“কোরিয়া অর্থায়নে এগিয়ে আসায় মূল সমস্যার সমাধান হয়েছে,” বলে মনে করছেন প্রকল্প পরিচালক আব্দুল ওহাব।
Published : 17 Oct 2023, 08:10 AM
ঢাকায় মেট্রোরেলের আরেকটি রুট গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন) এ অর্থায়নে আরও যুক্ত হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।
নগর পরিবহন খাতের উন্নয়নে প্রকল্পটির জন্য দেশটি কম সুদে ১২৫ থেকে ১৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ দিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একজন কর্মকর্তা।
ঢাকার যানজট নিরসনে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২৫০ কোটি ডলার বা ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। এখন আলোচনা অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়া দেবে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাকি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার যোগান দেওয়া হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।
ওই ইআরডি কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল কাজ পরিচালনার কাজ কোরিয়ার কোনো কোম্পানিকে দিতে হবে, এমন শর্তে এ ঋণ দিচ্ছে দেশটি।
অর্থায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার এগিয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রকল্প পরিচালক আব্দুল ওহাব বলেছেন, “কোরিয়া অর্থায়নে এগিয়ে আসায় মূল সমস্যার সমাধান হয়েছে।”
কোরিয়ার অর্থায়নে এটি হবে মেট্রোরেলের দ্বিতীয় প্রকল্প। কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এমআরটি লাইন-৪সহ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য দেশটির সরকারের সঙ্গে এর আগেও ৩০০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে।
কোন পথে যাবে এই লাইন
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাবতলী থেকে আসাদ গেট ও হাতিরঝিল হয়ে ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ হবে। এর একাংশ থাকবে মাটির ওপরে, একাংশ থাকবে পাতালে।
গাবতলী থেকে আফতাবনগরের আগে পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার লাইন থাকবে পাতালে। এ অংশে মাটির নিচে নির্মাণ হবে ১১টি স্টেশন।
আফতাবনগর সেন্টার থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বাকি ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার থাকবে এলিভেটেড; এ অংশ স্টেশন থাকবে চারটি।
খরচ কত
এডিবির অর্থায়ন দিয়ে নতুন এ রুটের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। অপরদিকে কোরিয়ার ঋণের অর্থ দিয়ে ইলেকট্রো মেকানিক্যাল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে আহ্বান করা হবে উন্মুক্ত দরপত্র। আর ইলেকট্রো মেকানিক্যাল কার্যক্রমের দরপত্রে কেবল কোরিয়ান কোম্পানি অংশ নিতে পারবে বলে ঋণের শর্তে থাকছে বলে জানিয়েছেন ইআরডির সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা।
কোরিয়ার ঋণের পরিমাণ নির্দিষ্ট না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা যেহেতু ইলেকট্রো মেকানিক্যাল অংশে অর্থায়ন করবে, আর এই অংশে কত টাকা ব্যয় হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাই ঋণের অঙ্কও চূড়ান্ত হয়নি।
“ওই অংশে কত খরচ হতে পারে তা নিয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিএমটিসিএল এবং কোরিয়া দুই পক্ষই ব্যয় নির্ধারণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। সেই পরিমাণ অর্থ তারা দেবে।”
কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে এ ঋণ ১৫ বছরের রেয়াতকালসহ মাত্র ০.০১ শতাংশ থেকে ০.০৫ শতাংশ সুদেসহ ৪০ বছর বছরে পরিশোধ করতে হবে।
প্রকল্প অনুমোদন কবে
মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএল এর এক বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক আব্দুল ওহাব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে আমরা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছি। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করতে পারে।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরের মার্চের মধ্যে বিস্তারিত নকশা এবং নতুন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক ঠিকাদার নিয়োগেও আট থেকে নয় মাস সময় লাগে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, “আমরা বসে নেই। ঠিকাদার নিয়োগের আগে যেসব কাজ করতে হবে, সেগুলো এগিয়ে নিচ্ছি।”
মার্চের মধ্যে প্রকল্প অনুমোদন নিতে পারলেও সমস্যা হবে না দাবি করে তিনি বলেন, “ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনায় যে প্রস্তুতি নিতে হবে, তার অন্তত ২০ শতাংশ কাজ আমরা ইতিমধ্যেই শেষ করে ফেলেছি।”
ঢাকার যানজট নিরসনে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ছয়টি রুটে মেট্রোরেল নির্মাণ করতে চায় সরকার।
এর মধ্যে প্রথম রুট এমআরটি-৬ এর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটারে যাত্রী চলাচল শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে প্রকল্পটির মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে কমলাপুর থেকে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, সাইনবোর্ড, চট্টগ্রাম রোড, কাঁচপুর হয়ে মদনপুর পর্যন্ত আরেকটি মেট্রোরেলের রুট এমআরটি-৪ করা হবে। এটির সম্ভাব্যতা যাচাই এখনও শেষ হয়নি।
তবে এ রুটে মেট্রোরেল নির্মাণে গত ৪ মে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বাংলাদেশ সরকার ও কোরিয়া সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ২০৩০ সালের রুটটি চালু করতে চায় সরকার।