প্রতিবন্ধিতার জন্য মাসে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা দাবি

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির করমুক্ত আয় সীমা ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকায় উন্নীত করাসহ আরো বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে বি-স্ক্যান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Feb 2024, 03:57 PM
Updated : 22 Feb 2024, 03:57 PM

আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য প্রতিবন্ধিতার মাত্রাভেদে মাসে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেইঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)। 

এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির করমুক্ত আয় সীমা ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকায় উন্নীত করাসহ আরো বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

বি-স্ক্যান এর সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুবের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করে এসব দাবি তুলে ধরেন।   

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। 

বৈঠকের পর সালমা মাহবুব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা অর্থমন্ত্রী মহোদয়কে লিখিত আকারে আমাদের প্রস্তাব তুলে ধরেছি। উনি আমাদের প্রস্তাবগুলো আন্তরিকভাবে শুনেছেন। আগামী বাজেটের আগে প্রয়োজনে অর্থমন্ত্রী আবারো আমাদেরকে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে পারেন।” 

বৈঠকে প্রতিবন্ধীদের সামাজিক সুরক্ষায় সাতটি এবং রাজস্ব সংক্রান্ত নয়টিসহ মোট ১৬টি প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয় বি-স্ক্যান এর পক্ষ থেকে। 

সামাজিক সুরক্ষা খাতে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিবন্ধিতার মাত্রার ভিত্তিতে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে, যেখানে বর্তমানে ৮৫০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়।  

এছাড়া ন্যূনতম ৩ লাখ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা করে শিক্ষা উপবৃত্তি বরাদ্দ করা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভাতা ও উপবৃত্তি উভয়ই বরাদ্দ করা, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রতিবন্ধীদের সুদমুক্ত ঋণ পাওয়র সীমা বৃদ্ধি করা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভাতাপ্রাপ্তিকে নির্ণায়ক হিসেবে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে বি-স্ক্যান। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত ৩০ লাখ প্রতিবন্ধীর ১ শতাংশ হারে গুরুতর ৩০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিগত সহায়তাকারী নিয়োগে প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা করে ভাতা দিতে বাজেটে ২১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। 

রাজস্ব সংক্রান্ত প্রস্তাব 

  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তির করমুক্ত আয় সীমা ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকায় উন্নীত করা।

  • নারী উদ্যোক্তাদের মতো প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদেরকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কর ছাড় দেওয়া।

  •  ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকে ১ হাজার কোটি টাকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উদ্যোক্তা তহবিল গঠন করে সকল তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে সহজশর্তে ৪ শতাংশ সুদে প্রতিবন্ধী উদ্যক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা।

  •  প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঞ্চয়ে উৎসাহিত করতে তাদের সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস-এর উপর ভ্যাট, কর ও সারচার্জ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সকল জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ক্ষেত্রে ১৫ ও ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগের ওপর মুনাফার ধাপসমূহ তুলে নেওয়া।

  • গণপরিবহণ হিসেবে প্রতিবন্ধী প্রবেশগম্য গাড়ি আমদানি উৎসাহিত করতে এসব গাড়ির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি কর মওকুফ করা।

বি-স্ক্যান এর সদস্য মেজর জহিরুল ইসলাম, পরিচালক, ইফতেখার মাহমুদ, সাতারাকুল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বলা বণিক, ঢাকা ডিপিওডি‘র নির্বাহী পরিচালক লাকি আক্তার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের চাকরীজীব আমজাদি হোসেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।