সুদহার বাড়ানোর পক্ষে নন অর্থমন্ত্রী

“আমাদের মতো দেশে সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 06:44 PM
Updated : 14 Sept 2022, 06:44 PM

দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উপায় হিসেবে অনেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ানোর কথা বললেও এর পক্ষে নন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এবিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমন মত দেন।

তিনি বলেন, “আমাদের মতো দেশে সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ব্যাংক খাতে সুদের হার ৯ ও ৬ শতাংশ যেভাবে কার্যকর করেছি, তা ভালোভাবেই চলছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজস্ব ও মুদ্রানীতি কাজে লাগানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই কাজটি করে থাকে।”  

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ব্যাংক খাতে সুদের হার ঋণে সর্বোচ্চ ৯ ও আমানতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ কার্যকর আছে। ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতেই সুদহার বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকার মধ্যে গত মাসে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর মূল্যস্ফীতিতে আরেক দফায় উল্লম্ফন ঘটে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়িয়ে বাজারে টাকার সরবরাহ কমানোর কথা বলছেন কেউ কেউ।

অপর দিকে বর্তমানে যেভাবে ডলারের দাম বেঁধে দেওয়া হচ্ছে ভবিষ্যতে তা না করে প্রধান এ বিদেশ মুদ্রার দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট চালু করার চিন্তা আছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো যেভাবে মুদ্রাবাজার নিয়ে কাজ করে, সেভাবেই চিন্তা করব। তারা যেভাবে ঠিক করে দেয়, সেভাবেই ঠিক করে দেব এবং আমরা ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক লেনদেনে যাব।”

বর্তমানে যেভাবে রিজার্ভ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে তা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদেরকে দেখতে হবে যে, বছরে আমাদের ঋণ পরিশোধের জন্য কত খরচ করতে হয়, আমদানির জন্য কত খরচ করতে হয়। রিজার্ভটা ওইটার সাথে সম্পর্কিত।

“এসব বিষয় চিন্তা করে বলা যায়, এখন আল্লার রহমতে আমাদের অবস্থান ভালো। এক্সপোর্ট বাড়ছে, ইমপোর্ট কমছে। পাশাপাশি আমাদের রেমিটেন্স অনেক গতি নিয়ে বাড়ছে। আমরা এক বছরে রেমিটেন্স অর্জন করেছিলাম ২৪ বিলিয়ন ডলার, মাসে ২ বিলিয়ন ডলার করে। এখনও মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের ওপরে চলে গেছে।

“এই ডলারের জন্য আমাদের কোনো খরচ করতে হচ্ছে না। যারা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন, তাদেরকে আমরা স্থানীয় মুদ্রায় পেমেন্ট করি।“

রেমিটেন্সের এ হার বজায় থাকলে রিজার্ভ আবার ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে বলে তার আশা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক