Published : 04 Jun 2024, 05:52 PM
গৃহশ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতে বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছে জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন।
ঢাকার তোপখানা রোডের একটি হোটেলে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।
ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা আবুল হোসাইন বলেন, “বাজেট যত ছোট কিংবা বড়ই হোক, সেখানে গৃহশ্রমিকদের কোনো জায়গা নেই; আর সামাজিক সুরক্ষা খাতের সুবিধা পাওয়ার সুযোগও নেই তাদের।
“কারণ, এটি গ্রামকেন্দ্রিক; গৃহশ্রমিকরা শহরে বাস করে। গৃহশ্রমিকদের অধিকারে সরকারের নজর দিতে হবে। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।”
শ্রম আইনে গৃহশ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানান আবুল হোসাইন। তার ভাষ্য, “নাহলে আমরা আন্দোলনে যাব। আমরা আইন দ্বারা শাসিত হতে চাই, নিয়ন্ত্রিত হতে চাই।”
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২০৫ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। চলতি বাজেটের ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা থেকে মাত্র ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বাড়িয়ে আগামী বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি ধরার খবর এসেছে।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা।
জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আখতার নাহার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সঠিক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও সারা দেশে ‘প্রায় ৫০ লাখ’ গৃহশ্রমিক রয়েছে, যার ৯৫ ভাগই হচ্ছে নারী ও শিশু। এদের শ্রমের অর্থমূল্য ‘প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা’।
“অথচ তাদের এই আয় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির হিসাবে গণ্য করা হয় না। এই শ্রমিকদের জীবন দক্ষতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন করতে পারলে এই আয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। এর জন্য রাষ্ট্রীয় আইন নীতিমালা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার বিকল্প নাই।”
সংবাদ সম্মেলনে গৃহশ্রমিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তোলেন আবুল হোসাইন। এসব ঘটনায় কেউ ‘শাস্তি পায় না’ দাবি করে তিনি বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে দেশ সভ্য দেশে পরিণত হবে কিনা, আমার জানা নেই। কারণ সভ্যদেশে আইনের শাসন বিদ্যমান।”