সরকারি গুদামে মজুদ ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টন খাদ্যশস্য: মন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Jan 2023, 03:43 PM
Updated : 11 Jan 2023, 03:43 PM

দেশে সরকারি খাদ্য গুদামে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হিসাব, সরকারি খাদ্য গুদামে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৪ মেট্রিক টন গম, ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৩২১ টন চাল এবং ১ হাজার ৩৮১ টন ধান মজুদ আছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের ৩ লাখ মেট্রিক টন ধান ও ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬ মেট্রিক টন ধান ও চালকল মালিকদের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা সরকারের রয়েছে। এর মধ্যে জি-টু-জি পদ্ধতিতে ভারত, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন চাল সরকারি সংরক্ষণাগারে জমা হয়েছে।

বেসরকারি পর্যায়ে ৪৩১টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথাও সংসদকে জানান খাদ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে জি-টু-জি পদ্ধতিতে রাশিয়া এবং ইউক্রেন ও বুলগেরিয়া থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন গম সরকারি গুদামে আছে। অবশিষ্ট চাল ও গম ‘শিগগিরই’ পাওয়া যাবে।

খাদ্য উৎপাদন আমদানির পরিমাণ

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, প্রতিবছর চাল, গম, আলু, পেঁয়াজসহ ১০টি নিত্যপণ্য দেশে কি পরিমাণ উৎপাদিত হয় এবং চাহিদা পূরণে কোন কোন দেশ থেকে কি পরিমাণ আমদানি করতে হয়।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা ৮৮ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন। আর উৎপাদন হয় ১ কোটি ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদিত আলুর ২৫ শতাংশ প্রক্রিয়াজাতকরণে নষ্ট হয়।

দেশে বছরে চালের চাহিদা ৩ কোটি ৫২ লাখ মেট্রিক টন। দেশে উৎপাদন হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা হয়।

গমের উৎপাদন ১০ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা রয়েছে ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টনের। চাহিদা পূরণে সিআইএসভুক্ত দেশ, কানাডা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া থেকে গম আমদানি করা হয়।

ভোজ্য তেলের বার্ষিক চাহিদা ২০ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু দেশে উৎপাদিত হয় ২ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আমদানি করা হয়।

ডালের বার্ষিক চাহিদা ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। দেশে উৎপাদিত হয় ৮ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, নেপাল ও তুরস্ক থেকে ডাল আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা হয়।

দুধের চাহিদা বছরে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু দেশে উৎপাদিত হয় ১ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দুবাই, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ড থেকে দুধ আমদানি করা হয়।

পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৫ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় ৩৬ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়। চাহিদা পূরণে ভারত, মিয়ানমার, মিশর ও তুরস্ক থেকে আমদানি করতে হয়।

রসুনের চাহিদা ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় ৭ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদিত রসুনের ১০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাতকরণে ক্ষতি হওয়ায় চাহিদা পূরণে ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা হয়।

আদার চাহিদা বছরে ৩ লাখ মেট্রিক টন, দেশে উৎপাদিত হয় ১ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন। বাকিটা ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা হয়।

এছাড়া ভুট্টার বার্ষিক চাহিদা ৬৯ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। দেশে উৎপাদিত হয় ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, তুরস্ক, ভারত ও সিআইএসভুক্ত দেশ থেকে ভুট্টা আমদানি করা হয় বলে সংসদকে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্য ঘাটতি ৩০ হাজার ৯৬১ মিলিয়ন ডলার

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিমের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৯৬০ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার।

তিনি জানান, চীন থেকে আমদানি করা হয় ১৮ হাজার ৫০৯ মিলিয়ন ডলার। রপ্তানি করা হয় ৬৮৩ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ হাজার ৮২৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার।

ভারত থেকে ১৩ হাজার ৬৮৯ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার আমদানির বিপরীতে ১ হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করা হয়। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ১১ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, কাতার, সৌদি আরব, জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

মহামারীকালে ফিরেছেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার প্রবাসী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ সংসদকে জানান, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের হিসাবে, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ লাখ ৮ হাজার ৪০৮ জন এবং ২০২১ সালের মে পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৪৯৪ জন কর্মী আউট পাস নিয়ে দেশে ফেরত এসেছেন। 

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মীদের আর্থ-সামাজিক পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭০৬ জনকে ৪২৯ কোটি ৫৯ কোটি পুনর্বাসন ঋণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫২ হাজার ৭৪ জনকে বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ১ হাজার ১০৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা অভিবাসন ঋণ দেওয়া হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক