সন্দ্বীপে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন
তাদের মধ্যে দুইজন পলাতক আছে।
আট বছর আগে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে আদালত।
সোমবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ জয়নাল আবেদিন এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন- আকবর হোসেন ওরফে হাতকাটা আকবর ওরফে ফকির আকবর, মো. মোশাররফ হোসেন ওরফে লিটন, নুরুল আবছার স্বপন, আবুল বশর ও মো. সুমন। এদের মধ্যে আবুল বশর ও সুমন পলাতক।
ট্রাইব্যুনালের পিপি জিকো বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছেন আদালত।”
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সন্দ্বীপের রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বইখাতা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। স্কুল ছুটির পরও মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে থাকে। পরদিন বেলা ১২টার সময় নাদিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি জমি হাঁটু পানির মধ্যে পড়ে থাকা অবস্থায় তার লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।
পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। নাদিয়ার মুখে ও চোখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহত নাদিয়ার মা পারভিন বেগম মামলা করেন।
এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ২১ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়।
আসামিদের মধ্যে মোশাররফ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। মামলায় মোট ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার এ রায় দেওয়া হল।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পিপিকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট শিমুল বড়ুয়া, ফারজানা ফেরদৌস, সুস্মিতা বড়ুয়া ও চৈতি বড়ুয়া।
