চবিতে ফের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ, আহত ১৩

গুরুতর আহত চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Feb 2024, 05:42 PM
Updated : 16 Feb 2024, 05:42 PM

চায়ের দোকানে বসা নিয়ে বিবাদের জেরে টানা দ্বিতীয় দিনের মত সংঘর্ষে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক দুই পক্ষ। 

শুক্রবার বিকাল থেকেই বগিভিত্তিক গ্রুপ সিএফসি শাহ আমানত হলে এবং সিক্সটি নাইনের কর্মীরা শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নেয়।  

সন্ধ্যা ৬টায় পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দুই পক্ষই ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে।  

এসময় তাদের রামদা ও লাঠি নিয়ে ধাওয়াধাওয়ি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ধারাল অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান তারা। 

পরে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে হল দুটিতে তল্লাশি শুরু করে।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নুরুল আজিম সিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা হলে তল্লাশি করে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছি।" 

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় চায়ের দোকানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বগিভিত্তিক সিএফসি গ্রুপের এক কর্মীকে মারধর করেন সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা। 

এ ঘটনার জেরে সেদিন রাতেও সংঘর্ষে জড়িয়েছিল ছাত্রলীগের এই দুই পক্ষ। বারবার সংঘর্ষে জড়ানোর প্রশ্নে তারা একে অপরকে দোষারোপ করছে।  

সিএফসির নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির সহসভাপতি মির্জা খবির সাদাফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতকালকের সংঘর্ষের পর আজকে আবার সিক্সটি নাইনের কর্মীরা আমাদের এক কর্মীকে ধাওয়া করে।" 

সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ও ছাত্রলীগের আগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সাইদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে হঠাৎ করেই তারা শাহজালাল হলের দিকে ঢিল ছুঁড়তে শুরু করে।  

“ছাত্রলীগের কমিটি না থাকার ফলে জবাবদিহিতা নেই, বিধায় এই সংঘর্ষগুলো হচ্ছে। আর প্রশাসনও ঝামেলাগুলো ছোটো থাকতে সমাধান করতে না পারায় এরকমটা হচ্ছে।" 

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনো পর্যন্ত ১৩ জন আমাদের কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করায় তাদের অবস্থা বেশ গুরুতর। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।" 

তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম, পরিচয় পাওয়া যায়নি। 

সিএফসির কর্মীরা শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী এবং সিক্সটি নাইনের কর্মীরা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। 

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক গ্রুপ বিজয়ের সঙ্গে সিক্সটি নাইনের কর্মীদের সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়েছিল। সবমিলিয়ে দুদিনে তিন সংঘর্ষে বগিভিত্তিক তিন পক্ষের জনা ত্রিশেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।