Published : 23 May 2026, 10:35 PM
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) যে ধাক্কা লেগেছিল, তা অব্যাহত আছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) শনিবার এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।
তাতে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৫১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে এডিপির মাধ্যমে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বাস্তবায়নের হার প্রত্যাশিত না হওয়ায় গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এডিপির আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতেও অর্থবছরের বাকি দুই মাসে (মে ও জুন) ১ লাখ ২২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা খরচ করতে হবে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৯৩ হাজার ৪২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। বাস্তবায়নের হার ছিল ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ।
হিসাব বলছে, গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ৬ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা কম ব্যয় হয়েছে।
আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রশাসনে রদবদলের ধাক্কায় এডিপি বাস্তবায়নে যে ধীরগতি দেখা দিয়েছিল, তা এখনও চলছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে; আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হবে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট।
গত ১৮ মে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এনইসি সভায় নতুন অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আইএমইডির তথ্যে দেখা যায়, সবশেষ এপ্রিল মাসে ১০ হাজার ৯০৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা খরচ করেছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। গত অর্থবছরের এপ্রিলে খরচের অঙ্ক ছিল ১০ হাজার ৫৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপিতে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখে বাজেট পাস করেছিল।
অন্তর্বর্তী সরকার সেই এডিপি কমিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৪ কোটি টাকায় নামিয়ে আনে। এর মধ্যে খরচ করা হয় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বাস্তবায়নের হার ছিল ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তার আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এই হার ছিল ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দায়িত্বে আসা অন্তর্বর্তী সরকার অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দেয়।
এতে করে আগের সরকারের নেওয়া অনেক প্রকল্পে অর্থছাড় কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে চলমান অনেক প্রকল্পের কাজও স্থগিত হয়ে যায়। সব মিলিয়ে এডিপির বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় কমে যায়।
সাধারণত অর্থবছরের প্রথমদিকে এডিপির ব্যয়ের পরিমাণ কম থাকে। শেষের দিকে এসে বাড়ে। কিন্তু এবার শেষ সময়েও বাস্তবায়নের হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশ পিছিয়ে।
এর আগের ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল যথাক্রমে ৫৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ৪৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।
১৫ মন্ত্রণালয়ের গড় বাস্তবায়নের হার ৫০.৭৬%
আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গড় বাস্তবায়নের হার ৫০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
এই অর্থবছরের ২ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকার ৭০ দশমিক ৯৭ শতাংশই বরাদ্দ আছে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে।
এর মধ্যে শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮ দশমিক ২৭ শতাংশ ব্যয় করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬২ দশমিক শূন্য এক শতাংশ খরচ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
এছাড়া ৬১ দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ খরচ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ৪৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ খরচ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। ৫৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ অর্থ খরচ স্থানীয় সরকার সম্পদ বিভাগ।
সেতু বিভাগ খরচ করেছে ৪৮ দশমিক ৪২ শতাংশ; বিদ্যুৎ বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে ৫০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ব্যয় করেছে ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশ অর্থ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৮ দশমিক ২৭ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ২২ দশমিক ১৫ শতাংশ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৪২ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ খরচ করেছে বরাদ্দের ৩৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ অর্থ।