Published : 24 Aug 2026, 06:18 PM
বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
তিন বছর মেয়াদে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আবদুর রহমানকে অবসরোত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা স্থগিতের শর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ছাড়তে হবে।
চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে আবদুর রহমান খান বাংলাদেশের হয়ে সংস্থার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পালাবদলের ধারায় এনবিআর চেয়ারম্যান করা হয় তখনকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আবদুর রহমানকে। সেইসঙ্গে তাকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবও করা হয়।
প্রশাসন ক্যাডার থেকে নয়, প্রশিক্ষিত একজন কর কর্মকর্তাকেই তখন দেওয়া হয় চেয়ারম্যানের ভার।
আবদুর রহমান নিজেও কর ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। তবে তিনি পরবর্তীতে সরকারের উপসচিব হিসেবে চলে গেলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।
এনবিআরে কাজ করেন মূলত কাস্টমস ও কর ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এই দুই ক্যাডার থেকে সচিব হওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেকেই উপসচিব পুল হয়ে পরে সচিব হন। আবদুর রহমান খান সেভাবেই হয়েছেন কর ক্যাডার থেকে উপ সচিব হয়েছেন।
আবদুর রহমান খান এনবিআর দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটির নীতি ও বাস্তবায়ন দুইভাগ করা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের যে ভাবনা ছিল, এর পক্ষে সায় ছিল তার। এতে এনবিআরের মূল কর্মীদের পদোন্নতি ও পদায়ন সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা থেকে কর্মীরা আন্দোলনে নামলে এনবিআর চেয়ারম্যানও এর উত্তাপ থেকে বের হতে পারেননি।
তার বিরুদ্ধে একযোগে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর অঞ্চল, কাস্টম হাউজ ও ভ্যাট অফিসের কর্মীরা। পরে অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর হলে কর্মীরা কাজে ফেরেন, তবে এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাদের এক ধরনের ‘দূরত্ব’ থেকে যায়।
এ নিয়ে সে সময় একের পর এক কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়; দুদকের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও ওঠে।
গত ২৯ জুন ছিল আবদুর রহমান খানের চাকরির শেষ কর্মদিবস।