে, ব্রিকসে (নিউ ডেভেলপমেন্ট) আমরা ওয়ান পার্সেন্ট শেয়ার নিয়েছি। আমরা এগিয়ে আছি। আরও কিছু প্রসিডিউরারের ব্যাপার আছে, যেগুলা আমাদের করা বাকি,” বলেন তিনি।
মান্নান বলেন, “আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতি টেকসই অবস্থায় আছে বলে আমরা মনে করি। খুব একটা লাফালাফি করা …. যেমন মুদ্রাস্ফীতি খুব ধীরে বেড়েছে, খুব ধীরে নামছে। এইটা আমাদের অর্থনীতির অন্তর্নিহিত স্ট্যাবিলিটির উদাহরণ বলে আমরা মনে করি। এক লাফে উঠে যাওয়া এবং এক লাফে পড়ে যাওয়া এটা ভালো লক্ষণ নয়।
“মূল্যস্ফীতির হারটা যেমন একটু করে কমছে, তেমনই মজুরি হার একটু করে বাড়ছে। ফলে মাঝের যে ফারাক, সেটা কমছে।”
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সফল হওয়ায় একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো হয় বলে জানান মান্নান।
বৈঠকে সরকার প্রধান যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, তার কয়েকটি তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দেশে চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেসব প্রকল্প অচিরেই শেষ হবে, সেসব প্রকল্পে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এবং অহেতুক কোনও অর্থ ব্যয় না করার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”
