Published : 12 Jun 2026, 04:22 PM
সীমিত সম্পদের মধ্যে ‘সব মানুষকে’ আগামী অর্থবছরের বাজেটের আওতায় আনার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “সবার জন্য এই বাজেট। সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। এই সীমাবদ্ধার মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে।”
শুক্রবার বিকালে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে আসেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

বিএনপির নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার মাস চারেক পর দেওয়া এ বাজেটের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সবার জন্য ‘ইনক্লুসিভ’ বাজেট করতে হয়েছে। গত দেড় দশক আমাদের অর্থনীতি ছিল পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি। কিছু মানুষের অর্থনীতি। নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে, একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
“কিন্তু আমরা আমাদের অর্থনীতির ভাবনায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। সেই ভাবনা থেকে সীমিত সম্পদের মধ্যে সবার জন্যই এই বাজেট দেওয়া হয়েছে।”
রাজধানীর সচিবালয় এলাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৩টা ১০ মিনিটে আসেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু। তার ডান পাশে বসেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাম পাশে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “এবারের বাজেট ভিন্নধর্মী বাজেট; প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভাবনা-দর্শন ভিন্ন। দেড় দশকে দেশের ভিতরে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে দেশে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু ঘটছে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। এখন চলছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ।
“এমন বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আমাদের চ্যালেঞ্জ আরও বেশি। আর এই প্রেক্ষাপটেই সবাইকে বাঁচিয়ে রেখে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেট দেওয়া হয়েছে।”
দেশের সীমিত সম্পদের কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, “যে কারণে আমরা বারবার বলেছি, আমরা আমাদের ব্যয়গুলো হবে, প্রত্যেকটি ব্যয়ের পিছনে, প্রত্যেকটি প্রকল্পের পিছনে আমরা ‘ক্রাইটেরিয়া ফিক্সড’ করছি, চারটা ‘ক্রাইটেরিয়া’।
“একটা হচ্ছে ‘ভ্যালু ফর মানি’, একটা হচ্ছে ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’, একটা হচ্ছে ‘জব ক্রিয়েশন’, একটা হচ্ছে...এই চারটা ‘ক্রাইটেরিয়ার’ ভিত্তিতে আমরা আগামী দিনে সকল প্রকল্প...পরিষ্কারভাবে বলি।”
এরপর সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রশ্ন আহ্বান করে তিনি বলেন, “আমরা আসছি কিন্তু আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। যে কারণে আমরা বিশ্বাস করি যে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জবাবদিহিতা। জনসাধারণের কাছে জবাবদিহি করা।”