১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাবেক দুদক কর্মকর্তা শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বাদীই এবার আসামি

আদালতের স্বঃপ্রণোদিত আদেশে মামলা হয়েছে মিথ্যা মামলার বাদীসহ চারজনের বিরুদ্ধে।

সাবেক দুদক কর্মকর্তা শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বাদীই এবার আসামি

দুদকের সাবেক উপ-পরিচালক সৈয়দ মো. শহীদুল্লাহ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Oct 2023, 11:33 AM

Updated : 31 Oct 2023, 01:49 PM

গ্রেপ্তারের পর মারা যাওয়া সাবেক দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় বাদীসহ চারজনের বিরুদ্ধে স্বঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলাম সোমবার এ আদেশ দেন।

আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাবেক দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মোহাম্মদ কায়সার আনোয়ারকে আসামি করে মিথ্যা মামলাটি করেছিলেন রনি আক্তার তানিয়া নামের এক নারী।

পরে ১৬ অক্টোবর সেই মামলা প্রত্যাহারে আবেদন করেছিলেন বাদী। তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সোমবার আদেশের দিন ধার্য ছিল।

নাজির আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বাদী রনি আক্তার তানিয়া জবানবন্দিতে বলেন, এস এম আসাদুজ্জামান, মো. লিটন ও মো. জসিম নামের তিনজনের প্ররোচনায় তিনি মিথ্যা মামলাটি করেছিলেন।

“মিথ্যা মামলা করার বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ার পর তার মামলা প্রত্যাহারের আবেদনটি গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে রনি আক্তার তানিয়া, এস এম আসাদুজ্জামান, মো. লিটন ও মো. জসিমকে আসামি করে মামলা করতে স্বঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেয় আদালত।”

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নথি পাঠানো হয়। পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের পক্ষে পেশকার মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রথম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. অলি উল্ল্যাহর আদালতে মামলা করেন।

নাজির আবুল কালাম আজাদ জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

রনি আক্তার তানিয়ার করা ওই মামলায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর আদালত শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং ২ অক্টোবর নগরীর চান্দগাঁও থানা থেকে এএসআই ইউসুফ আলীকে পরোয়ানা তামিলের আদেশ দেয়।

গত ৩ অক্টোবর রাতে নগরীর এক কিলোমিটার এলাকায় বাসার কাছে রাস্তা থেকে পুলিশ দুদকের সাবেক উপ-পরিচালক সৈয়দ মো. শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পরে সেই রাতেই থানায় অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি।

ঘটনার পর চান্দগাঁও থানার ওসি খায়রুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আদালতে ৩২৩/৫০৬ ধারায় একটি মামলার আসামি ছিলেন শহীদুল্লাহ। সে মামলার পরোয়ানামূলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুরানো খবর:

সাবেক দুদক কর্মকর্তার মৃত্যু: ওসিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

পুরানো খবর:

সাবেক দুদক কর্মকর্তার মৃত্যু: আদালতের সমন পাঠানোই হয়নি শহীদুল্লাহকে

পুরানো খবর:

চট্টগ্রামে থানায় নেওয়ার পর সাবেক দুদক কর্মকর্তার মৃত্যু, ২ পুলিশ প্রত্যাহার

পুরানো খবর:

চট্টগ্রামে থানা হেফাজতে সাবেক দুদক কর্মকর্তার মৃত্যু

রনি আক্তার তানিয়া নিজেকে শহীদুল্লাহর বাসার গৃহকর্মী দাবি করে ওই মামলায় অভিযোগ করেন, বেতনের বকেয়া টাকা আনতে গেলে গত ২৩ অগাস্ট রাতে তাকে শহীদুল্লাহ ও তাদের আত্মীয় কায়সার আনোয়ার তাকে মারধর করেছিলেন।

শহীদুল্লাহর মৃত্যুর পর জানা যায়, তানিয়ার করা মামলায় শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে যে সমন জারি হয়েছিল, আদালত থেকে তা পাঠানোই হয়নি। ফলে সমন জারির বিষয়টি তিনি জানতেও পারেননি এবং আদালতেও হাজির হতে পারেননি। তার অনুপস্থিতির কারণে মামলার পরের তারিখে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

আদালত থেকে সমন না পাঠানোয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ হারুন উর রশিদকে ৯ অক্টোবর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ক্যাশিয়ার পদে বদলি করা হয়।

শহীদুল্লাহর মৃত্যুর পর মামলাটির বাদী রনি আক্তার তানিয়া গত ১৬ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে সেদিন তার জবানবন্দি নেয় আদালত।

ঘটনার পর শহীদুল্লাহর ছেলে নাফিস শহীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে মামলায় আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। রাতে বাসার কাছে রাস্তা থেকে সাদা পোশাকের দুই পুলিশ সদস্য তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।”

নাফিস শহীদ সে সময় দাবি করেন, তাদের বাসায় রনি আক্তার তানিয়া নামে কোন গৃহকর্মী ছিলেন না। চাঁদা দাবি ও ভাংচুরের অভিযোগে স্থানীয় কিছু লোকের বিরুদ্ধে তার বাবা মামলা করেছিলেন। সে কারণে ‘প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে’ আসামিরা রনি আক্তার তানিয়া নামে ওই নারীকে দিয়ে ‘ভুয়া মামলা’ করিয়েছে।

সাবেক দুদক কর্মকর্তার ছেলের অভিযোগ, থানায় থাকা অবস্থায় তার বাবা অসুস্থ বোধ করলে পুলিশ বাইরে এসে কোন স্বজন আছেন কিনা জানতে চান।

“এসময় আমার চাচা থানায় প্রবেশ করে দেখেন আমার বাবা টেবিলে মাথা নিচু করে আছে। তখন তাকে ডাকাডাকি করলেও কোন সাড়ায় পাওয়া যায়নি।”

নাফিস শহীদ বলেছিলেন, তার বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তাকে থানায় নিয়ে আসা দুই পুলিশ সদস্য ইউসুফ ও সোহেল রানার সাহায্য চাওয়া হলেও তারা এড়িয়ে যান। বাধ্য হয়ে তারা নিজেরাই পরে বেসরকারি পার্ক ভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান  শহীদুল্লাহকে।

সাবেক দুদক কর্মকর্তা শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা দুই পুলিশ সদস্য এএসআই ইউসুফ আলী ও এটিএম সোহেল রানাকে গত ৫ অক্টোবর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

পুলিশ হেফাজতে শহীদুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় চান্দগাঁও থানার চার পুলিশ সদস্যসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ১৬ অক্টোবর আদালতে মামলার আবেদন করেন শহীদুল্লাহর স্ত্রী ফৌজিয়া আনোয়ার।

আদালত আবেদনটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য থানা পুলিশকে আদেশ দিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে করা এ মামলায় চান্দগাঁও থানার ওসি মো. খায়রুল ইসলাম, শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা দুই এএসআই মো. ইউসুফ, সোহেল রানা ও পরিদর্শক (তদন্ত) মনিবুল হককে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া এস এম আসাদুজ্জামান, জসীম উদ্দিন, মো. লিটন, রনি আক্তার তানিয়া ও কলি আক্তার নামে আরও পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসাদুজ্জামান, জসীম ও লিটন ‘ষড়যন্ত্র করে’ শহীদুল্লাহর জায়গা দখলের জন্য মিথ্যা মামলাটি করিয়েছেন। আর সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হারুন উর রশিদ ‘নিয়ম বর্হিভূতভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করিয়ে অস্বাভাবিক দ্রততার’ সাথে গ্রেপ্তার করে নাজেহাল ও শারিরীক এবং নির্যাতন করায় ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে।  

মামলা হওয়ার পরপরই ছুটিতে গেছেন চান্দগাঁও থানার ওসি মো. খায়রুল ইসলাম।