Published : 02 Sep 2026, 11:14 PM
বন্ধ কারখানা চালু করতে আরও ১৭ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এতে করে এ খাতে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ যে ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল সেটির আকার বেড়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকা হবে।
ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার বন্ধ কারখানা চালু করতে এ অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তুলে ধরেন উপদেষ্টা।
বুধবার অর্থনীতি বিটের প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয়ে কীভাবে হচ্ছে তা তুলে ধরতে গিয়ে সরকারের এ বিশেষ ঋণ প্যাকেজের কথা বলেন উপদেষ্টা।
আগের সরকারের সময় থেকেই মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সাযুজ্য না রাখার কথা বলে আসছিলেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। নতুন বিএনপি সরকারও সেই ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে পারেনি। মূল্যস্ফীতি কমাতে একদিকে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে, আরেকদিকে অর্থনীতি চাঙা করতে বড় ব্যয়ের বাজেট দিয়ে সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতির পথ ধরেছে।
একই সঙ্গে বছর কয়েক ধরে চলা বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে বিএনপি সরকার।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ মে বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি ‘সক্রিয় করতে’ ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণ প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকার ‘রিফাইন্যান্স’ (পুনঃঅর্থায়ন) তহবিল গঠন করা হয় বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা অতিরিক্ত তারল্য থেকে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আলোচনা সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বন্ধ কারখানাগুলোকে চালু করে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়াতে এ তহবিলের অর্থায়ন বাড়ানোর কথা বলেন।
তবে চালু শিল্প কারখানাগুলো জ্বালানি সংকটে যেন বন্ধ না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক ব্যবসায়ী নেতা মো. ফজলুল হক।
তিনি বলেন, “আমরা বন্ধ কারখানা চালু করার বিপক্ষে না, কিন্তু বন্ধ কারখানা চালু করার আগে যে চালু কারখানাগুলো আছে, এইগুলো যাতে কোনোভাবেই বন্ধ হতে না পারে, এইজন্য জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে সেই বিষয়টা নিশ্চিত করা দরকার।
“কারণ এটা যদি নিশ্চিত না করে আপনি পাইপলাইনে আবার বন্ধ ৫০টা কারখানাকে এনে দিয়ে দিলেন পাইপলাইনে, তাহলে কী হবে?”
যেসব কারখানা বন্ধ হয়েছে সেগুলোর ‘বাণিজ্যিক ব্যর্থতা ছিল’ দাবি করে তিনি বলেন, “এখন আপনি ওই বাণিজ্যিক ব্যর্থতার বিষয়টা সমাধান করার জন্য নিয়ে আসলেন, সঙ্গে আবার আরেকটা সমস্যা দিয়ে দিলেন যে তোমাকে জ্বালানি সংকটেও ভুগতে হবে। তাহলে তার পক্ষে কিন্তু খুব ভালো পারফর্ম করা সম্ভব হবে না এরকম একটা জটিল পরিস্থিতিতে।
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে ব্যবসায়ীদের তরফে ফার্নেস ওয়েল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবি জানান তিনি।
সরকারি নতুন বেতন কাঠামোর ব্যাখ্যা দিলেন উপদেষ্টা
সরকারি চাকুরেদের জন্য নতুন যে বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে সেটির পেছনে গত ১০ বছরে ১০৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতিকে একটা কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন উপদেষ্টা তিতুমীর।
তার ভাষ্য, “আমরা বলেছিলাম যে যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়িত হবে। আমরা অন্যান্য প্রতিশ্রুতির সাথে এই প্রতিশ্রুতির রক্ষায়ও দায়বদ্ধ। এবং এটার ক্ষেত্রে আপনারা সবাই জানেন যে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল যদি চিন্তা করা যায় তাহলে ১০৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ঘটেছে। তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা বাদ দিলেও ১০৪ শতাংশ ঘটেছে।
“সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে গ্রেড আছে ২০ গ্রেড পর্যন্ত। আপনারা যদি খেয়াল করেন উপরের দিকের কোনো গ্রেডে কিন্তু ১০০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়নি।
“আর আপনি চিন্তা করেন একজন ২০তম গ্রেডের সে ৮,০০০ টাকা যদি বেতন পায় আর ১০৪ শতাংশ যদি মূল্যস্ফীতি হয়, একটা দায়বদ্ধ সরকার তার দায়িত্ব হচ্ছে যে সেই প্রক্রিয়ায় আনা যে প্রক্রিয়াটা তার জীবন ধারণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।”
বাড়তি অর্থের সংস্থান রাজস্ব আদায় বাড়ানোর মাধ্যমে করার কথা বলেছেন তিনি।
সভায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন নতুন বেতন কাঠমো বাস্তবায়নে ঋণের ওপর নির্ভর হওয়ার প্রবণতা বিষয়ে সতর্ক করেন।
জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, লুট, চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচার বন্ধ না করা গেলে কোনো নীতি কাঠামোই এ দেশে কার্যকর হবে না।
আরও বক্তব্য দেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার মালা।