১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চুয়েট: আগের উপাচার্যকে পুনবর্হালের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

“শুক্রবার থেকে পূজার ছুটি শুরু হচ্ছে। আশা করি এরমধ্যেই সরকার উদ্যোগ নেবে,” বলেছে শিক্ষক সমিতি।

চুয়েট: আগের উপাচার্যকে পুনবর্হালের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন। এ ভবনেই উপাচার্যের কার্যালয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Oct 2026, 10:03 PM

Updated : 14 Oct 2026, 10:10 PM

আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে নিজেদের অবস্থানেই অনড় আছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সহায়তায় ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতালে যাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বুধবার জানিয়েছেন তিনি আবার ক্যাম্পাসে ফিরতে চান।

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, উপাচার্য আবার ফেরার চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। আগের উপাচার্যকে ফেরাতে তাদের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি চলবে।

অন্যদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও জানিয়েছে, তাদের কর্মবিরতি এবং সর্বাত্মক অসহযোগ চলমান থাকবে।

শুক্রবার থেকে চুয়েটে পূজার ছুটি শুরু হচ্ছে। চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার বিষয়ে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আমাদের কর্মবিরতি ও অসহযোগ চলমান আছে।

“শুক্রবার থেকে পূজার ছুটি শুরু হচ্ছে। আশা করি এরমধ্যেই সরকার উদ্যোগ নেবে এবং আমাদের দাবির সুরাহা হয়ে যাবে।”

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের আবার ক্যাম্পাসে আসার বক্তব্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা উনার বক্তব্য। এ বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।”

আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী এক শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের শাটডাউন চালু থাকবে। আমাদের দাবি একটাই-অধ্যাপক সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল। সরকার সুদৃষ্টি দিয়ে দাবি মেনে নেবে আশা করি। আমরা পূজার ছুটির পর ক্লাসে ফিরতে চাই।”

উপাচার্যের ফেরার ঘোষণা বিষয়ে জানতে তিনি বলেন, “সেরকম কোনো পদক্ষেপ উনি নিলে, আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

Image

প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের সহায়তায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস ছাড়েন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

যা বলছেন শিক্ষার্থীরা

চুয়েটের চলমান সংকট এবং উপাচার্যের ক্যাম্পাস ত্যাগের শর্ত ও পরবর্তী বক্তব্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান জানিয়ে আন্দোলনকারীরা সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

‘চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে’ এই বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা মনে করি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের সমাধান হতে হবে সত্য, জবাবদিহি ও অংশীজনের আস্থার ভিত্তিতে; পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে সেই আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয়।

“প্রায় ৩০ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানকালে মানবিক সহায়তার বিষয়ে আমাদের বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অবস্থানরত ব্যক্তিদের খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে, জরুরি ওষুধের প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুসারে, উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন বিবরণ প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রত্যক্ষ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ের আহ্বান জানান তারা।

উপাচার্যের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানার পর ‘মানবিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার’ দিয়েছেন দাবি করে বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, “জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে তাকে এবং তার সঙ্গে অবস্থানরত অন্যদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা যায়।

“মানবিক সহায়তা প্রদানের এই সিদ্ধান্তকে আন্দোলনের দাবি থেকে সরে আসা বা তার নেতৃত্বের প্রতি সম্মতি হিসেবে ব্যাখ্যা করার কোনো অবকাশ নেই।”

বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, “উপাচার্যের ক্যম্পাস ছাড়ার আগে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে আমরা ডিসি ও এসপি মহোদয়কে এটা স্পষ্টভাবে জানাই, তিনি ক্যাম্পাসে আর আসবেন না, এই শর্তেই আমরা তাকে ছাড়ব। সেসময় তারা ঠিক আছে বলে ভেতরে যান।

“ভেতর থেকে যখন তারা বেরিয়ে আসেন, তখন আমরা তিনবার মিডিয়ার সামনে স্পষ্টভাবে বলি, আমরা তাকে এই শর্তে ছাড়ছি যেন তিনি আর ক্যাম্পাসে না আসেন। এসময় তিনি কোনো বিরোধিতা করেননি। এমনকি তার সাথে যারা ছিলেন তারাও বিরোধিতা করেননি। এ কারণে নিশ্চিত হয়ে আমরা তাকে প্রস্থানের সুযোগ দিই।”

শিক্ষার্থীরা বলেন, “আর উনি (উপাচার্য) যে বলছেন, উনি আবার আসবেন, উনি আবার আসার চেষ্টা করলে আমাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

“আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাই, উপস্থিত গণমাধ্যমের ধারণকৃত ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ্যে এনে এই মতবিরোধের সত্যতা নিরূপণ করা হোক।”

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গ্রহণ করছেন না এবং তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “ক্যাম্পাসে তার প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টা নতুন করে সংকট ও প্রতিবাদের জন্ম দিতে পারে; এর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিবেচনায় নিতে হবে।

“আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাক। কোনো অবস্থাতেই সংঘাত বা কারও চিকিৎসা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া কাম্য নয়।”

তাদের একমাত্র দাবি অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহাল এবং এ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঘোষিত ‘শাটডাউন’ ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে, বলেন শিক্ষার্থীরা।

আগের খবর:

৩০ ঘণ্টা পর ডিসি-এসপির সঙ্গে ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েটের অবরুদ্ধ ভিসি

২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি

চুয়েট: ‘পদত্যাগ করলে খুলবে তালা’, অবরুদ্ধ উপাচার্যকে আল্টিমেটাম

চুয়েট: নতুন উপাচার্যকে ‘অসহযোগিতার’ ঘোষণা শিক্ষক-কর্মচারীদের

সায়েমের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক, সকালেও ফোন করেছি: চুয়েটের নতুন ভিসি

চুয়েটে নতুন উপাচার্যকে কার্যালয়ে রেখে ভবনে শিক্ষার্থীদের তালা

যোগদানের ১৭ দিন পর কার্যালয়ে চুয়েট ভিসি, তালা খুলল কে?