Published : 27 Nov 2024, 11:42 PM
তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকেই তারল্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। এজন্য ৯০ ও ১৮০ দিন মেয়াদি বিলের মাধ্যমের টাকা তোলা শুরু করেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে, যাতে ৭, ১৪ ও ৩০ দিন মেয়াদির পাশাপাশি এই দুটি মেয়াদও যুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা সাংবাদিকদের বলেন, এদিন ১১টি ব্যাংক নিলামে অংশ নেয়। তাতে ১১ দশমিক ১০ শতাংশ সুদে ৪৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা তোলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের বিলের মাধ্যমে মার্কেটে থাকা অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে চলে আসে। তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে না। কারণ, সেই অর্থ সরকার ঋণ নেয়।”
তবে বিলের অর্থ তারল্য সংকটে ভোগা ব্যাংকে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা চলতি সপ্তাহে জানান, আন্তঃব্যাংক ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় তারল্য সহায়তা দেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সাথে আলোচনা করছেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই আলোচনা রয়েছে, চলতি সপ্তাহে ন্যাশনাল, এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও ইউনিয়ন ব্যাংককে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা তারল্য–সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভর্নরের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাবে, বলছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
গত ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর গভর্নরের দায়িত্ব পেয়ে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেন গভর্নর। তখন তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোকে নিজের ব্যবস্থা নিজেরই করতে হবে।
তবে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা ২০ হাজার টাকাও তুলতে পারছিলেন না, এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের মধ্যে সিদ্ধান্ত পাল্টানো হয়।
পরে আন্তঃব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সবল ১০ ব্যাংকের এমডিদের এই নির্দেশনা দেন গভর্নর। তবে এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলছেন দুর্বল ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, “আন্তঃব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা পাওয়া সময়সাপেক্ষ। আবার সব ব্যাংক সহায়তা দিতেও চাচ্ছে না, গ্রাহকের চাহিদা পূরণে তা যথেষ্টও নয়।
“বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করে তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করবে। গভর্নরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”