চট্টগ্রামে যুব ও ছাত্রদলের ৬ জন গ্রেপ্তার; সাংবাদিককে হেনস্তা পুলিশের

সাংবাদিককে হেনস্তা করায় চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ওসির অপসারণ দাবি করেছেন চট্টগ্রামের টেলিভিশন সাংবাদিকরা।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Jan 2023, 03:24 PM
Updated : 19 Jan 2023, 03:24 PM

চট্টগ্রামে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের ৬ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ওসির অপসারণ দাবি করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাকলিয়া ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মো. মুসা, চান্দগাঁও থানা যুবদলের যুগ্মআহ্বায়ক মোরশেদ কামাল, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সহিদুর আলম সহিদ, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল নেতা আব্দুস সবুর এবং ছাত্রদল কর্মী আজিজুল হাসান ও মহিবুল্লাহকে।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মো. ইদ্রিস আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দলের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজকে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতিও নেওয়া ছিল।

“জোহরের নামাজ ও দোয়া মাহফিল শেষে আমরা দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় কোতোয়ালী থানার এসআই মেহেদী হাসান আমাদের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করেন। এসময় আমাদের সঙ্গে থাকা কয়েক জনকে জোর করে আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।”

আটক কেউই গত ১৬ জানুয়ারী ‘পুলিশের ওপর হামলা’ মামলার আসামি নয় বলেও দাবি করেন ইদ্রিস আলী।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) অতুনু চক্রবর্ত্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত ১৬ জানুয়ারি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত হওয়া পাঁচ জনকে দুপুরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

এদিকে যুব ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আটকের ছবি নিতে গিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকদের পুলিশ হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

এনটিভি চট্টগ্রাম অফিসের সিনিয়র রিপোর্টার আরিছ আহমেদ শাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা নূর আহম্মদ সড়ক দিয়ে আসার পথে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে আমাদের ক্যামেরা জার্নালিস্ট গাড়ি থেকে নেমে ছবি নিতে যায়।

“ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বাধা দিলে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলি। এ সময় কোতোয়ালী থানার ওসি আমাকে দুই মিনিটের মধ্যে সরে না গেলে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে আমাদেরও গ্রেপ্তারের হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুবেল হাওলাদার এসে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।”

সাংবাদিক আরিছ আহমদ শাহর অভিযোগ ওই সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ক্যামেরার মেমোরি কার্ড খুলে নিয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর মেমোরি কার্ডটি ‘ফরমেট’ করে ফেরত দেয়।

কার্ড ফরমেট করে দেওয়ায় শেখ কামাল যুব গেমস, চমেক হাসপাতালের দুদকের অভিযানের সংবাদের যেসব ছবি ছিল সেগুলোও মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আরিছ।

এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের সহকারী কমিশনার অতুনু বলেন, “হামলায় জড়িত সন্দেহদের আটকের সময় একজন সাংবাদিক এসে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। তাকে আমরা সেখান থেকে সরে যেতে বলি। তাছাড়া আর কোন ঘটনা সেখানে ঘটেনি।”

ক্যামেরার কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশের ওই হেনস্তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারই চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে চট্টগ্রামে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ‘চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’।

সংগঠনের সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি তপন চক্রবর্ত্তী, সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট চৌধুরী ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক।

সমাবেশ থেকে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ওসি জাহেদুল কবিরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ এবং হেনস্তার ঘটনায় জড়িত অন্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক