Published : 08 Oct 2025, 08:37 PM
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’।
এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহীম রনি বুধবার বিশ্বিবিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে ইশতেহার ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, “ছাত্র শিবিরের প্যানেলে যারা মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের ৫০ শতাংশ শিবিরের রাজনীতির বাইরে। বিভিন্ন স্থান থেকে যারা সেরা, তাদেরই প্যানেলে যুক্ত করা হয়েছে।”
১২ মাসে ৩৩ সংস্কারের লক্ষ্য ধরে এ ইশতেহারে নয়টি ‘ফোকাস পয়েন্ট’ তুলে ধরেছে ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’।
এর মধ্যে রয়েছে- আবাসন, যাতায়াত, স্বাস্থ্য সম্মত খাবার, নিরাপদ ও গ্রিন ক্যাম্পাস, সেশনজট, অটোমেশন, শিক্ষা-গবেষণা ও ক্যারিয়ার, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস ও ওয়েলফেয়ার কার্যক্রম।
ইশতেহারের আবাসন সংকট নিরসন ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিদ্যমান হলগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার, এক্সটেনশন ব্লক বৃদ্ধি এবং নতুন টিনশেড নির্মাণের মাধ্যমে অনাবাসিক শিক্ষার্থী সংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি করা হবে। স্থায়ী সমাধান হিসেবে অধিক শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন বহুতল হল নির্মাণ এবং ত্রুটিমুক্ত ও দ্রুততর আসন বণ্টন ব্যবস্থা করে তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কটেজ ও মেসে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, পানি এবং অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করে ভাড়া নির্ধারণে কর্তৃপক্ষের তদারকি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে শাটল ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে পর্যাপ্ত বগি সংযোজন, প্ল্যাটফর্ম ও বগি আধুনিকায়ন করে যাত্রা নিরাপদ করা; পাশাপাশি দ্বিতীয় রেল লাইন স্থাপন সংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে শিবিরের প্যানেল।
একইসঙ্গে ক্যাম্পাসের ভেতরে ই-কারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে সাশ্রয়ী ভাড়ার ব্যবস্থা করা, বর্হিগমনের জন্য শহরেরর বিভিন্ন প্রান্ত পর্যন্ত শাটল বাস এবং পাশ্ববর্তী উপজেলার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধায় সার্ভিস বাস চালু করে বিদ্যমান বাসের মান বৃদ্ধি করার কথা রয়েছে ইশতেহারে।

শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুলভ মূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত ‘ফুড সেল’ গঠন এবং ফুড সেল কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হোটেল ও বাজারে সুলভ মূল্য এবং মান নির্ধারণে তদারকি এবং ক্যাফেটেরিয়াগুলোর সংস্কার করে সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত করার কথা বলছে শিবির।
সেশনজট নিরসনে প্রতি বিভাগে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে পরীক্ষার রুটিন, রেজিস্ট্রেশন এবং ফল প্রকাশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর করে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমানোর কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।
এছাড়া ইশতেহারে নারীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে তারা মাতৃত্বকালীন ছুটি, ফ্যাকাল্টি ও লাইব্রেরিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চাইল্ড কেয়ার কর্নার ও ব্রেস্টফিডিং জোন স্থাপন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে বিদ্যমান সেলকে শক্তিশালী ও কার্যকর করে নারীদের কটূক্তি বুলিং এবং হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষার মান উন্নয়নে শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা; কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ডিজিটাল করে শিক্ষার্থীদের ‘উন্নত শিক্ষার’ সুযোগ তৈরি করা; গবেষণার মান উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি; গবেষণা বৃত্তি, সেমিনার ও রিসার্চ ফেস্ট আয়োজন এবং বিদেশি স্কলারশিপে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে শিবিরের প্যানেল।
এদিকে শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের লক্ষ্যে বিনামূল্যে কর্মশালার আয়োজন এবং নিয়মিত ওয়ার্কশপ সেমিনারের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।
এছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালু করার কথাও বলা হয়েছে সেখানে।
শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে ৩০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর করে চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি, অপারেশন থিয়েটার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের কথা রয়েছে প্রতিশ্রুতির তালিকায়।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল গঠন করে অভিজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্ট নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক পরামর্শ এবং সেবা প্রদান নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ বলছে, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, রেলগেটে পুলিশ বক্স স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে পার্টটাইম চাকরির মাধ্যমে ‘নিরাপত্তা ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাদের।
পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গ্রিন ক্যাম্পাস কর্মসূচি চালু, প্লাস্টিকবিরোধী ক্যাম্পেইন এবং সোলার সিস্টেম ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে তাদের ইশতেহারে।
সেখানে বলা হয়েছে, সুযোগ পেলে চাকসু নির্বাচনকে নিয়মিত করতে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে সংযুক্ত করা; ফ্যাসিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস; মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্খা ধারণ; সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা বিকাশ; সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা; টিএসসি ও সেন্ট্রাল অডিটোরিয়াম নির্মাণ; লিগ্যাল এইড সেল গঠন; অ্যালামনাই সমন্বয় এবং অন-ক্যাম্পাস জবের সুযোগ তৈরি করা হবে।
এই প্যানেলের জিএস প্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব, এজিএস সাজ্জাত হোছন মুন্নাসহ অন্যান্য প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১৫ অক্টোবার চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদের নির্বাচন হবে।