ঋণ ছাড় কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও নতুন প্রতিশ্রুতি আদায়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে সরকার।
Published : 25 Oct 2022, 10:51 PM
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈদেশিক সহায়তার ঋণ ছাড়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কমে গেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিশ্রুত বৈদেশিক ঋণের ১৩৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে।
অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের বৈদেশিক ঋণের এই ছাড় গত ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার বা ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ কম।
গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় করেছিল দাতা গোষ্ঠী।
ইআরডির বৈদেশিক সহায়তা হিসাব অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোভিড-১৯ এর টিকা কেনার জন্য বিশ্ব ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বিশেষ তহবিল ছাড় করেছিল। এছাড়া মহামারী থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাজেট সহায়তা হিসেবেও বৈদেশিক সহায়তা ছাড় করেছিল দাতারা।
“এসব কারণেই গত অর্থবছর বৈদেশিক সহায়তার গতি অনেক বেশি ছিল। এ বছর প্রকল্প সহায়তা হিসেবে পাওয়া বৈদেশিক সহায়তার ছাড় স্বাভাবিক।”
ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম তিন মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৪৫ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের বৈদেশিক সহায়তার ঋণ ছাড় করেছে জাপান। চীন দিয়েছে ২৭ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, বিশ্ব ব্যাংক ১৯ কোটি ২১ লাখ ডলার এবং এডিবি ১৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ঋণ ছাড় করেছে।
এছাড়া ভারত ১০ কোটি ১৫ লাখ ডলার, রাশিয়া ৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলার এবং এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) ছাড় করেছে ২২ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরে ৯২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বৈদেশিক ঋণ ছাড় কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও নতুন প্রতিশ্রুতি আদায়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৪০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এরমধ্যে বিশ্বব্যাংক একাই চুক্তি করেছে ৩০ কোটি ডলারের। বাকি প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ইউরোপ এবং জাতিসংঘ থেকে।
এছাড়া আরও ৭৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ঋণদাতাদের পাওনার ৫২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে সরকার।
এরমধ্যে আসল হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ডলার এবং ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে সুদ হিসেবে।
এবারের অর্থবছরের বাজেটের ১৪ শতাংশের বেশি অর্থায়ন বিদেশি ঋণ থেকে করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। আর সুদ পরিশোধ বাবদ খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।