Published : 10 May 2026, 06:48 PM
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে; চলতি মে মাসের নয় দিনেই ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেশে এসেছে।
আর এর মধ্য দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এক মাস ২২ দিন বাকি থাকতেই গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে দেশে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিটেন্স প্রবাহের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি মে মাসের প্রথম নয় দিনে (১ থেকে ৯ মে) ১০২ কোটি ৯৩ লাখ (১.০৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা।
সব মিলিয়ে আগামী ৩০ জুন শেষ হতে চলা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ মাস ৯ দিনে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৯ মে) ৩ হাজার ৩৬ কোটি ১০ লাখ (৩০.৩৬ বিলিয়ন) পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
এই অর্থ গত অর্থবছরের পুরো সময়ের (২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন) চেয়ে দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৪ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮৮ লাখ (৩০.৩৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে এসেছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের দশম মাস এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ (৩.১৩ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। টানা পাঁচ মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে।
রেমিটেন্সে প্রতি ডলারে এখন ১২৩ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে মে মাসের নয় দিনে ১২ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিন গড়ে এসেছে ১১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার; দেশি মুদ্রায় তা ১ হজার ৪০৬ কোটি টাকার মত।
এই প্রবণতা বজায় থাকলে মে মাস শেষে রেমিটেন্সের অংক ৩৫৪ কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
সাধারণত দুই ঈদের পর রেমিটেন্স প্রবাহ বেশ কমে যায়। এবার কমেনি। রোজার ঈদের পরের মাস এপ্রিলেও ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে।
গত মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫১ লাখ (৩.৭৫ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, একক মাসের হিসাবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
রোজা ও ঈদ সামনে রেখে ওই রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলার। ওই মাসেও রোজা ও ঈদ সামনে রেখে রেকর্ড হয়েছিল প্রবাসী আয়ে।
প্রতিবছর দুই ঈদ সামনে রেখে পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ মেটাতে বেশি বেশি রেমিটেন্স দেশে পাঠান প্রবাসীরা।
গত ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। পরের মাসেও রেমিটেন্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল।
চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এই ঈদ সামনে রেখেও রেমিটেন্স বাড়বে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা সঙ্কটে পড়া অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে।
গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স দেশে আসে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে আসে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩২ কোটি ৭৫ লাখ (৩০.৩৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) চেয়ে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। এবার সেই অংকও ছাড়িয়ে গেল।
গত অর্থবছরে প্রতি মাসে গড়ে রেমিটেন্স এসেছিল ২৫২ কোটি ৭৪ লাখ (২.৫৩ বিলিয়ন) ডলার। আর চলতি অর্থবছরের দশ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) হিসাবে গড়ে এসেছে ২৯৩ কোটি ৯৩ লাখ (২.৯৩ বিলিয়ন) ডলার।
এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিটেন্সের অংক ৩৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে।