১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্থবছরের সময় বদলাল: সুফল মিলবে? জটিলতা কোথায়?

সেই ১৯৪৮ থেকে চলে আসা জুলাই-জুন সময়কাল ধরে অর্থবছর গণনার পদ্ধতি বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

অর্থবছরের সময় বদলাল: সুফল মিলবে? জটিলতা কোথায়?
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে ১১ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অধিবেশন কক্ষে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিডিনিউজ২৪

হামিমুর রহমান ওয়ালিউল্লাহ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2026, 08:48 AM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

পঞ্জিকার পাতায় তিন মাস এগিয়ে আসছে অর্থবছরের হিসাব নিকাশ; দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সরকারি আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময়কালের রীতি বদলে এপ্রিল-মার্চ সময়কে ঘিরে অর্থবছর সাজাতে যাচ্ছে সরকার।

সেই ১৯৪৮ থেকে চলে আসা জুলাই-জুন সময়কাল ধরে অর্থবছর গণনার পদ্ধতি বদলানোর সিদ্ধান্ত যে কারণে সামনে এসেছে; এর লাভ-ক্ষতি নিয়ে হচ্ছে আলোচনা।

ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বা জলবায়ু-প্রভাবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশ তাদের মতো করে আর্থিক বছর হিসাব করে; বিএনপি সরকার নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমলে নিয়েছে ভৈাগলিক বাস্তবতা ও মৌসুমী প্রভাবের বিষয়কে।

বর্তমানে অর্থবছরের প্রথমে ও শেষ দিকে বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বেগ পেতে হয় সরকারকে। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেমন দীর্ঘায়িত হয়, তেমনি কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক জনদুর্ভোগও পোহাতে হয়।

আবহাওয়ার বিশেষ এ দিক বিবেচনায় বিগত সরকারগুলোও অর্থবছর বদলে এপ্রিল-মার্চ করার চিন্তা করেছে বারবার; আলোচনাও কম ছিল না। তবে এতদিন কোনো সরকার সেই পথে হাঁটেনি। ফেব্রুয়ারির ভোটে জিতে ১৯ বছর পর আবার সরকারে আসা বিএনপি সোমবার সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সেই সিদ্ধান্ত মেনে নতুন করে অর্থবছরের হিসাব-নিকাশ করতে যাওয়ার কাজটি সরকারের জন্য খুব সহজও নয়। হিসাবের পুরনো বই-খাতা উল্টেপাল্টে সব তথ্য এপ্রিল-মার্চ ঘিরে সাজানো বেশ বড় কর্মযজ্ঞও বটে।

ঢাকার দক্ষিণ বাসাবোতে টেম্পুস্ট্যান্ড লাগোয়া মূল সড়কে ড্রেন সংস্কার, সুয়ারেজ লাইন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। বুধবার তোলা ছবি।

ঢাকার দক্ষিণ বাসাবোতে টেম্পুস্ট্যান্ড লাগোয়া মূল সড়কে ড্রেন সংস্কার, সুয়ারেজ লাইন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। বুধবার তোলা ছবি।

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ও প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), পরিচালন ব্যয়, রাজস্ব আহরণ, রেমিটেন্স, বেসরকারি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ, দেশি–বিদেশি ঋণ ও পরিশোধ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ–লোকসানের হিসাব এমন বহু তথ্য নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা আছে।

ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মাথায় বিএনপি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সামলে এর সুফল কতটা তুলতে পারবে সরকার সেই আলোচনাও শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সব তথ্য নতুন করে এপ্রিল-মার্চ ধরে ঠিক করতে গেলে এ দায়িত্ব সামাল দেওয়া যাবে তো? উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ধীর হওয়ার মূলে বর্ষাকাল ছাড়াও আরও যেসব কারণ আছে, সেগুলো কতটা বদলাবে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু পঞ্জিকার পাতার সময়কাল পাল্টালেই হবে না, উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করার পাশাপাশি সুশাসনেও জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি মনে করছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বর্ষাকালের সম্পর্ক আমলে নেওয়ার এ সিদ্ধান্ত ‘কিছুটা উপকারে’ আসবে।

তবে অর্থবছরের সময়কাল বদলানোর কারণে তথ্যউপাত্ত বিন্যাসের দিকটাকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণের দিকটিকে রক্ষা করতে হবে। জিডিপি থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানির তথ্য থেকে শুরু করে সামগ্রিক সব তথ্য নতুন অর্থবছরের সময়কালের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করতে হবে।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

“কারণ আপনি গবেষণা করেন বা তুলনা করেন বা যেকোনো প্রবৃদ্ধির অনুমান করেন, তখনতো আর এখনকার তথ্যের সঙ্গে ওই তথ্য মিলবে না, তাই না।”

যেটা ‘সময়সাপেক্ষ’ ও ‘খরচসাপেক্ষও’ বলে তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই প্রধান অর্থনীতিবিদ।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে বর্ষাকাল ছাড়াও ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতার’ মূলে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলোর সমাধানকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখলেও অর্থনীতির এই শিক্ষক অন্য বিষয়গুলো যাতে মনোযোগ না হারায় সেদিকে নজর দেওয়ার তাগিদও দেন। তিনি বলেন, “এখানে যুক্তিটা দেখাচ্ছে আবহাওয়া মানে সিজনের জন্য।

“তবে আমি মনে করি, প্রকল্প বাস্তবায়নের যে আসল সমস্যা যে বছরের পর বছর কেন প্রকল্পগুলোতে সময়সীমা বাড়াতে হয় এবং ব্যয় বাড়াতে হয়, সেটাতো আর বছরের শেষ প্রান্তিকেই শেষ হয়ে যায় না। বরং বছরের পর বছর চলতে থাকে, অনেক বর্ষাকালই চলে যায়। কাজেই এটা দিয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতার সমাধান তো হয়ে গেল না।”

সময়কাল পাল্টানোর নজির দেশে দেশে

বিভিন্ন দেশে অর্থবছরের সময়সীমা বছরের পর বছর ধরে বিবর্তিত হতে দেখা গেছে। ইতিহাস বলছে, আর্থিক বছরের সময়কাল নির্ধারণ ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জলবায়ু-সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে বরাবরই।

উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনামালে এপ্রিল-মার্চ সময়ে অর্থবছরের হিসাব নিকাশ করা হত। এর শুরুটা হয় মোঘল সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা নববর্ষ চালুর সময় থেকে; তখন কৃষি নির্ভর অর্থনীতির নিরিখে রাজস্ব কোষাগারের অর্থ আহরণে অর্থবর্ষ গণনা শুরু হয় ১ বৈশাখ তথা এপ্রিল থেকে। দেশ ভাগের পর ভারত তার ভৌগলিক বাস্তবতায় ঐতিহাসিক রীতি মেনে এ সময়কালই চালু রাখে বার্ষিক সরকারি আয়-ব্যয়ের খতিয়ান রাখতে।

আর পাকিস্তান ১৯৪৮ সালে তা পাল্টে অর্থবছরের হিসাব শুরু করে জুলাই-জুন ধরে। সে ধারাবাহিকতা স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশেও চলে আসছে।

কোন দেশে কখন?

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক ব্লগ বলছে, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলোর বাইরেও একটা দেশ তাদের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক চক্র আমলে নিয়েও আর্থিক বর্ষ বিবেচনা করে থাকে।

সেক্ষেত্রে সরকার তার কখন সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হবে বড় বড় লেনদেন হবে সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। একই সঙ্গে সরকার তার এমন সময়ক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থবছরের হিসাব করে, যাতে করে এমন সব ঘটনা এড়াতে চায় যার মাধ্যমে বছরের শেষ হিসাবে রাজস্ব ব্যয়ের অতিরিক্ত ওঠানামা করে।

এজন্য অনেক দেশ তার পূর্বের অর্থবছরের হিসাব থেকেও বেরিয়ে আসার নজির আছে। ১৯৭৬ সালে এসে সবশেষ যুক্তরাষ্ট্র তাদের আর্থিক বছরের হিসাব বদল করে অক্টোবরে নিয়ে আসে। ফেডারেল সরকার অক্টোবর-সেপ্টেম্বর অর্থবছর হিসেবে পালন করে।

>> ১ জানুয়ারি – ৩১ ডিসেম্বর: লাতিন আমেরিকার সব দেশ, ফরাসিভাষী আফ্রিকা (ফ্রাঙ্কোফোন আফ্রিকা), অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ।

>> ১ এপ্রিল – ৩১ মার্চ: ভারত ও যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকা অনেক দেশ এ পঞ্জিকা অনুসরণ করে। যেগুলো মধ্যে রয়েছে- ব্রুনাই, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

>> ১ জুলাই – ৩০ জুন: পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, কেনিয়া, নিউ জিল্যান্ড, তানজানিয়া এবং দক্ষিণ গোলার্ধের অনেক দেশ।

>> ১ অক্টোবর – ৩০ সেপ্টেম্বর: যুক্তরাষ্ট্র (ফেডারেল সরকার), থাইল্যান্ড, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং লাওস।

>> ধর্মীয় নববর্ষ ভিত্তিক: ইরান ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলো ২১ মার্চ – ২০ মার্চ সময়কাল ব্যবহার করে। [আইএমএফের পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট]

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস হয় ৩০ জুন।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস হয় ৩০ জুন।

’যুক্তি ভালো’

সরকারের এ উদ্যোগের পেছনের যুক্তির কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “এটার বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চিন্তাভাবনা ছিল। এবং এটার পেছনে একটা ভালো যুক্তি আছে। সেটা হল- আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় দেখা যায় যে বছরের একদম শেষ প্রান্তিকে গিয়ে বেশি হয়।

“প্রথম প্রান্তিক ও দ্বিতীয় প্রান্তিকেতো খুবই কম হয়। মোট ব্যয়ের ১০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ এরকম। শেষের দিকে গিয়ে সব জমা হয়। এখানে যুক্তিটা হল যে, যেটা আমি মনে করি ‘ভালো সিদ্ধান্ত’। যুক্তিটা হল- যে এই শেষের দিকে এত বর্ষা শুরু হয়ে যায়, শেষের প্রান্তিকটা। তখন বর্ষার সময়ে রাস্তাঘাট বা নির্মাণ প্রকল্প, এলজিইডির প্রকল্প, এগুলো বর্ষাকালে আসলে তখন টাকাই খরচ হয় কিন্তু নির্মাণ মান ভালো হয় না।”

তবে অর্থবছরের পুরো সময় পার করে শেষ প্রান্তিকে বর্ষাকালে নির্মাণ প্রকল্প যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ‘আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতাকে’ সামনে আনেন।

শুধু অর্থবছর পরিবর্তন করলেই উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার সমাধান মিলবে না সতর্ক করে তিনি বলেন, “তবে ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিছুটা সুবিধা হবে।”

শেষ দিকে এসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি বাস্তাবায়নের হার বেড়ে যাওয়ার যে প্রবণতার কথা বললেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সেটির প্রমাণ মেলে সরকারের পরিসংখ্যানেও।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য বলছে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। অথচ ফেব্রুয়ারির তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ব্যয় হয়েছিল বরাদ্দের কেবল ২১ শতাংশ অর্থ।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অর্থবছরের দিনক্ষণ বদলের ফলে কৃষি খাত সুবিধা পাবে বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী।

তার ভাষ্য, এপ্রিল থেকে মার্চ সময়ে বোরো ধানের মৌসুম। আমন ধান ওঠে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে। 

“কৃষি সংক্রান্ত সুবিধার জন্য যদি এইটা করা হয়ে থাকে- যেমন ভারতেও কিন্তু এইটা আছে।”

বর্ষার কারণে অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “এতে যেমন কাজটাও সঠিকভাবে হয় না, দ্রুততার জন্য হয় না, আবার অনেক ক্ষেত্রে অপচয় বা দুর্নীতিও বেশি ঘটে। কাজেই সেক্ষেত্রে হয়তো কিছুটা উপকার হতে পারে।”

এপ্রিল-মার্চের সময়কাল গণনার প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের তথ্য সংগ্রহ হয় জুলাই-জুনে, হয়ে আসছে বিগত সময়ে। স্বাধীনতার পর থেকে বা স্বাধীনতার আগেও যেটা ছিল।

“কাজেই এই ধরনের একটা অসুবিধা দেখা দেবে আর কি, যেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টার দরকার হবে।”

ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাবে কী হবে?

সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাবের বাইরে এর প্রভাব পড়বে ব্যক্তির আয়-ব্যয়ের হিসাবেও। একইভাবে প্রভাব পড়বে ব্যক্তিখাতের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। 

নতুন অর্থবছর আমলে নিয়ে কর বছরও বদলে যাবে। ফলে অর্থবছর জুড়ে আয়ের ওপর পরবর্তী করবর্ষে যখন আয়কর বা করপোরেট কর দিতে হবে তখন নতুন হিসাবনিকাশ লাগবে।

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার রির্টান দেওয়ার সময়কাল বদলানোর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব রাখার সময়ে ব্ড় পরিবর্তন আসবে। তাদের হিসাবের সফটওয়্যারসহ সবখানে আনতে হবে বদল, যা বেশ সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ।

শুল্ক-কর বিষয়ক সরকারি-বেসরকারি খাতের পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, “এরজন্য ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ৯ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন হিসাব প্রস্তুত, ইআরপি পরিবর্তন ও অগ্রিম করের কিস্তি সমন্বয় করতে হবে। এতে কোম্পানিগুলোর এককালীন খরচ বাড়বে। এছাড়াও অডিট, এজিএম ও ব্যাংক ঋণ নবায়নের মৌসুমও স্থানান্তরিত হবে।”

তবে যে সমস্ত আঞ্চলিক ও বহুজাতিক কোম্পানি মার্চ মাস পর্যন্ত হিসাব রাখে তাদের জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্ত পালন একদম ‘সহজতর হবে’ বলে তার ভাষ্য।

বাংলাদেশে ব্যবসা করে আসা বেশিরভাগ বড় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের হিসাব রাখে জানুয়ারি-ডিসেম্বর আমলে নিয়ে। সরকারের কর প্রদান ও রেয়াতি সুবিধা প্রাপ্তির জন্য হিসাব রাখে জুলাই-জুন সময় ধরে।

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, “যেকোনো দেশ তার নিজস্ব একটা অর্থবছর তৈরি করতে পারে। তখন কোম্পানিগুলো করবে কি- একটা এক্সট্রা খরচ করে, নিজের যেই ব্যবসার হিসাবটা আছে, সেটাকে ওই ট্যাক্সের পারপাসে নতুনভাবে করে আরকি।

“এমনিতেও এখন আমাদের জানুয়ারি-ডিসেম্বর ধরে যারা আছে তাদের তো আলাদাভাবে অ্যাকাউন্টিং সাজাতে হয়। জুলাই-জুন পর্যন্ত সাজাতে হয়। ট্যাক্স জমা দেওয়ার ব্যাপারে। তো ওই জায়গাটায় জুলাই-জুন না করে, তারা তখন এপ্রিল-মার্চ করবে আরকি। এতে এমন কি আর অসুবিধা।”

তবে এজন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের আলাপ-আলোচনার প্রয়োজনীয়তা ছিল কিনা বা তাদের এরজন্য বাড়তি কেমন খরচা হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমিতো অত বেশি এগুলো নিয়ে ভাবি নাই। আমাদের কনসার্ন থাকে অর্থবছরের বাজেটে করহার কমালেই হল আরকি।”