Published : 25 Jul 2024, 06:05 PM
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়ে এবারও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পথেই হাঁটল বাংলাদেশে ব্যাংক; তবে বাড়ানো হয়নি নীতি সুদহার। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাজারে টাকার সরবরাহ কমানোর পদক্ষেপও থাকবে।
বৃহস্পতিবার চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য এমন নীতি পরিকল্পনা করে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভেঙে এবার সংবাদ সম্মেলনের পরিবর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতি প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে ঢুকতে না দেওয়ার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা বেশ কিছুদিন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুষ্ঠান বর্জন করে আসছেন। যে কারণে সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতি প্রকাশ করা হয়।
নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হলেও নীতি সুদহার হিসেবে পরিচিত রেপো সুদহার আগের মতই রাখা হয়েছে। এর আগে দুই অর্থবছর ধরে রেপোর হার টানা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাড়তে বাড়তে রেপো সাড়ে ৮ শতাংশে উঠেছে।
এবার জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য তা আগের মত থাকায় ব্যাংক ঋণের ঊর্ধ্বমুখী সুদহার কিছুটা থিতু হবে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। তবে সুদহার না বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কতটা ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
পাশাপাশি ডলারের মধ্যবর্তী দরও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের মতই প্রতি ডলারের মধ্যবর্তী দর ১১৭ টাকা রাখা হয়েছে।
অপরদিকে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অংশ হিসেবে এবার আগামী ছয় মাসের জন্য বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণ প্রবৃদ্ধি কমানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ, যা গত জুন পর্যন্ত ছিল ১০ শতাংশ।
তবে সরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে নতুন মুদ্রানীতিতে। ডিসেম্বরে এ হার ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ, জুন শেষে যা ছিল ১২ দশমিক ৮ শতাংশ।
ঘোষিত মুদ্রানীতিতে অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি সরকার নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ঘোষিত মুদ্রানীতিটি সংকোচনশীল। বাজারে টাকার সরবরাহ কমানোর পদক্ষেপও থাকবে। বিশেষ করে সরকারকে বাজেট সহায়তা দিতে টাকা ছাপানো বন্ধ রাখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংবাদ সম্মেলন না হওয়ায় এবার নতুন মুদ্রানীতির বিষয়ে কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম বলেন, ''নীতি সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো যায় না। এর সাথে আরও অনেক কিছু জড়িত। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি সব কিছু বিবেচনা নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।“
নীতি সুদহার না বাড়ানোর বিষয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, এতে ব্যাংক ঋণের সুদহার শ্লথ হবে।
"নীতি সুদহার বাড়ানো দরকার ছিল। এটা টাকাকে মূল্যবান করত। তাতে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ত এবং ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক দিক দেখা যেত। কারণ ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি শ্লথ, যা কাম্য নয়। আসলে ব্যবসায়ীরা কম ঋণ পাচ্ছে দুই কারণে-এক ব্যাংকে আমানত আসছে কম এবং আরেকটি হল সরকার ব্যাংক ঋণ বাড়িয়েছে।''
তিনি বলেন, '' যতক্ষণ মূল্যস্ফীতি না কমবে ততক্ষণ নীতি সুদহার বাড়িয়ে যেতে হবে। মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না আসা পর্যন্ত এটি বাড়িয়ে যেতে হবে।"
বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ মুদ্রানীতিতে কোন ধরনের নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হল সেটির কোনো কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হল। আবার ক্রলিং পেগের মধ্যবর্তী দরও অপরিবর্তিত। এর সাথে কমপক্ষে ১ টাকা ঊর্ধ্ব ও নিম্ন দর ছিল। সেটাও ১ টাকার জায়গায় ২ টাকা করা হলেও ডলার বাজারের জন্যও ভালো হত।''
তিনি বলেন, ''আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে আগের মুদ্রানীতিতে যা বলা ছিল সেটাই রয়েছে। তাহলে এ খাত কিভাবে সংস্করণ করা সম্ভব হবে।''
নতুন মুদ্রানীতি: মূল্যস্ফীতি বশে আনা, আরও যেসব পদক্ষেপ চান অর্থনীতিবিদরা