খরচ কমাতে ব্যাংকগুলোকে গাড়ি না কেনার নির্দেশ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, আগামি এক বছর ব্যাংকের কতিপয় খাতের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় স্থগিত ও কমাতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 03:52 PM
Updated : 27 July 2022, 03:52 PM

বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ও পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নতুন কিংবা পুরনো কোনো ধরনের যানবাহন না কেনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠিয়ে বলা হয়, পরিচালন ব্যয় কমাতে স্টেশনারী পণ্য ও আপ্যায়ন খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে।

বৈশ্বিক কারণে মূল্যস্ফীতির চাপে ডলার সাশ্রয় এবং বিদ্যুতসহ উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে আনতে কৃচ্ছ্রতার পথে হাঁটছে সরকার। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংকও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নতুন নির্দেশনায় আগামী এক বছরের জন্য ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ নিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়।

নির্দেশনার ব্যাখ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘‘বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকার কতিপয় খাতে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় স্থগিত/হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

"এ প্রেক্ষিতে বছরের অবশিষ্ট ছয় মাস ও আগামী বছরের প্রথম ছয় মাস সময়ে ব্যাংকের কতিপয় খাতের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় স্থগিত ও হ্রাস করতে হবে।"

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, "নতুন/প্রতিস্থাপক হিসেবে সকল প্রকার যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকবে।"

শুধুমাত্র জরুরি ও অপরিহার্য ক্ষেত্র বিবেচনায় আপ্যায়ন, ভ্রমণ, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মনিহারি খাতে বরাদ্দ করা অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।

এসব খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ অন্য কোনো খাতে বরাদ্দ বা ব্যয় করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খরচের যাবতীয় প্রমাণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংরক্ষণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনের সময় উপস্থাপন করতে হবে।

চলতি বছরের বাকি সময়ে সাশ্রয় করা অর্থ ২০২২ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে উপস্থাপন করতে হবে। ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে দিতে হবে আগামী বছরের প্রথম ৬ মাসের সাশ্রয় হওয়া অর্থের তথ্য।

অপর একটি সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকল ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যয় ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে।

এসব খাত থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থ অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক