Published : 07 Apr 2026, 09:20 PM
দেশে গত এক দশকে ‘অর্থনৈতিক ইউনিট’ বা স্থায়ী-অস্থায়ীভাবে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো বা ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি; যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখের বেশি।
অর্থাৎ গত ১১ বছরের ব্যবধানে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এসব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তিন কোটির বেশি মানুষ। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। এ হিসাবে এক দশকে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ দশমিক ০৩ শতাংশ।
শুমারিকালে ৮৬ শতাংশ উদ্যোক্তার দাবি, তাদের ব্যবসা পরিচালনার প্রধান বাধা ‘মূলধনের অভাব’।
এর বাইরে সহজে ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা, দক্ষ শ্রমশক্তির অভাব, কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পণ্য বিপণনের সমস্যা, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মতো বাধার কথাও জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে অর্থনৈতিক শুমারির এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিক।
গ্রাম ও শহর দুই জায়গাতেই বেড়েছে
বর্তমানে গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৭৩ দশমিক ৮৬ লাখ এবং শহরে ৪৩ দশমিক ১৭ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে।
অর্থনৈতিক কাঠামো বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, মোট ইউনিটের মধ্যে ৫৩ শতাংশের বেশি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান এবং একটি বড় অংশ মাইক্রো ও কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
মাইক্রো শিল্প রয়েছে ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যেখানে কুটির শিল্প রয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, “একটি দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রমাণনির্ভরতা নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তথ্যনির্ভর পরিকল্পনা এবং জনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক নীতি।
“সেই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক শুমারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর ফলাফল আমাদের অর্থনীতির একটি বিস্তৃত, গতিশীল এবং সম্ভাবনাময় চিত্র তুলে ধরে।”
বাংলাদেশে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। পরে দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০০১ ও ২০০৩ সালে দুই পর্যায়ে এবং তৃতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৩’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের ১০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালিত হয়েছে।
এ শুমারিতে দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা, নিয়োজিত জনবল, মালিকানার ধরন, আইনি ভিত্তি, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য, উৎপাদিত পণ্য ও সেবার ধরন এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ‘কম্পিউটার এসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং’ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলা হয়।