এই ট্রেড ইকনোমিস্ট বলেন, “কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, এখানে দুর্নীতি আছে। এখানে ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা রয়েছে, যেমন অবকাঠামোর ক্ষেত্রে। আমাদের যা আছে, সেটা একুশে শতকের অবকাঠামো নয়।”
Published : 14 May 2023, 09:40 PM
নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ দারুণ করলেও সাফল্যের ‘উৎকৃষ্ট গল্প’ হতে পারেনি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ জায়দি সাত্তার।
গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-পিআরআই এর এই চেয়ারম্যান বলেছেন, দেশে দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব রয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা এখানকার প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ২১ শতকের উপযোগী নয়।
দেশে করহার বাড়ানো প্রয়োজন, তবে বিদ্যমান কর কাঠামো এটি করতে পারবে না বলেও মনে করেন দেশের অন্যতম এই ট্রেড ইকনোমিস্ট।
রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আলোচনা অনুষ্ঠান ‘ইনসাইড আউট’-এ অতিথি হয়ে এসে দেশের অর্থনীতির সার্বিক দশা, সম্ভাবনা আর দুর্বলতার দিকগুলো নিয়ে কথা বলেন জায়দি সাত্তার। এবারের আলোচনার বিষয় ছিল– ‘দ্য ডলার ডিলেমা’।
অর্থনীতি নিয়ে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে জায়দি সাত্তারের। কাজ করেছেন সরকারের সঙ্গে। দেশ বিদেশের বিখ্যাত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। এখন অর্থনীতির গবেষণায় জড়িত।
পিআরআই চেয়ারম্যান মনে করেন, বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ অর্থনীতির সক্ষমতার মধ্যেই আছে। বাংলাদেশ গত এক দশকে বেশ ভালো করেছে। অর্থনীতির সক্ষমতার বিবেচনাতেই দ্রুততম সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ মিলেছে।
তবে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার কৃত্রিমভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করেছে বলে মনে করেন জায়দি সাত্তার। তার মতে, ওই চেষ্টার কারণেই এখন একসঙ্গে ২৫ শতাংশ অবমূল্যায়ন করতে হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উন্নয়ন হলেও হতাশার কারণ কী?
ইনসাইড আউটে ডলার সংকট, ডলারের বদলে অন্য দেশের মুদ্রায় বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন জায়দি। তার কাছে নানা বিষয়ে প্রশ্ন রাখা হয়। এর একটি ছিল এমন– বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও মানুষের মধ্যে তীব্র হতাশার কারণ কী।
জবাবে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে পশ্চিমারা ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বললেও এখন ‘উন্নয়নে সফল’ বলে প্রশংসা করে। উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল দেশের একটি।
“আকারের দিক থেকে এটা ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। ২০৩০ সালে এক ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভোক্তা বাজারের দিক থেকে বিশ্বের নবম শীর্ষ দেশ হওয়ার প্রক্ষেপণ আছে। তার মানে হচ্ছে, বাংলাদেশ সংকেত দেখাচ্ছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে।”
এর পরেই তিনি প্রশ্নের জবাব দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ ‘সাফল্যের গল্প’ হলেও ‘উৎকৃষ্ট গল্প’ নয়। কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, এখানে দুর্নীতি আছে। এখানে ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা রয়েছে, যেমন অবকাঠামোর ক্ষেত্রে। আমাদের যা আছে, সেটা একুশে শতকের অবকাঠামো নয়।”
প্রশাসন, কর ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে মন্তব্য করে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন জায়দি সাত্তার। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা বেশ ভালো করেছি। আমাদেরকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে।”
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির তুলনায় কর আহরণ যে বেশ কম, সেটাও বলেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এটি কেবল ৮ শতাংশ। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায় অনেক বেশি। এমনকি নেপালেও তা ১৮ শতাংশ। কিন্তু এখানে কর কাঠামো যে রকম, তারা কর ডিজিপির হার বাড়াতে চাইলে জনগণের ওপর চাপ তৈরি করবে। সেটি আবার সমস্যা বাড়াবে।
বাংলাদেশে সুশাসনের অভাব থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, এগুলোই মানুষকে হতাশ করে।
‘দূরদর্শী’ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা
জায়দি সাত্তারের দৃষ্টিতে গত ২৫ থেকে ৩০ বছরে বাংলাদেশ ‘দূরদর্শী’ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রেখেছে। এটিই দেশের অর্থনীতিকে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ দিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।
তিনি বলেন, “শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ঘানার মত দেশ হয়ত খেলাপি কিংবা খেলাপি হওয়ার পথে। বাংলাদেশ এমন পরিস্থিতির ধারে কাছে নেই।”
৬৫ দেশ আইএমএফের ঋণ পায়নি, পেয়েছে বাংলাদেশ
ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ খুব অল্প সময়ে ঋণ পেয়েছে বলে মনে করেন জায়দি সাত্তার।
তিনি বলেন, “৬৫টির বেশি দেশ বর্তমানে ঋণের জন্য আইএএফের দরজায় কড়া নাড়লেও প্রত্যাশিত অর্থ পাচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয় প্রতিশ্রুতি এসেছে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ১৫ দিনের মাথায়।
“৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দিতে আইএমএফ বেশি সময় নেয়নি, এই অংকটা অত বড় নয়।”
আইএমএফের এই ঋণ সংকটে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করবে বলে বিশ্বাস করেন এই অর্থনীতিবিদ। পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রকল্প ও বাজেট সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার কথা তুলে ধরেন তিনি।
জায়দি সাত্তার বলেন, “এটা ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্টকে পরিপুষ্ট করবে, তখন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট আরও স্বস্তিপূর্ণ হবে। আমরা আশা করি, এটা করার সম্ভব হবে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ একত্র হতে থাকবে।”
অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের যেসব শর্তে আইএমএফ ঋণ দিয়েছে, সেগুলো পূরণের জন্য বাংলাদেশকে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে বলে মনে করছেন জায়দি সাত্তার।
তিনি বলেন, “বর্তমানে ৩০ বিলিয়নের কিছু নিচে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। যা দিয়ে আনুমানিক পাঁচ-সাড়ে পাঁচ মাসের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। মোট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে নেট রিজার্ভের কথা বলছে আইএমএফ।
“নেট রিজার্ভ বর্তমানে ২২ বিলিয়ন ডলারের মত। জুনের মধ্যে এটাকে ২৪ বিলিয়ন ডলার করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আইএমএফের। বাংলাদেশে এই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইএমএফ তাদের ঋণের দ্বিতীয় চালান ছাড় করার কথা রয়েছে।
“আগামী বছরের মার্চে তৃতীয় কিস্তি পাওয়ার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট এই বাজেটে কী ঘটে আমাদেরকে দেখতে হবে। সরকার সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে আইএমএফের সঙ্গে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করেছে কি-না।”
বাংলাদেশের ঋণ ‘কমই আছে’
সক্ষমতার ক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমফের টেকসই ঋণ পর্যালোচনার উদাহরণ টেনে জায়দি সাত্তার বলেন, “২০২২ অর্থবছরের টেকসই ঋণ পর্যালোচনায় বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমফ দেখেছে, বাংলাদেশের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা সহনীয় পর্যায়ে। অবশ্য একটা সময় স্বল্প-ঋণী দেশ হিসাবে বিবেচিত ছিল।
“বাংলাদেশের সরকারি বহিঃঋণের পরিমাণ মোটে জিডিপির ১২ শতাংশ। আর ঋণ সার্ভিসিংয়ের পরিমাণ বছরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ৫ শতাংশ। রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স থেকে এখন বাংলাদেশের আয় হয় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের মত। ঋণ সার্ভিসিংয়ে যে খরচ সেই তুলনায় খুবই কম।”
বিনিময় হার ধরে রাখার চেষ্টার ‘কুফল’
ডলার সংকট জানুয়ারির মধ্যে কাটবে বলে আশ্বাস মিললেও মের মাঝামাঝি সময়েও রিজার্ভ কমছেই। কোথায় ভুল ছিল? এ প্রশ্ন ছিল জায়দি সাত্তারের কাছে।
জবাবে তিনি বলেন, “আপনি যদি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারিত রাখেন, আপনাকে রিজার্ভ হারাতে হবে। এটাই ঘটেছে।
“২০২১-২২ সালের দিকে ৮৫ টাকায় ডলার রাখার জন্য তাদেরকে রিজার্ভ থেকে প্রচুর পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়েছে। এটা এখন পরিবর্তিত হয়েছে।”
বর্তমানে বিনিময় হারকে আংশিকভাবে নমনীয় করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটা বিনিময় হারকে স্থিতিশীল করার পদক্ষেপ। তবে, অন্যান্য বিষয়ও আছে। আমদানির পরিমাণে ব্যাপক বৃদ্ধিতে বাণিজ্য ঘাটতি ঘটেছে বড় আকারে।”
তিনি বলেন, “আমরা একক বিনিময় হারের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। আদর্শ হল, আপনাকে একক বিনিময় হার এবং পরিবর্তনশীল বিনিময় হার রাখতে হবে। এমন পরিবর্তনশীল যে, আপনার রিজার্ভ যাতে একটা পর্যায়ে স্থিতিশীল থাকে।”
বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলারের বিকল্প কী
আন্তর্জতিক বাণিজ্যে ডলারের একাধিপত্য কীভাবে হল, সেই প্রশ্নে জায়দি সাত্তার জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব নেতারাই এটি নির্ধারণ করেন। তবে ডলারকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার না করার অঙ্গীকার থাকলেও এখন তা করা হচ্ছে।
“এটা অঙ্গীকার ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র কারও অ্যাকউন্ট জব্দ করবে না। কিন্তু ভূ-রাজনীতির কারণে এটা ঘটেছে। এর ফলে নতুন চিন্তার উদ্ভব হয়েছে যে, আমাদেরকে ডলারের বিকল্প ভাবা উচিত। কারণ, যে সরকার ডলার ছাপায় ও মালিকানায় আছে, তারা প্রত্যাশার জায়গা নেই যে, তারা ডলারকে অস্ত্র হিসাবে করবে না।”
তবে যে কোনো দেশের মুদ্রাকে রিজার্ভের মুদ্রা হিসাবে ডলারের স্থলাভিষিক্ত হতে হলে সেই অর্থনীতিকে মুক্তবাজার অর্থনীতির দেশ হতে হবে। সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আপনি অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রিত রাখবেন, আর আশা করবেন আপনার মুদ্রা রিজার্ভের মুদ্রা হবে, তা হবে না।”
ইউয়ান ও রুপি দিয়ে বাংলাদেশ বাণিজ্য করতে পারবে?
এই প্রশ্নে পিআরআই চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ যে চীনের ইউয়ান ও ভারতের রুপি দিয়ে দেশ দুটির সঙ্গে বাণিজ্য করতে চায়, তা সহজ হবে না।
“ঐতিহাসিকভাবেই পেমেন্ট ব্যবস্থা বা রিজার্ভের মুদ্রা হিসাবে রয়েছে ডলার। দ্বিতীয়ত, চীনের মুক্ত অর্থনৈতিক বাজার নেই, এটা আরেকটি সমস্যা।
“তারপর, এখানে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্ন আসবে। কারণ, রিজার্ভ কারেন্সি হিসাবে একটি মুদ্রার বিশ্বাসযোগ্যতা দশকের পর দশক ধরে গড়ে উঠে। প্রত্যেক অর্থনীতির যখন সেই মুদ্রার উপর আস্থা তৈরি হয়, তখন সেই তারা বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের ক্ষেত্রে সেই মুদ্রাকে ডিনোমিনাল কারেন্সি হিসাবে গ্রহণ করে।”
তিনি বলেন, “ডলার থেকে অন্য কোনো মুদ্রায় যাওয়ার বিষয়টি অতোটা সহজ নয়। অন্তত এই সময়ে কোনো প্রকৃত গতিশীলতা আমি সেদিকে দেখছি না, যেটাকে ডলার থেকে অন্য মুদ্রায় যাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর বলা যাবে।”
ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশর বাণিজ্যের হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “যদি বাংলাদেশ ও ভারত কিংবা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা হত না। আমি ২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করি, ২ বিলিয়ন ডলার আমদানি করি, আপনি ইউয়ানে কিংবা টাকায় বিনিময় করতে পারেন।”
কিন্তু ২০২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার আমদানি করেছে, রপ্তানি করেছে মাত্র ২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, চীন থেকে বাংলাদেশ ২৪ বিলিয়ন ডলারের আমদানি করেছে আর রপ্তানি করেছে ১ বিলিয়ন ডলার।
এই বাস্তবতা তুলে ধরে জায়দি সাত্তার বলেন, “ভারত যদি বলে, ‘ঠিক আছে, আমরা রুপিতে পেমেন্ট নেব’, কিন্তু আপনার আছে মাত্র ২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি, কিন্তু আপনাকে ভারতকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। এটা যদি করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশকে ডলার দিয়ে এই রুপির পেতে হবে, কেননা বাংলাদেশতো রুপি মুদ্রণ করে না। এটাই জটিলতা।
“চীনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাংলাদেশ যে ১ বিলিয়ন ডলার চীনে রপ্তানি করে, তারা বলতে পারে আমরা আরও ২-৩ বিলিয়ন ডলার যুক্ত করব, ঠিকাছে আপনারা ৪ বিলিয়ন ডলার ইউয়ান বা স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করতে পারেন।
“তবে আমি সন্দিহান, বাংলাদেশ বাকি ২০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির মূল্য ইউয়ানে গ্রহণ করবে কি না। সুতরাং এটা এখন খুব কঠিন।”
‘রপ্তানি গন্তব্য হোক এশিয়া’
স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে পাওয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বাংলাদেশ ‘খুব ভালোভাবে’ কাজে লাগিয়েছে মন্তব্য করে জায়দি সাত্তার বলেন, ২০২৬ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হলে এই বাণিজ্য অগ্রাধিকারগুলো ধাপে ধাপে চলে যাবে।
“এই বাণিজ্য সুবিধা বেশ প্রভাবক হবে। অবশ্য, আমাদের বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য, এই দুই পক্ষ বলেছে, তারা আমাদের আরও তিন বছর রেয়াতি সময় দেবে।”
পশ্চিমা দেশের জায়গায় এশিয়া বড় রপ্তানি গন্তব্য হতে চলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০৫০ সালের মধ্যে এশিয়া পৃথিবীর অর্ধেক জিডিপি উৎপাদন করবে। সুতরাং বিশ্বের অর্ধেক বাজার হবে এশিয়া।
“তাই, বাংলাদেশকে এখন অপ্রথাগত গন্তব্যের দিকে নজর দিতে হবে। আমাদেরকে এশিয়ায় রপ্তানির জন্য লক্ষ্য স্থির করতে হবে, কারণ এক্ষেত্রে সম্ভাবনা বেশ ভালো।”
জায়দি সাত্তার বলেন, “বাংলাদেশে তৈরি পোশাকে বড় রপ্তানিকারক। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে মৌলিক পোশাকে আমাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। আমাদের রপ্তানি করা ৭০ শতাংশ তৈরি পোশাক মৌলিক। মৌলিক গার্মেন্টেস ক্ষেত্রে বড় অংশ এশিয়ার।
“আমি মনে করি, এশিয়ায় মৌলিক পোশাক রপ্তানি খুব দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে এবং রপ্তানিতে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য তৈরির ক্ষেত্রে পরবর্তী ৫-১০ বছর এশিয়ার বাজারকে লক্ষ্যবস্তু ধরে আগানো উচিত। এক্ষেত্রে সফল হলে তা বেশি সফল হবে।”