Published : 24 Aug 2022, 08:09 PM
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ বসতিতে উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যে বিকল্প কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; এসব রাস্তার নিচে উচ্চ চাপের গ্যাস পাইপ লাইন রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের এনডিসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার এসব রাস্তা বন্ধ করে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উচ্চচাপ বিশিষ্ট গ্যাস পাইপ লাইনের উপর দিয়ে জঙ্গল সলিমপুর ও আলী নগরের বাসিন্দারা বিকল্প রাস্তা তৈরি করেছিল।
“গ্যাস লাইনের নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এলাকার অভ্যন্তরে অটোরিকশা চলাচল সীমিত করে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।”
এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তৌহিদুল।
উচ্ছেদ অভিযান চললেও জঙ্গল সলিমপুরে ঢোকার প্রধান রাস্তাটি এখনও খোলাই রয়েছে। তবে ওই এলাকায় আরও যেসব রাস্তা দিয়ে ঢোকা-বের হওয়া যায়, সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
সরকারি খাস জমিতে পাহাড়, টিলা কেটে গড়ে তোলা সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আলী নগর এলাকায় আবাসিক প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সেখানকার খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, নাইট সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এলাকাটি দখলমুক্ত করতে অভিযানও চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।
এরপর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারা জমিগুলো পরিদর্শন করেন। ২০ অগাস্টের মধ্যে দখলকরা খাস জমি ছেড়ে দিতে গণবিজ্ঞপ্তিসহ বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুতের সংযোগ।
ওই এলাকায় মোট ৩১০০ একর জমির মধ্যে ৮৮ একর অবৈধ দখলদারদের হাতে থাকার কথা জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
তবে স্থানীয়দের দাবি, কম টাকায় ‘জমি কিনে’ সেখানে বসতি স্থাপন করেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ। সরকারি স্থাপনা নির্মাণ পরিকল্পনায় তাদের উচ্ছেদের নির্দেশনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করেছে বাসিন্দারা।
স্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবিতে মঙ্গলবার মহাসড়ক অবরোধ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা ৬টি মামলায় ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করে অন্তত ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।