২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট জনবলের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2022, 11:11 PM

Updated : 02 Aug 2022, 02:52 PM

একইসঙ্গে দেশের তৃণমূল পর্যায়েও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যক্রম পরিচালনায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়নের কথাও বলেছেন তারা।

বুধবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব পরামর্শ দেন।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশন্স ইন বাংলাদেশ শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।

পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, কার্বন নি:সরণ বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর উঞ্চায়ন যে বেড়ে যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশ দায়ী মাত্র শুন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। কিন্তু সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি।

“বর্তমান সরকার ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নি:সরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।“

তিনি বলেন, স্বল্প মেয়াদি হিসেবে আমরা প্রতিবছরের বাজেটে প্রায় ২৫টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে কার্বণ নি:সরণ কমানোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আবার এর প্রভাবের মধ্যেও মানুষ যেন বেঁচে থাকতে পারে সেজন্য উপকূলীয়সহ বিভিন্ন অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন পরিচালনা করা হচ্ছে।

আবার মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমেও অর্থায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে ২০১৮ সাল থেকে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও কার্বন নি:সরণ কমাতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৮ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করা হবে, যোগ করেন ড. আলম।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে পিআরআই এর জ্যেষ্ঠ ফেলো ড. হাসান মইনুদ্দিন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি দুপক্ষেরই অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এটি সফলতা পাবে।

“এ কার্যক্রমের আওতায় বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এবং ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের ওপর আরও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।“

তিনি বলেন, সরকারের যেসব মন্ত্রণালয় জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় জড়িত এসব মন্ত্রণালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট জনবলের দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। 

জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় ফসল, বসতভিটা ও পারিবারিক সম্পদের উপর বীমা পলিসি চালুর উদ্যোগ নেওয়া খুব জরুরি বলে তিনি মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশে নতুন করে যেসব অবকাঠামোগত প্রকল্প আসবে সেগুলোতে অবশ্যই জলবায়ুর প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এসময় সঠিক উন্নয়ন, ভুক্তভোগী বাছাই এবং উন্নয়ন কৌশলের জন্য স্থানীয় সরকার উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “স্থানীয় বাজেট তৈরি করে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করার ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যাবে।”

তিনি মনে করেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনগুলোকেও এর অন্তর্ভূক্ত করতে হবে,

যাতে শহরের দুষণ কমিয়ে কার্বন নি:সরণ কমানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। প্রান্তিক মানুষগুলো আরও বেশি ঝুঁকিতে। ওই অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যাগে বেশি আক্রান্ত হয়। এছাড়া নদী ভাঙ্গনের কারণেও বিপুল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

“তাই ওই অঞ্চলে সরকারের যে কোনও উন্নয়নের সময় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার চিন্তা মাথায় রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।“

সড়ক উন্নয়নসহ যে কোনও উন্নয়ন সমন্বিতভাবে করতে হবে যাতে ওই অঞ্চলের মানুষের বাড়িঘর ও ফসল যেন রক্ষা করা যায়, যোগ করেন তিনি।

প্যানেল আলোচক হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সিঙ্গাপুর কার্যালয়ের প্রাকটিস ম্যানেজার আবহাস ঝা বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে মডেল মনে করে বিশ্ব।

অতীত অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলাতেও সফল হবে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ প্রতিবছর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তিন থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়ছে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম পারভেজ চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী।