১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে ‘কঠিন পরীক্ষায়’ একমাত্র নারী প্রার্থী

নানা নাটকীয়তার পর ফটিকছড়িতে চার প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।

মিঠুন চৌধুরী মিঠুন চৌধুরী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jan 2024, 09:05 AM

Updated : 15 Jan 2024, 02:48 PM

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে একজন নারী প্রার্থী আছেন শুধু চট্টগ্রাম-২ আসনে, যিনি এবার পেয়েছেন নৌকার টিকেট। এ আসনে প্রার্থী হওয়া সাবেক একজন সংসদ সদস্যসহ বাকি প্রার্থীরাও নেমেছেন কোমর বেঁধে। 

স্বাভাবিকভাবেই ৭ জানুয়ারির ভোট নৌকার প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনির জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে এসেছে।  

নানা নাটকীয়তার পর ফটিকছড়িতে চার প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভা নিয়ে চট্টগ্রাম-২ আসন। এখানে এবার মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৯ হাজার ২২৭ জন। 

এই আসনে আওয়ামী লীগ এবার প্রার্থী করেছে সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে। 

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আবু তৈয়ব। তার প্রতীক তরমুজ। 

এই আসন থেকে তরিকত ফেডারেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের ‘ফুলের মালা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

জোটের এই প্রার্থীকে এবার ছাড় দেয়নি আওয়ামী লীগ। এবার তাই দলীয় প্রতীকেই ভোটে লড়ছেন মাইজভান্ডারী পরিবারের এই সদস্য। 

ফটিকছড়ি আসনে মাইজভান্ডারী পরিবারের আরেক সদস্য বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদও প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রতীক একতারা। 

আওয়ামী লীগের দলীয় ও স্বতন্ত্র, দুই প্রার্থী থাকায় দলের নেতাকর্মী ও অনুসারীদের ভোট ভাগ হবে। আবার মাইজভান্ডারী পরিবারের দু’জন প্রার্থী হওয়ায় এই তরিকার অনুসারীদের ভোটও বিভক্ত হয়ে যাবে। 

অন্যদিকে ফটিকছড়ি ও ভুজপুর থানা এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের অনুসারী ও সমর্থকদের একটি অংশ থাকলেও আদর্শিক কারণে চার প্রার্থীর কারো পক্ষে তাদের ভোট যাবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সব মিলিয়ে জটিল এই আসনের ভোটের অংক।

নানা নাটকীয়তা 

গত ২৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের চারটি আসনের চারজন সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এরমধ্যে একজন ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী। 

তার পরদিন ২৯ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে খবর আসে কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সনিকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম পার্টির প্রার্থীর সমর্থনে এরকম নির্দেশনার খবর জানিয়ে কয়েকটি পত্রিকায় খবরও প্রচারিত হয়। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রের কোনো লিখিত নির্দেশনা ছিল না।

Image

বাবা প্রয়াত সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের কারণে ভোটারদের সমর্থন পাবেন বলে আশা করছেন নৌকার প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি।

দুদিন না যেতেই ৩১ ডিসেম্বর বিকালে আবার খবর আসে নৌকার প্রার্থীকে নির্বাচনের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে। 

জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মুহুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। এখন সবাই নৌকার প্রার্থীর জন্য কাজ করছে। দলীয় প্রার্থীর অবস্থান খুব ভালো। 

“সেদিন (২৯ ডিসেম্বর) দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভাই ফোন করে একবার বলেছিলেন। পরে ফটিকছড়ির সার্বিক পরিস্থিতি জেনে সে সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম ভাই ও এটিএম পেয়ারুল ইসলাম গত পরশু নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। নেত্রী উনাদের বলেছেন, ফটিকছড়িতে সবাই যেন নৌকার প্রার্থীর জন্য কাজ করেন।” 

দলীয় সিদ্ধান্তের দোলাচলে নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি নেই। সব সমস্যা কেটে গেছে। নেতাকর্মীরা সবাই দলের প্রার্থীর জন্য একজোট।” 

জানতে চাইলে বিএসপির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমার বিষয়ে আন্তরিক। তিনি আমাকে বলেছেন, ভোটারদের মাঝে থাকতে। সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। জনগণ যাকে ভোট দিবে সেই জয়ী হবে। 

এক নজরে

ভোটের তথ্য: 

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে এবার মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৯ হাজার ২২৭ জন। 

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আজিম উল্লাহ বাহার ধানের শীষ প্রতীকে পান ৪৯ হাজার ৭৫৩ ভোট। 

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি নিজ দলের ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হাসান আনারস প্রতীকে পান ১২ হাজার ৪৩৩ ভোট। 

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের এটিএম পেয়ারুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে পান ৯২ হাজার ২৬৬ ভোট।  

“আশা করি আমার যোগ্যতায় আমি জয়ী হয়ে আসব। যেহেতু সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে আমি ইতিবাচকভাবে আছি।” 

একবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সরে যাওয়ার খবর এবং পরে আবার তার মাঠে থাকার ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, “ব্যালটে তো নৌকা রয়ে যাবে, তাই হয়ত বলা হয়েছে।” 

এ বিষয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম বলেন, “ফটিকছড়ি নিয়ে কিছু ষড়যন্ত্রকারী ষড়যন্ত্র করেছিল। এটা কিছু নয়। ষড়যন্ত্রকারী হয়ত ৫ জন। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মী লাখ লাখ। 

“নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, নৌকা প্রতীক দিয়েছেন তিনিই আমাদের প্রার্থী। কেন্দ্র থেকে বলেছে, নৌকার প্রার্থীকে নিয়ে কাজ করতে।”

চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা 

ফটিকছড়িতে ভোটের লড়াইয়ে যে কেউ জয়ী হতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদী এই চার প্রার্থীও।

Image

উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে স্বতন্ত্র হিসেবে তরমুজ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা এইচ এম আবু তৈয়ব।

ফটিকছড়ি বাগান বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নৌকা ও স্বতন্ত্র, দুই প্রার্থীর সাথেই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা আছে। আর মাইজভান্ডারী পরিবারের দু’জনের সাথে তাদের অনুসারীরা আছে। তাই ফটিকছড়িতে ভোটের হিসাব অত সোজা না। শেষ পর্যন্ত যে কেউ জয়ী হতে পারে।” 

নানুপুরের বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “পুরো চট্টগ্রামে একজন মাত্র মহিলা সরাসরি ভোটের মাঠে আছেন। নারী ও ফটিকছড়ির ভোটার হিসেবে আমরা খুশি। আরো বেশি নারী এমপি প্রার্থী হলে ভালো হত। 

“নারী হলেও তিনি কোনো ছাড় পাবেন বলে মনে হচ্ছে না। এবার অন্য অনেক আসনের চেয়ে এখানে ভোটের লড়াই কঠিন হবে।” 

ফটিকছড়ি থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল আনোয়ার। ২০০৮ সালে এই আসনে জয়ী হন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। আর ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। 

এবার প্রয়াত রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে দলের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে। 

খাদিজাতুল আনোয়ার সনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নারী বা পুরুষ হিসেবে নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। শুরু থেকেই ফটিকছড়ির মানুষ আব্বার কারণে আমাকে খুব ভালোবাসে। উনার সন্তান হিসেবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আমাকে সানন্দে গ্রহণ করে নিয়েছেন। 

“আমার উপর কোনো থ্রেট নেই। কিন্তু মাঠে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে, যাতে বেশি সংখ্যক ভোটার কেন্দ্রে না আসে। বেশি ভোটার কেন্দ্রে আসলে অন্য প্রার্থীদের সমস্যা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ আমার সাথে আছে।” 

৭ ডিসেম্বর ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে বর্ধিত সভা করে। 

তবে দলের ‍দু’জন প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তির আভাসও মিলছে, যার জেরে ধর্মপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী বলেন, “দল খুব ভালো অবস্থায় আছে এখানে। সাংগঠনিকভাবে আমরা দলীয় প্রার্থীর সাথে আছি এবং নৌকার জয়ের জন্য কাজ করছি। বিচ্ছিন্নভাবে কেউ ভোটে দাঁড়ালে সেটা সংগঠনের বিষয় নয়।”  

Image

ফটিকছড়ির দুইবারের সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এবারও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

সংসদ সদস্য হতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে তরমুজ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা এইচ এম আবু তৈয়ব।   

এইচ এম আবু তৈয়ব বলেন, “ছাত্রজীবন থেকে আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করছি। অত্যন্ত কঠিন সময়ে আমরা ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ করেছি। আমার বিরুদ্ধে তখন একের পর এক রাজনৈতিক মামলা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আদর্শ ত্যাগ করিনি। 

“কিভাবে তখন সব বাধা বিপত্তি এড়িয়ে আওয়ামী লীগ করেছি ফটিকছড়ির মানুষ তা জানে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের মানুষ আমাকে চেনে। আমি তাদেরকে চিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আমি প্রার্থী হয়েছি। ফটিকছড়ি অনেক অবহেলিত। এটুকু কথা দিতে পারি নির্বাচিত হলে অবশ্যই উন্নয়ন করব। সকল রাস্তাঘাট ৩ বছরের মধ্যে করে দেব।”   

জোটের প্রার্থী হতে চেয়েও সাড়া পাননি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। 

সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, “আমার প্রচারণা খুব ভালো হচ্ছে। যেখানেই যাচ্ছি হাজার হাজার মানুষ হচ্ছে। সবাইকে বলছি, কেন্দ্রে গিয়ে সুন্দরভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে।

“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নির্বাচনে অংশ নিতে। দুইবার আমি ফটিকছড়ির এমপি থাকাকালে ফটিকছড়িকে সন্ত্রাসমুক্ত করেছি। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সবাই জানে। অনেক বিষয় আছে, আগামী দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ভোটে জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।” 

এলাকায় ভোটের পরিবেশ কেমন এবং অন্য প্রার্থীদের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি সবার অভিভাবক। সবাইকে বলেছি শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এমন কিছু না করতে। এখনো পরিবেশ শান্তিপূর্ণ আছে।” 

Image

বিভক্ত হয়ে পড়া মাইজভান্ডারী সমর্থকদের কিছু ভোট পাবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী সৈয়দ সাইফু্দ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী।

মাইজভান্ডারী পরিবারের আরেক সদস্য সৈয়দ সাইফু্দ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএসপি থেকে এবার তিনি নিজ এলাকায় ভোটে লড়ছেন। 

জানতে চাইলে সৈয়দ সাইফু্দ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন, “বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি সারাদেশে ৮৫টা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। আমাদের প্রায় ২০ জন হেভিওয়েট প্রার্থী সারাদেশে জিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক যদি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে আমাদের জিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ। 

“ফটিকছড়ি আসনে একটু সমস্যা আছে। কিছু কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আমার যারা প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের আমি সম্মানের চোখে দেখি। সে আত্মীয় হোক আর যেই হোক, আমরা সবাইকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে দেখি। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আমরা লড়াই করব। আমার চাচা (সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী) দাঁড়িয়েছেন। আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক।” 

সৈয়দ সাইফু্দ্দিন বলেন, “একটু সমস্যা হচ্ছে। আরো দুজন প্রার্থী রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। সেটা আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। দুয়েক জায়গায় আমার প্রচারণায় বাধা দেয়া হয়েছে। সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।” 

ভুজপুর এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বলেন, “আমাদের এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কিছু ভোট আছে। কিন্তু আদর্শিক কারণে জামায়াতের লোকজন মাইজভান্ডারের অনুসারী বা আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে না। 

“বাকি থাকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তাদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ নেই। যদি কোনো প্রার্থী তাদের ভোটকেন্দ্রে টানতে পারেন তাহলে সেই প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে থাকবেন।” 

এই আসনে আরও চারজন প্রার্থী ভোটে লড়ছেন। তারা হলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মীর মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম (চেয়ার), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ হামিদ উল্লাহ্ (মোমবাতি), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ শফিউল আজম চৌধুরী (লাঙল) এবং স্বতন্ত্র মো. শাহজাহান (ঈগল)।